Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৩ জুন, ২০১৮ ২৩:২৩
ট্রাম্প কিম বৈঠক
খলনায়ক থেকে তারা এখন নায়ক

বিশ্বের সবচেয়ে বিতর্কিত দুই রাষ্ট্রনেতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সিঙ্গাপুরে মঙ্গলবার এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক দেশ উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতার বৈঠকে দুই দেশ তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করে আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। কোরীয় উপদ্বীপের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারেও একমত হয়েছে দুই দেশ। যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকের দিকে উন্মুখ হয়েছিল সারা বিশ্ব। অনেক ঘটন অঘটন শেষে দুই নেতা বৈঠকে বসলেও তার সাফল্য নিয়ে সংশয়ও কম ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পাগলাটে স্বভাবের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন। এক সময়ের তুখোড় ব্যবসায়ী ট্রাম্প রাজনীতিতে নেমে এটিকেও ব্যবসার উপকরণে পরিণত করেছেন। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়াকে ভাবা হয় সমাজতান্ত্রিক রাজতন্ত্র হিসেবে। উত্তর কোরিয়ার শাসকরা নিজেদের মার্কসবাদ লেনিনবাদের অনুসারী দাবি করেন এটি সবারই জানা। সমাজতান্ত্রিক তত্ত্বে রাজতন্ত্রের ঠাঁই না থাকলেও উত্তর কোরিয়ায় তেমন ধরনের শাসনই কায়েম হয়েছে। কিম জং উনের দাদা কিম ইল সুং ছিলেন উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা। তার মৃত্যুর পর শাসনভার আসে পুত্র কিম জং ইলের হাতে। উত্তরাধিকারী সূত্রেই উত্তর কোরিয়া নামের সমাজতান্ত্রিক কিং ডমের শাসক এখন কিম জং ইন। উদ্ভট মতিগতির জন্যও কিম ইল সুং নিজে এবং তার বংশধররা বহুলভাবে পরিচিত। ব্যক্তিগত চরিত্রে ট্রাম্প ও কিম তাদের খেপাটে স্বভাবের জন্য সমালোচিত হলেও কোরীয় উপদ্বীপকে সংঘাত থেকে দূরে রাখা ও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য বৈঠকে বসে খলনায়ক থেকে বিশ্ববাসীর কাছে নায়কে পরিণত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। মঙ্গলবারের মঙ্গলময়ী বৈঠকে দৃশ্যত সে সুযোগ তারা কাজে লাগানোর চেষ্টাও করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের দুই শীর্ষ নেতাকে সব সময়ই দেখা গেছে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায়। কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ শুধু এশিয়ার এ অঞ্চলই নয় বিশ্ব শান্তির জন্য এক সুখবর। বলা যায় শান্তির এ সূচনা বিশ্বকে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ থেকে রক্ষা করেছে। প্রমাণ করেছে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুনিয়ার সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল বিরোধ এবং ইরান সংকট নিরসনে ট্রাম্প-কিম বৈঠক অনুপ্রেরণা জোগাবে আমরা এমনটিই দেখতে চাই।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow