Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১০ জুলাই, ২০১৮ ২০:৫৪ অনলাইন ভার্সন
রাবিতে সাংবাদিক হত্যা চেষ্টার মামলার আসামিদের শাস্তি দাবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
রাবিতে সাংবাদিক হত্যা চেষ্টার মামলার আসামিদের শাস্তি দাবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাংবাদিক আরাফাত রাহমান হত্যা চেষ্টার মামলার আসামী ছাত্রলীগ নেতাদের শাস্তির দাবিতে মাননবন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা। ঘটনার এক বছরেও মামলার দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি না হওয়ায় মঙ্গলবার দুপুর ২টায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। 

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শিহাবুল ইসলাম বলেন, ‘আরাফাতের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলেও এখনও কোন বিচার পাইনি। সে সময় আরাফাতের ওপর যেসব ছাত্রলীগ নেতারা হামলা চালিয়েছিল তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। এমনকি তদন্ত প্রতিবেদন পর্যন্ত আদালতে দাখিল করেনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলেও প্রশাসন তাদের ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করছে।’ 

সংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ‘শুধু আরাফাতের ওপর নয় সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসগুলোতে সাংবাদিকদের উপর ছাত্রলীগ বেশ কিছু হামলা চালায়। বিশেষ করে গত কয়েকদিনে জগন্নাথ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে। সারাদেশে ধারাবাহিকভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েই চলেছে। কিন্তু কোনো ঘটনারই বিচার হচ্ছে না।’ 

রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি রবিউল ইসলাম তুষার বলেন, ‘এক বছর আগে আরাফাতের উপর যে ছাত্রলীগ নেতারা হামলা করেছিল তাদের শাস্তি না হওয়ায় সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর ওই ছাত্রলীগ নেতারা আবার হামলা করেছে। এভাবে বার বার হামলার ঘটনা ঘটালেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা দুঃখজনক।’

রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আলী ইউনুস হৃদয়ের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মিঠু, প্রচার সম্পাদক আহমেদ ফরিদ, রাবি সাংবাদিক সমিতির সহ-সভাপতি রাশেদ রিন্টু, রাবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মানিক রায়হান বাপ্পি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক সোহাগ।

গত বছরের ১০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দেশ ট্রাভেলসের বাস ভাঙচুরের ছবি তোলার সময় আরাফাতের ওপর হামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ওই দিনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। এছাড়া হামলায় অংশ নেয়া ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে নগরীর মতিহার থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়।

দায়েরকৃত ওই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের চার নেতার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০ জনের নামে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। ছাত্রলীগ নেতারা হলেন সহ-সভাপতি আহমেদ সজীব, আইন বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কানন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান লাবন। 

এছাড়া হামলার ওই দিন রাতেই হামলার ঘটনায় সাইফুল ইসলাম বিজয় ও মাহমুদুর রহমান কাননকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। পরে ওই বছরের নভেম্বর মাসে ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কাননের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়ের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় ছাত্রলীগ।

বিডি-প্রতিদিন/১০ জুলাই, ২০১৮/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow