Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৩ মার্চ, ২০১৮ ১৭:৪৫ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৩ মার্চ, ২০১৮ ১৮:০০
শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষকদের চড়ুইভাতি!
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষকদের চড়ুইভাতি!

ঝরে পড়া রোধ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার মূল স্রোতে শামিল করতে যেখানে সরকার নিয়েছে নানা উদ্যোগ সেখানে ক্লাস বাদ দিয়ে চড়ুইভাতি নিয়ে দিন কাটালেন ময়মনসিংহের ত্রিশালের ২২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। শ্রেণি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে মঙ্গলবার শিক্ষকরা যান ড্রিম ভিলেজ পার্কে ‘চড়ুইভাতি’ করতে। 

শুধু শিক্ষকরাই নয় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা। এমনকি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়েও দিনভর ঝুলেছে তালা।

জানা যায়, উপজেলার বাগান ক্লাস্টারের ২২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিনা নোটিশে বন্ধ রেখে মঙ্গলবার একই উপজেলার কাঠাঁল ইউনিয়নের ড্রিম ভিলেজ পার্কে যান সকল শিক্ষকরা। বন্ধ রাখা বিদ্যালয়গুলো হলো- কোনাবাড়ী, কোনাবাড়ী চরপাড়া, কোনাবাড়ী জিসি, বাগান, বাগান নুরজাহান, বাগান আজিজিয়া, আউলটিয়া, আউলটিয়া কামাল উদ্দিন, পাঁচপাড়া, চক পাঁচপাড়া, পাঁচপাড়া সরকারবাড়ী, অলহরী ইজারাবন্দ, চিকনা, চিকনা তয়কারপাড়, আনিস মান্নান, মঠবাড়ী উত্তর, অলহরী খারহড়, অলহরী দূর্গাপুর, অলহরী জয়দা, সতেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও ত্রিশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। 

শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, মাসে একদিন একটি ইউনিয়নের ক্লাস্টার মিটিং করতে পারে। তবে উপজেলার সকল ইউনিয়নের স্কুলগুলোকে নিয়ে এটা করতে পারেনা। তাছাড়া ব্যানারেও কোনো অবস্থাতেই চড়ুইভাতি লিখতে পারেনা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ, সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাহেদা পারভিন মৌ।   

এ ব্যাপারে বাগান ক্লাস্টারের উপজেলা প্রাথমিক সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাহেদা পারভিন মৌ জানান, শিক্ষকদের সংরক্ষিত ছুটি থেকেই আমাদের এই আয়োজন। তবে শিক্ষার্থীদের সংরক্ষিত ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। 

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, ক্লাষ্টারের বার্ষিক ক্রীড়ার পরের দিন সংরক্ষিত ছুটি নেয়া হয়েছিল। আজকের স্কুল বন্ধ কোনো সংরক্ষিত ছুটির মধ্যে আসেনা। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবাইকে একত্রিত করার জন্যই আমাদের এই অয়োজন ছিল। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতেই সেখানে যাওয়া হয়েছে। এটা অপরাধের কিছু না। সারাদেশেই এমনটি হচ্ছে।’ 

 

বিডি প্রতিদিন/১৩ মার্চ ২০১৮/হিমেল

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow