Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৫ মে, ২০১৮ ২১:৫১
রমজানের ১২ ফজিলত
রমজানের  ১২  ফজিলত

রমজান মুত্তাকি হওয়ার মাস। কুতিবা আলাইকুমুস সিয়ামু কামা কুতিবা আলাল্লাজিনা মিন কাবলিকুম লাআল্লাকুম তাত্তাকুন। তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন রোজা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার। (সূরা বাকারা-১৮৩)

 

আলোচ্য আয়াতে সর্বশক্তিমান আল্লাহ রমজানের উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন। মাসব্যাপী রোজা পালনের মাধ্যমে মুত্তাকি হওয়ার প্রতি আহ্বান করেছেন। কেননা একমাত্র তাকওয়া বা আল্লাহভীতিই একজন মানুষকে প্রকৃত সিরাতে মুসতাকিম বা সরল সঠিক পুণ্যময় পথে পরিচালিত করতে পারে। আল্লাহভীতিই অনুপ্রাণিত করতে পারে একজন মানুষকে যাবতীয় অন্যায়-অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত করে সুন্দর ও সুখময় পথে পরিচালিত করতে।

রসুল (সা.) এক শাবান মাসের শেষ দিনে সাহাবায়ে কেরামকে লক্ষ্য করে মাহে রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে অবহিত করতে গিয়ে ইরশাদ করেন, ‘হে মানবগণ! তোমাদের প্রতি একটি মহান মোবারক মাস ছায়া ফেলেছে। এ মাসে সহস্র মাস অপেক্ষা উত্তম একটি রজনী আছে, যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে মূলত সব কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো। যে ব্যক্তি এই মাসে কোনো নেক আমল দ্বারা আল্লাহপাকের সান্নিধ্য কামনা করে সে যেন অন্য সময়ে কোনো ফরজ আদায় করার মতো কাজ করল। আর এ মাসে যে ব্যক্তি কোনো ফরজ আদায় করে সে যেন অন্য সময়ের ৭০টি ফরজ আদায়ের নেকি লাভ করার সমতুল্য কাজ করল। এটি সংযমের মাস আর সংযমের ফল হচ্ছে জান্নাত।’ (বায়হাকি-৩৯, ইবনু খোজাইমা-১৮৮৭)।

নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন— ‘এ মাসে বেহেশতের দরজাগুলো খোলা থাকে আর দোজখের দরজাগুলো বন্ধ থাকে এবং শয়তানকে শিকল পরিয়ে রাখা হয়।’ (বোখারি-১৭৬৬, নাসায়ি-২০৭৯, ২০৮১)।

নবী করিম (সা.) আরও ইরশাদ করেন— ‘এখানে হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত রয়েছে। যে ব্যক্তি এর মহিমাকে অস্বীকার করল, মূলত সে বঞ্চিত!’ (ইবনু মাজাহ-১৬৪৪)

রোজা জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢাল

রোজা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, ‘রোজা হলো ঢাল ও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার মজবুত দুর্গ।’ (মুসনাদে আহমদ ৯২১৪)

রোজা হলো জান্নাত লাভের পথ

হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ (সা.)-কে বললাম, হে আল্লাহর রসুল! আমাকে এমন একটি কাজের নির্দেশ দিন, যার দ্বারা আমি লাভবান হতে পারি। তিনি বললেন, ‘তুমি রোজা রাখ। কেননা, এর সমকক্ষ আর কোনো ইবাদত নেই।’ (নাসাঈ শরিফ ২২২০)

রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের চেয়েও উত্তম

নবী করীম (সা.) বলেন, ‘যার হাতে মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, সে সত্তার শপথ, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহ তা’আলার কাছে মেশকের ঘ্রাণ হতেও প্রিয়।’ (বোখারি শরিফ ১৭৯০)

রোজা কেয়ামতের দিন সুপারিশ করবে

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেছেন, ‘রোজা ও কোরআন কেয়ামতের দিন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে, রোজা বলবে হে প্রতিপালক! আমি দিনের বেলা তাকে পানাহার ও সহবাস থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল করো। কোরআন বলবে, হে প্রতিপালক! আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি, তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল করো। তিনি বলেন, অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে।’ (মুসনাদে আহমদ ৬৬২৬)

রোজা গোনাহ মাফের উপায় ও গোনাহের কাফফারা

হাদিসে এসেছে, ‘মানুষ যখন পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশী ও ধন-সম্পদের কারণে গোনাহ করে ফেলে, তখন নামাজ, রোজা, সদকা সে গোনাহগুলোকে মিটিয়ে দেয়।’ (বোখারি শরিফ ১৭৯৫)

♦ তাকওয়া বা আল্লাহ-ভীতি অর্জন করা যায় রোজা রাখার মাধ্যমে।

♦ শয়তান ও কুপ্রবৃত্তির ক্ষমতা দুর্বল হয় রোজা রাখলে।

♦ রোজা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ ও তাঁর দাসত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যম।

♦ ইমানকে দৃঢ় করা, মোরাকাবা ও আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করার সুন্দর পন্থা।

♦ ধৈর্য, সবর ও দৃঢ় সংকল্প সৃষ্টির মাধ্যম।

♦ নিজেকে আখেরাতমুখী করার অনুশীলন।

♦ রোজা আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি শুকরিয়া এবং সৃষ্টিকর্তার সৃষ্ট জীবের সেবা করার দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।

মাহে রমজানে তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের সফল মুমিন হওয়ার তৌফিক দিন। আমিন।

লেখক— মুফতি তারিকুল ইসলাম আল আযহারী

মুফাসসিরে কোরআন।

ওয়েব : www.muftitariqulislam.com

এই পাতার আরো খবর
সর্বাধিক পঠিত
up-arrow