Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৫ মে, ২০১৮ ২৩:১৮
পদদলিত হয়ে প্রাণহানি
হতাহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিন

চট্টগ্রামে ইফতারসামগ্রী আনতে গিয়ে প্রচণ্ড ভিড়ে পদদলনের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন এবং আহত হয়েছেন ২০ জন। নিহতদের সবাই নারী। জেলার সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের কাদেরিয়া মইনুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার হেফজখানা ও এতিমখানার মাঠে এ মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। গরিবদের মাঝে কবির স্টিল অ্যান্ড রিরোলিং মিলস লিমিটেডের (কেএসআরএম) মালিকের ইফতারসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে অব্যবস্থাপনার কারণে ঘটে এ বিপর্যয়ের ঘটনা। এর আগেও ২০০৫ সালের অক্টোবরে একই এলাকায় একই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক শাহজাহানের জাকাত বিতরণের সময় পদদলনে নয়জন নিহত ও ৫০ জন আহত হন। ইফতারসামগ্রী বিতরণের জন্য এত বড় আয়োজন করা হলেও তা স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত না করার অভিযোগ উঠেছে কেএসআরএম গ্রুপের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে— আগে থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হলে হয়তো এ দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। কেএসআরএমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে— প্রতি বছরের মতো এবারও ছোলা, সেমাই, চিনি, পিয়াজের মতো বিভিন্ন পণ্য মিলিয়ে ২০ হাজার মানুষের জন্য প্যাকেট তৈরি করা হয়েছিল। খবর পেয়ে রবিবার রাত থেকেই দূরদূরান্ত থেকে গরিব মানুষ হাজির হতে থাকে মাদ্রাসা এলাকায়। সোমবার ইফতারসামগ্রী নিতে আসা লোকজনের মধ্যে অনেকেই ছিলেন দুস্থ নারী ও শিশু। সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ ভিড় ও হুড়াহুড়ি বেড়ে যায়। এ সময় গেট ভেঙে মাঠে প্রবেশ করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ঘটনাস্থলেই ১০ জন নিহত ও কমপক্ষে ২০ জন আহত হন।  সর্বোচ্চ ১০ হাজার মানুষের ধারণ ক্ষমতার মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রায় চারগুণ লোকের ভিড় হওয়ায় হুড়োহুড়ির কারণে একপর্যায়ে  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একযুগ আগে একই প্রতিষ্ঠানের মালিকের জাকাত বিতরণের সময় পদদলিত হয়ে নয়জনের প্রাণহানির পরও কেন ইফতারসামগ্রী বিতরণে যথেষ্ট সতর্কতা ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি তা ইতিমধ্যে প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। আমাদের দেশে ঘটা করে জাকাত বিতরণের নামে প্রাণহানির ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ইফতারসামগ্রী বিতরণের নামে ১০ জন মানুষের জীবন কাড়ার ঘটনা প্রথম ঘটল। জাকাত বা দান-খয়রাত পুণ্যের পাশাপাশি নিঃসন্দেহে মানবিক কাজ। কিন্তু ঘটা করে জাকাত বা দান-খয়রাত করার পেছনে আত্মগরিমার পাশাপাশি অহংবোধও জড়িত থাকে। আমরা আশা করব এ প্রাণহানির ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তিসহ হতাহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow