Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ২৩:২৫
সিরিয়ায় ত্রিদেশীয় হামলা
কাণ্ডজ্ঞানহীনতায় লাগাম টানুন

সিরিয়াকে কেন্দ্র করে বৃহৎ শক্তিগুলোর দ্বন্দ্ব চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের বিমান হামলার পর। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর সিরিয়া সংকট নিয়ে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ পশ্চিমা বিশ্ব এবং অন্যদিকে রাশিয়া, চীন, ইরানসহ প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মুখোমুখি অবস্থানকে সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ সংকটকে কেন্দ্র করে তৃতীয় মহাযুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে এমন আশঙ্কাও জোরদার হয়ে উঠেছে। শক্তির ভারসাম্যের দিক থেকে একক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোট এগিয়ে থাকলেও দুই পক্ষের সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে তাতে শক্তিশালী পক্ষেরও উল্লসিত হওয়ার সুযোগ থাকবে না। কারণ দুই পক্ষের হাতে যে পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে তার একটি ক্ষুদ্র অংশ ব্যবহার করলেও বিশ্বজুড়ে বিপর্যয় শুরু হবে। সেটি হবে এমন এক যুদ্ধ যে যুদ্ধে কোনো পক্ষই জয়ী হবে না। যে কারণে সিরিয়ায় তিন বৃহৎ শক্তির একযোগে বিমান হামলার পরও রাশিয়া, চীন, ইরান জোটের পক্ষ থেকে দৃশ্যত নিন্দাবাদই শুধু ধ্বনিত হয়েছে। পাল্টা হামলা চালিয়ে আরও সর্বনাশের সূচনা থেকে রুশ জোট সচেতনভাবে বিরত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোটের অভিযোগ, সিরিয়ার সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের যে অপরাধ করেছে তার বদলা হিসেবে তারা হামলা চালিয়েছে। পক্ষান্তরে রাশিয়া বলেছে, এটি অজুহাত মাত্র। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সিরীয় বাহিনীর সাফল্যের কারণেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। সিরিয়ার ওপর বড় মাপের এই হামলায় অন্তত ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, তবে বিভিন্ন স্থাপনার যে ক্ষতি হয়েছে তা ভয়াবহ। রাশিয়া এবং তার মিত্ররা তাত্ক্ষণিকভাবে সংযমের পরিচয় দিলেও মস্কো হামলার বদলা নেওয়ারও হুমকি দিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব সিরিয়া পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সব পক্ষকে সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন। সিরিয়াকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সৌদি আরব ও ইরান শক্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে পারে— এমন আশঙ্কাও জোরদার হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সর্বগ্রাসী যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের দুটি বৃহত্তম ধর্মমত ইসলাম ও খ্রিস্টীয় অনেক পবিত্র ধর্মীয় স্থাপনাও বিপদাপন্ন হতে পারে। মানবতার স্বার্থেই আরও সংঘাতে জড়ানোর কাণ্ডজ্ঞানহীনতায় লাগাম টানতে সব পক্ষকে যত্নবান হতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow