Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৭ মে, ২০১৮ ২৩:২৩
সমুদ্রসীমায় দস্যুতা
অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিন

দেশের সমুদ্রসীমায় দস্যুতার ঘটনা বাড়ছে বলে জানিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থার এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে অতিরঞ্জিত বলা হলেও বিষয়টি যে দেশের ভাবমূর্তির জন্য নেতিবাচক তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। এশিয়ায় জলদস্যু প্রতিরোধে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘দ্য রিজিওনাল কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট অন কমবেটিং পাইরেসি অ্যান্ড আর্মড রবারি অ্যাগেইনস্ট শিপ ইন এশিয়া’ (রিকাপ)-এর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের সামুদ্রিক এলাকায় ২০১৭ সালে মোট ১১টি জাহাজে দস্যুতা ঘটেছে। এর মধ্যে ৬টি ঘটেছে নোঙর করা জাহাজে এবং ৫টি চলমান জাহাজে। সবকটি ঘটনাই ঘটেছে চট্টগ্রাম বন্দরসংলগ্ন এলাকায় ও কুতুবদিয়া চ্যানেলে। দেশের সামুদ্রিক বন্দর এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজে দস্যুতা বৃদ্ধির ঘটনা উদ্বেগজনক। এর ফলে সংশ্লিষ্ট বন্দর ও ওই রুট সম্পর্কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। তবে বাংলাদেশের জলসীমায় যেসব দস্যুতার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে, তা অতিরঞ্জিত বলে মনে করছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। তাদের মতে, বাংলাদেশের জলসীমায় যে ঘটনা ঘটেছে প্রকৃত অর্থে সেগুলোকে ‘জলদস্যুতা’ না বলে ‘ছিঁচকে চুরি’ জাতীয় ঘটনা বলে অভিহিত করা যায়। রিকাপের প্রতিবেদন যে অতিরঞ্জিত তা সাদা চোখেও অনুধাবন করা যায়। কারণ এতে বলা হয়েছে, জলদস্যুতার বেশির ভাগ ঘটনায় আক্রমণকারীদের হাতে ছিল ছুরিজাতীয় হালকা অস্ত্র। রাতের আঁধারে তিন-চার জনের গ্রুপ এ ধরনের দস্যুতা ঘটিয়েছে। আজকের যুগে ছুরি হাতে তিন-চার জনের একটি গ্রুপ সমুদ্রগামী জাহাজে দস্যুতা করবে তা উর্বর কল্পনার নামান্তর। তবে রিকাপ প্রতিবেদনের কথিত ঘটনাগুলো নিছক ছিঁচকে চোরদের কাজ হলেও বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা আশা করব, বন্দর অথবা চ্যানেলে অবস্থানরত জাহাজে দস্যু হোক আর ছিঁচকে চোর হোক সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি যেহেতু দেশের সমুদ্রবন্দরের সুনামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেহেতু এ ধরনের অপরাধে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে সম্ভাব্য সবকিছু করা হবে। বন্দর ও চ্যানেলের নিরাপত্তা রক্ষায় বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমনটিও প্রত্যাশিত। এ ব্যাপাারে সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা রক্ষায় জড়িত সব সংস্থাকে  সর্বাত্মক সতর্কাবস্থায় রাখতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow