Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল, ২০১৮ ১৮:২১ অনলাইন ভার্সন
পাহাড়ে সাংগ্রাই উৎসব শুরু
ফাতেমা জান্নাত মুমু,রাঙামাটি:
পাহাড়ে সাংগ্রাই উৎসব শুরু

শেষ হয়েছে চাকমা, ত্রিপুরাদের বৈসাবি উৎসব। তবে শেষ হয়নি উৎসবের আমেজ। আবারও শুরু হয়েছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মধ্যে মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই অর্থাৎ জলোৎসব। পাহাড়ে বইছে এ উৎসবের জোয়ার। তাই পার্বত্যাঞ্চলের মারমা পল্লীগুলোতে এখন সাজ সাজ রব। মারমা সম্প্রদায়ের নৃ-গোষ্ঠীরা বর্ষবরণের এই উৎসবকে পালন করেন সাংগ্রাই নামে। এ উৎসব চলে ৩ দিন ধরে। এছাড়া এদিনই তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন স্থানে শুরু হচ্ছে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জলোৎস। 

১৮ এপ্রিল রাঙামাটি শহরে সার্বজনীন জলোৎসবের আয়োজন করেছে, মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসস)। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ উৎসবের মধ্যেদিয়ে শেষ হবে পাহাড়ের বৈসাবি।

আজ দুপুরে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় চিংম্রং এলাকায় সাংগ্রাই উৎযাপন কমিটির উদ্যোগে আয়োজনে জলোৎসব উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য মংনুচিং মারমা। এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য থোয়াইচিংমং মারমা। এছাড়া উৎসবে যোগ দেন- কাপ্তাই উপজেলা ১৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল শহীদুল ইসলাম,রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় সাংগ্রাই উৎযাপন কমিটির আহবায়ক খ্যাইসা অং মারমা, কাপ্তাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান  অংসুইছাইন চৌধুরী প্রমুখ। 

মারমা সম্প্রদায় ছাড়াও উৎসবে যোগ দেয় চাকমা, ত্রিপুরা, খিয়াং, গুর্খা, অহমিয়া, তঞ্চঙ্গ্যা, উসুই, লুসাই, চাক, রাখাইন, খুমি, বমসহ বাঙালি জনগোষ্ঠীর হাজার হাজার নারী-পুরুষ। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের মানুষ সমবেত হয় উৎসবে। পার্বত্য তিন জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পদচারণায় উৎসবের নগরীতে পরিণত হয় পুরো কাপ্তাই উপজেলা। সকাল থেকে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানসহ চট্টগ্রাম থেকেও মানুষের ঢল নামতে শুরু করে জলোৎসবস্থলে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসমুদ্রে পরিণত হয় চন্দ্রঘোনা চিত্মরম এলাকা। পাহাড়ি-বাঙালিসহ সব ধর্ম, বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সম্প্রীতির মিলনমেলায় জমে উঠে সাংগ্রাইং উৎসব।

মারমা সম্প্রদায়ের মতে, মারমারা সেই আদিকাল থেকে অন্যান্য সম্প্রদায় থেকে ভিন্ন আঙ্গিকে পুরনো বছরের বিদায় এবং নতুন বছরের আগমনকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করে আসছে, যা মারমা ভাষায় সাংগ্রাই নামে পরিচিত। মূলত 'সাক্রাই' (সাল) শব্দ থেকেই 'সাংগ্রাই' শব্দ এসেছে বলে ধারণা করা হয়। যা বাংলাই 'সংক্রান্তি’ পরিচিত। মারমা সম্প্রদায়ের 'সাংগ্রাই জ্যা'র (মারমা বর্ষপঞ্জি) গঠনের মাধ্যমে সাংগ্রাইয়ের দিন ঠিক করা হয়ে থাকে। মাইংমা ১৩৫৯ খ্রিস্টাব্দের আগে থেকেই এ 'সাক্রাই' বা সাল গণনা করা হয়, যা 'জ্যা সাক্রই' নামে পরিচিত। সাংগ্রাইয়ের উৎপত্তি নিয়ে মারমা ভাষায় বিভিন্ন কল্পকাহিনী বিদ্যমান রয়েছে, যা এখনো মারমা বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখে মুখে প্রচলিত। কবে থেকে মারমাদের সাংগ্রাই উদ্যাপন শুরু হয় এ ব্যাপারে সঠিক কোনো ইতিহাস এখনো পাওয়া যায়নি।
সাধারণত সাংগ্রাই উৎসবটি মারমারা তিন দিনব্যাপী উদ্যাপন করে। সাংগ্রাইয়ের প্রথম দিনকে মারমা ভাষায় 'সাংগ্রাই আক্যা' বা 'পাইং দোয়াক' (সাংগ্রাইয়ের প্রথম দিন পুষ্প আহরণ)। দ্বিতীয় দিনকে 'সাংগ্রাই বাক্' (সাংগ্রাইয়ের দিন) এবং তৃতীয় দিনকে 'সাংগ্রাই আপ্যাইং' (সাংগ্রাই বিদায়) নামে পরিচিত। এই তিন দিন মারমারা নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, খেলাধুলা, খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করে।

প্রসঙ্গত, পার্বত্যাঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলো বৈসাবিকে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে পালন করে। যেমন-চাকমারা-বিজু, ত্রিপুরা-বৈসুক, তঞ্চঙ্গ্যারা-বিষু, অহমিয়ারা-বিহু, মারমারা-সাংগ্রাইং নামে পালন করে থাকে। মারমা তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে জল ছিটিয়ে পুরনো বছরের সব গ্লানি, দুঃখ, বেদনা ও অপশক্তিকে ধুয়ে মুছে দূর করে নতুন জীবনযাত্রা শুরু করে।

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow