Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২০ মার্চ, ২০১৮ ১০:৫৪ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২০ মার্চ, ২০১৮ ১২:৫৪
রাজশাহীতে আখতারা বেগমের জানাজায় মানুষের ঢল
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহীতে আখতারা বেগমের জানাজায় মানুষের ঢল

নেপাল ট্র্যাজেডিতে নিহত রাজশাহীর মহানগরীর উপশহর এলাকার আখতারা বেগমের মরদেহ মঙ্গলবার সকালে দাফন করা হয়েছে। মহানগরীর গোরহাঙ্গা গোরস্থানে মসজিদের পাশে চির নিদ্রায় শায়িত হন আখতারা বেগম।

এর আগে গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঘুরে সকাল ৯টা ২০মিনিটে তার মরদেহ উপশহর ক্রীড়া সংঘের মােঠ পৌঁছায়। এখানে অনুষ্ঠিত তার শেষ জানাজার নামাজে মানুষের ঢল নামে। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় শোকাবহ হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ। স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। সবাই কফিন ছুঁয়ে শেষ বিদায় জানান তাকে। এর পর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজার নামাজে রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকুসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে নেপাল ট্র্যাজেডিতে নিহতদের মধ্যে রাজশাহীর ছয়জনের মরদেহ সোমবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছায়। বাকি একজনের (নজরুল ইসলাম) মরদেহ শনাক্ত নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
তার মরদেহ পরে আসার কথা রয়েছে। নিহত ২৩ জনের মরদেহের মধ্যে তাই রাজশাহীর পাঁচজনের  মরদেহ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কার্গো প্লেনে নেপাল থেকে গতকাল সোমবার দুপুরে দেশে ফিরে।

এর মধ্যে কেবল আখতারা বেগমের মরদেহ দাফনের জন্য রাজশাহী নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া বাকি চার জনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ ঢাকার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়। একজনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়।

সোমবার দুপুরে নেপাল থেকে দেশে আসা ২৩ মরদেহের মধ্যে রাজশাহী নওদাপাড়া এলাকায় থাকা বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত নায়েক সুবেদার (সিগনাল) গোলাম কিবরিয়ার নিউইয়র্ক প্রবাসী মেয়ে বিলকিস আরা মিতু ( BC0049030), রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল এলাকার বেগম হুরুন নাহার ওরফে বিলকিস বানু (BL0077261), তার স্বামী হাসান ইমাম ( BL0077270), উপশহর এলাকার আখতারা বেগম ( BQ0966082)  রুয়েট শিক্ষক এমরানা কবির হাসির স্বামী সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চল বাগুটিয়া গ্রামের রকিবুল হাসান ( BL0245028)।

এছাড়া আখতারা বেগমের স্বামী নজরুল ইসলামের মরদেহ শনাক্ত নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ জন্য তার মরদেহ পরে আসার কথা রয়েছে।

আর প্লেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রুয়েট শিক্ষক এমরানা কবির হাসিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আখতারা বেগমের মেয়ে নাজনিন আকতার কাঁকনের স্বামী অ্যাডভোকেট ইমরান আলী বলেন, শাশুড়ির মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে প্রথমে গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীর উপশহর এলাকায় নিয়ে আসা হয়।  উপশহর ক্রীড়া সংঘের মােঠ জানাজার নামাজ শেষে গোরহাঙ্গা গোরস্থানে দাফন করা হয়। কিন্তু তার শ্বশুড় নজরুল ইসলামের মরদেহ শনাক্ত হাওয়ার পরও প্রথম দফায় মরদেহ পাঠায়নি নেপাল। কবে পাঠাবে তাও নিশ্চিত নন।

অ্যাডভোকেট ইমরান আলী বলেন, তার প্যান্টের সেলাইয়ে রাজশাহীর নিউমার্কেট এলাকার নিউ নেশন টেইলার্সের ট্যাগ রয়েছে। তা দেখে মরদেহ শনাক্তও করা হয়েছে। কিন্তু নিউ নেশন টেইলার্সের ট্যাগে থাকা ফোন নম্বরটি সম্ভবত বদল হয়ে গেছে। আর বর্তমানে যারা ব্যবহার করছেন নেপাল থেকে ফোন দেওয়ার পর তারা সেভাবে পরিচয় শনাক্তে সাড়া দেননি। কেবলমাত্র এই কারণে তার শ্বশুড়ের মরদেহ পাঠায়নি নেপাল।

এই ব্যাপারে সহযোগিতা কামনা করে আখতারা বেগমের জামাতা ইমরান আলী বলেন, একই সঙ্গে দুইজন বেড়াতে গিয়েছিলেন নেপাল। তাদের মধ্যে একজনের মরদেহ এসেছে। অন্যজনের কবে আসবে নিশ্চয়তা মিলছেনা। কিন্তু একই সঙ্গে মরদেহ পাওয়া গেলে তাদের নিয়ে আসার এবং দাফন করার বিষয়ে পরিবারের অনেক সুবিধা হত। বর্তমানে শ্বশুড়ের মরদেহ পাওয়া নিয়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বিধায় তার মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য রাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেন প্লেন দুর্ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলাম ও আখতারা বেগমের জামাতা ইমরান আলী।

গত ১২ মার্চ ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণকালে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। এতে নিহত হন ৪৯ জন। যাদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। ময়না-তদন্ত সাপেক্ষে এদের মধ্যে ২৩ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। অবশিষ্ট তিন মরদেহ শনাক্ত করারও প্রক্রিয়া চলছে।

বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow