Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১২ মার্চ, ২০১৮ ২৩:২৪
নেপালি কন্ট্রোল রুমের ভুল বার্তায় দুর্ঘটনা
——— ইউএস-বাংলার সিইও
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ গত সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরের কন্ট্রোল রুমের অর্থাৎ এটিসির (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল) ভুল বার্তার কারণে বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে যে তথ্য এসেছে সেটি তিন মিনিটের একটি রেকর্ড। ওই এটিসি (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল) কনভারশনের ব্রিফিংটি ইউটিউবেও পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের পাইলটদের সঙ্গে নেপালের এটিসি টাওয়ারের কথোপকথন এটি। এই কথোপকথন শুনলে বোঝা যাবে, এখানে এটিসির পক্ষ থেকে আমাদের পাইলটদের ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছিল এবং নেপালিদের পক্ষ থেকে দায়িত্বে গাফিলতিও করা হয়েছিল। আমরা এ ব্যাপারে তদন্তও শুরু করেছি। আমরা সন্দেহ প্রকাশ করছি, নেপালে কাঠমান্ডু টাওয়ারে এটিসির পক্ষ থেকে আমাদের বিমানের পাইলটকে ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছে। আর সে কারণেই এ দুর্ঘটনা। এ ঘটনা তদন্তের জন্য বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল গতকাল বিকালেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার জন্য সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দিয়েছেন।’

ইমরান আসিফ কথোপকথন সম্পর্কে আরও বলেন, ‘কথোপকথনে রানওয়ের কোন দিক দিয়ে পাইলট ল্যান্ড করবেন— এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা ছিল। তিন মিনিটের কথোপকথনে আমাদের পাইলটদের ল্যান্ড করার জন্য বিভিন্ন বার্তাও সেখানে দেওয়া হয়েছে। আর এই গাফিলতির কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। তবে এই গাফিলতি আমাদের পাইলটের পক্ষ থেকে হয়নি। এটা হয়েছে নেপালের এটিসি টাওয়ারের পক্ষ থেকে। আমরা সন্দেহ করছি আমাদের পাইলটদের, কাঠমান্ডু টাওয়ারের এটিসি কর্তৃপক্ষ ভুল রানওয়েতে ল্যান্ড করতে বলেছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘এই দুর্ঘটনায় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত বিমানটির বয়স ছিল ১৬ বছর। আমাদের এমন আরও চারটি বিমান আছে, আর এর চারটিই এখন ফ্লাই করে। আর বিমানটির ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান অনেক অভিজ্ঞ। তিনি এয়ারফোর্সের সাবেক পাইলট। তার ফ্লাইং আউয়ার ৫ হাজারের বেশি। তিনি এখনো জীবিত আছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। এই এয়ারক্রাফটে তিনি ১৭০০ ঘণ্টার বেশি ফ্লাই করেছেন। তিনি ছিলেন এই এয়ারক্রাফটের একজন ইনস্ট্রাক্টর। দুর্ঘটনার শিকার বিমানটিতে দুজন পাইলট ছিলেন। আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত খবর আছে। যেহেতু এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে আমরা অসমর্থিত তথ্য দিতে পারি না, এজন্য যখন এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত তথ্য পাব, তখনই তা জানাব।’

এর আগে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ইউএস-বাংলার সিইও সাংবাদিকদের ৬৭ যাত্রীর মধ্যে আটজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিন্তু তাদের জাতীয়তা তখনো নিশ্চিত করা যায়নি। যেহেতু দুর্ঘটনাটি বার্ন ন্যাচারের, এজন্য যাত্রীদের শনাক্তকরণে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানান। তিনি বলেন, ‘আহত যাত্রীদের নেপালের চারটি হাসপাতাল— কেএমসি, টিসি, নরডিক ও ওম-এ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এই বিমানের ফ্লাইট রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানা যাবে না। এ মুহূর্তে আমরা যাত্রীদের ইমিগ্রেশনের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি। দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি সামলাতে নেপাল ও বাংলাদেশ দূতাবাসসহ সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করছে। আমরা নেপালে অবস্থিত আমাদের স্টেশন ম্যানেজার, নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছি, সেখানে যাত্রীদের ইমিগ্রেশনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা থেকে আমরা নেপালে যাওয়ার পর হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারব।’ ইউএস-বাংলার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘নেপালে বিধ্বস্ত যাত্রীদের উদ্ধারে বেশ কয়েকটি বাহিনী কাজ করছে। তবে দুর্ঘটনায় কতজন যাত্রী নিহত ও আহত হয়েছেন, তা আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে তবেই বলতে চাই। আমরা হতাহতদের ব্যাপারে বিভিন্ন মাধ্যমে জানার চেষ্টা করছি। আর যত দ্রুত তা জানতে পারব তত দ্রুত দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারকে জানাতে পারব। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা কোনো বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাচ্ছি না। এই যাত্রীদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় বের করার চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন লুত্ফর নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।’

তদন্ত কমিটি : গতকাল বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশনের টিম এরই মধ্যে নেপালে চলে গেছে। যেহেতু দুর্ঘটনাটি ঘটেছে নেপালে, এজন্য তদন্তের উদ্দেশ্যে সেখানেই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে নেপালের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষেরও কথা হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow