Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১২ মার্চ, ২০১৮ ২৩:৩৫
ভেঙেই গেল অপুর সংসার
শোবিজ প্রতিবেদক
ভেঙেই গেল অপুর সংসার

ঢাকার সুপার তারকা দম্পতি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। এক সময়ের আলোচিত জুটি। ২০০৬ সালে এফ আই মানিকের ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবির সেটে পরিচয় এবং ২০০৮ সালের ১৭ এপ্রিল সোহানুর রহমান সোহানের ‘কথা দাও সাথী হবে’ ছবির শুটিংয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাদের। সেই প্রেম ১৮ এপ্রিল রূপ নেয় পরিণয়ে। অপু বিশ্বাস হয়ে যান অপু ইসলাম খান। লোকচক্ষুর আড়ালে বিয়ে সারলেও সংসার করা হয়ে ওঠেনি তারকা দম্পতির। তার আগেই বাজে বিচ্ছেদের সুর। গতকাল ডিএনসিসির অঞ্চল-৩-এর নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত হোসেনের তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয় শাকিব-অপুর।

এমনটাই দাবি করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন অঞ্চল-৩-এর নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত হোসেন। তিনি বলেন, ‘শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের তালাক বিষয়ে তৃতীয় ও শেষ শুনানি এবং শেষ দিন ছিল আজ। আপস-মীমাংসার জন্য তাদের ডাকা হলেও কেউ সারা দেননি। এর আগে ১২ জানুয়ারি ও ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের ডাকা হয়েছিল। ১২ জানুয়ারি অপু বিশ্বাস উপস্থিত হলেও অন্য দুটি তারিখে অপু সারা দেননি। আর শাকিব খান ছিলেন একেবারেই নীরব। কোনো তারিখেই উপস্থিত হননি। বিধিবদ্ধ সময়সীমা ৯০ দিন উত্তীর্ণ হওয়ায় সালিশ মামলা আজ নিষ্পত্তি হয়েছে। তালাক সম্পন্ন হচ্ছে।’

 

ডিএনসিসির অঞ্চল-৩-এর নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত হোসেন জানান, ‘এর আগে দুবার তারকা দম্পতি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসকে সমঝোতার জন্য ডাকা হয়। গেল ১২ জানুয়ারি উপস্থিত হয়ে শাকিব খানের সঙ্গে সংসার করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন অপু বিশ্বাস। কিন্তু শাকিব খান একবারও আসেননি, তাই এ ব্যাপারে কোনো সমঝোতা সম্ভব হয়নি। নিয়মানুযায়ী আজ থেকে শাকিব-অপুর বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।’

 

এদিকে অপু বিশ্বাসের সঙ্গে তালাক কার্যকর হওয়ার ব্যাপারে শাকিব খান বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ায় সব শেষ হয়েছে। আমি আর পেছনে ফিরে তাকাতে চাই না। সবকিছুই অতীত। আমি এখন কাজ নিয়ে ব্যস্ত। আর এই কাজ নিয়েই ভালো থাকতে চাই।’

 

এদিকে শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের তালাক কার্যকরের তারিখ নিয়ে ভিন্নমত পাওয়া গেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন অঞ্চল-৩-এর নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত হোসেনের বক্তব্যের বিরোধিতা করে একজন আইনজীবী বলেন, অপুকে পাঠানো তালাকের নোটিসে দেখা যায়, সেখানে তালাকের তারিখ ‘২২ নভেম্বর ২০১৭’। এমনকি গণমাধ্যমেও শাকিবের আইনজীবী বলেছেন, শাকিবের পক্ষে ‘২২ নভেম্বর ২০১৭’ তারিখে তিনি অপুকে ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে তালাকের লিখিত নোটিস প্রেরণ করেন। আইনের বিধান মোতাবেক, ৯০ দিন সময় গণনা ওই ২২ নভেম্বর থেকেই শুরু হয়েছে। যেহেতু তালাকটি সমঝোতা বা অন্য কোনোভাবে প্রত্যাহার হয়নি, সে হিসাবে ২০১৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শাকিব-অপুর তালাক কার্যকর হয়েছে।

 

বিচ্ছেদের প্রথম কারণ দেখানো হয় হিরোইন বুবলিকে নিয়ে বিতর্ক। আর দ্বিতীয় কারণ হিসেবে দেখানো হয় সন্তান জয়। কলকাতার একটি ক্লিনিকে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জন্ম হয় আবরাম খান জয়ের। মূলত এই দুটি কারণে শেষ পর্যন্ত পরিণতি হলো ডিভোর্স। এমনটাই মনে করেন অপু বিশ্বাস।

 

শাকিব-অপুর তালাক নিয়ে এক আইনজীবীর বক্তব্য, আইনের বিধান হলো, তালাকের একটি নোটিস স্বামী বা স্ত্রীর কাছে যাবে। আরেকটি নোটিস সিটি করপোরেশনের মেয়রের (ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা চেয়ারম্যান, যেটা প্রযোজ্য) কাছে যাবে। নোটিস পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে করপোরেশন উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে সালিশি পরিষদ গঠন করবে এবং বিষয়টা আপস-মীমাংসার চেষ্টা করবে। তাদের ক্ষমতা বা দায়দায়িত্ব আপস-মীমাংসার উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ। তাদের উদ্যোগে পক্ষরা সাড়া দিতেও পারে, আবার না-ও পারে। তাতে কিছু যায়-আসে না। ওই উদ্যোগে সাড়া দেওয়া না দেওয়া, সালিশি পরিষদের সিদ্ধান্ত বা মতামত গ্রহণ বা বর্জন পক্ষদ্বয়ের একান্ত ঐচ্ছিক বা ব্যক্তিগত বিষয়। এখানে তাদের কাউকে বাধ্য করার আইনানুগ কোনো সুযোগ নেই। তালাক কার্যকর হওয়ার সঙ্গে এই উদ্যোগের সরাসরি কোনো সম্পর্কও নেই। সিটি করপোরেশন যদি এখানে কোনো সমঝোতার উদ্যোগ না নেয় বা পক্ষরা যদি তাতে সাড়া না দেয়, ৯০ দিন পর (পূর্বে উল্লিখিত সময় গণনা শেষে) তালাক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়। বিয়ের খবর জনসমক্ষে আসার পর দুজনের সম্পর্কের টানাপড়েন সৃষ্টি হয়।  দুজন দুজনের মুখ দেখাদেখিও বন্ধ করে দেন। ছেলে আবরামের কারণে মাঝেমধ্যে দেখা হলেও কথা হয়নি এই তারকা দম্পতির।         

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow