Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১০ জুন, ২০১৮ ২৩:২১
১০ মৃত ব্যক্তির ভোট প্রদান!
খুলনা সিটি নির্বাচন
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

খুলনা সিটি করপোরেশনের গেল নির্বাচনে ১০ জন মৃত মহিলা ভোটার ভোট দিয়েছেন! ঘটনাটি ঘটেছে নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ৭৩ নম্বর নয়াবাটি হাজী শরীয়ত উল্লাহ বিদ্যাপীঠ ভোট কেন্দ্রে। এর মধ্যে ৭ জনের ‘মৃত্যু সনদ’ নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছেন নির্বাচনে পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী মো. ফারুক হিল্টন। দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ায় সাবেক এই কাউন্সিলর এখনো ওয়ার্ডের দায়িত্বে রয়েছেন। গতকাল নির্বাচন কমিশনে দেওয়া অভিযোগপত্রে মো. ফারুক হিল্টন বলেন, ভোটের দিন তিনজন স্কুলশিক্ষক অন্য কেন্দ্রে নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া মহিলা ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন সালমা খাতুন ওই সময় আফ্রিকায় ও আরও দুইজন বিদেশে ছিলেন কিন্তু তাদের ভোটও সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রের সঙ্গে তিন স্কুলশিক্ষকের নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের কাগজপত্রও জমা দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, নয়াবাটি হাজী শরীয়ত উল্লাহ বিদ্যাপীঠ কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ১৮১৭ জন। এর মধ্যে ১৮১৩ জন ভোটারের ভোট সংগ্রহ করা হয়। এ ব্যাপারে মো. ফারুক হিল্টন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘চরম অনিয়মের মধ্য দিয়ে মৃত ও অনুপস্থিত ব্যক্তিদের ভোটগ্রহণ দেখানো হয়েছে যা ভোট প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। পাশাপাশি ওয়ার্ডের নয়াবাটি জনকল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মওলানা ভাসানী বিদ্যাপীঠ কেন্দ্রে অস্বাভাবিক ভোটগ্রহণ দেখানো হয়েছে। আমরা এই তিন কেন্দ্রের পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছি।’ অভিযোগ রয়েছে, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গড়ে ৬২ শতাংশ হারে ভোট সংগৃহীত হলেও ওই কেন্দ্র তিনটিতে ৯৯.৯৮, ৯৭.৬০ শতাংশ ও ৮৭.৫৭ শতাংশ ভোটগ্রহণ দেখানো হয়েছে। খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী জানান, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েকজন মৃত ভোটারের ভোটগ্রহণের অভিযোগের একটি অনুলিপি আমরা পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খুদা বলেছেন, মৃত ভোটারদের ভোট দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে তা হবে সত্যিই ন্যক্কারজনক। এটা নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থার জায়গাটা নষ্ট করবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow