Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৪ জুন, ২০১৮ ১৭:৪১ অনলাইন ভার্সন
ধলাই শান্ত হলেও উত্তাল মনু নদ, খাদ্য সংকটে পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
ধলাই শান্ত হলেও উত্তাল মনু নদ, খাদ্য সংকটে পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

তিন দিনের টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ী ঢলে মনু নদী ও ধলাই নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এতে করে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাধ ভেঙে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ১২টি স্থান ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে প্রায় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। ডুবে গেছে আউস ধান, সবজিসহ গ্রামীণ সড়ক। 

জানা যায়, আকস্মিক বন্যায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।২দিন পার হয়ে গেলেও শুধু কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশসনের পক্ষে থেকে ত্রাণ তৎপরতা গতকাল বুধবার (১৩জুন) থেকে চলমান থাকলেও অন্য দুই উপজেলার পানিবন্ধিরা এখনো কোন ত্রাণ পাননি । যার ফলে বন্যা দুর্গত এলাকায় খাদ্য সংকটে রয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়,  আজ বৃহস্পিতিবার দুপুর পর্যন্ত মনু নদের পানি বিপদসীমার ১২০ সেন্টিমিটার উপরে রয়েছে। তবে ধলাই নদের পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৩ জুন) বন্যাকবলিত মানুষের জন্য প্রাথমিক অবস্থায় ১১৫ টন চাল ও দেড় লাখ টাকা বরাদ্ধ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এর মধ্যে কমলগঞ্জে ৪৫ টন চাল ও ৫০ হাজার টাকা, কুলাউড়াতে ৫০ টন চাল ও ৫০ হাজার টাকা, রাজনগরে ১৫ টন চাল ও ২০ হাজার টাকা এবং শ্রীমঙ্গলে ৫ টন চাল ও ১০ হাজার টাকা।

এখন পর্যন্ত বন্যায় প্লাবিত হয়েছে কুলাউড়া উপজেলার ৬০টি রাজনগর উপজেলার ৫০ কমলগঞ্জ উপজেলার ৩০টি গ্রাম। এসকল এলাকায় প্লাবিত হওয়ার পর আশপাশে পানি ছড়াচ্ছে ক্রমাগত।

গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের ত্রাণ দেয়া হবে বলা হচ্ছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কেউ তাদের দেখতে আসেনি। 

কামারচাক ইউনিয়নের মরিয়ম বেগম বলেন, আজ দু'দিন হল আমরা পানিবন্ধি। পরিবারের ৭ জন সদস্য গরু-বাছুর নিয়ে রাস্তায় আছি। রোজার মাসে কোন ধরনের খাবার নেই আমাদের কাছে। এখনো সরকারি কোন ত্রাণ হাতে পাইনি।

কুলাউড়া, রাজনগর, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ হলে তারা জানান, শুকনো খাবার ইতিমধ্যে এলাকাগুলোতে পাঠানো হয়েছে। তবে বৃষ্টির জন্য সব জায়গায় বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। 

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) তোফায়েল ইসলাম বলেন, গতকাল বুধবার (১৩জুন) ১১৫ টন চাল ও নগদ দেড় লক্ষ টাকা প্রাথমিকভাবে যে ত্রাণ বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। আজকের বিকেলের মধ্যে সে ত্রাণ এলাকাগুলোতে পৌঁছে যাবে।

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow