Bangladesh Pratidin

ফোকাস

  • চাটাইয়ে মুড়িয়ে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান!
  • কেরানীগঞ্জে বাচ্চু হত্যায় ৩ জনের ফাঁসি, ৭ জনের যাবজ্জীবন
  • ৩ মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে খালেদার আবেদন
  • হালদা নদীর পাড়ের অবৈধ স্থাপনা ভাঙার নির্দেশ
  • আফগানিস্তানের বিপক্ষে টাইগারদের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা
  • কাদেরের বক্তব্যে একতরফা নির্বাচনের ইঙ্গিত: রিজভী
  • কলারোয়া সীমান্তে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ
  • বিএনপি নির্বাচনে না এলেও গণতন্ত্র অব্যাহত থাকবে: কাদের
প্রকাশ : সোমবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২২:৪১
মিয়ানমারের কাণ্ড! নিল এক পরিবারকে বাংলাদেশ বলছে পুরোটাই হাস্যকর
নিজস্ব প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার নামে মিয়ানমার অদ্ভুত এক কাণ্ড করেছে। তারা গভীর রাতে নো-ম্যানস-ল্যান্ড থেকে ‘একটি পরিবারকে ফেরত নেওয়া হয়েছে’ বলে জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পুরো ব্যাপারটিকেই হাস্যকর বলে অভিহিত করা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, তুমব্রু নো-ম্যানস-ল্যান্ড থেকে যে পরিবারটিকে ফেরত নেওয়া হয়েছে বলে প্রচার করা হয়েছে, সে পরিবারটি মিয়ানমারের ভিতর এলাকাতেই ছিল। টাকার বিনিময়ে তাদের মিয়ানমারের পক্ষে প্রচারণার হাতিয়ার করা হয়েছে। নো-ম্যানস-ল্যান্ডে অবস্থানরত ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গারা দাবি করেছেন, শনিবার গভীর রাতে সবার অজান্তে তারা মিয়ানমারে ফেরত গেছেন। তাদের পরিবারের গৃহকর্তার নাম মোহাম্মদ আকতার আলম। তার পরিবারের ছয় সদস্যের মধ্যে পাঁচজন ফেরত গেছেন। আকতার আলমের বাড়ি মিয়ানমারের তুমব্রু এলাকায় এবং তিনি ওই এলাকার চেয়ারম্যান। শনিবার গভীর রাতে মিয়ানমার সীমান্তের ঢেঁকিবুনিয়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে তারা ফেরত গেছেন। আর এ কাজে সহযোগিতা করেছে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড (বিজিপি)। সেখানে গিয়ে তিনিসহ তার পরিবার বিজিপির কাছ থেকে পরিচয় শনাক্তকরণ কার্ড বা ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) সংগ্রহ করেছেন।

এ ব্যাপারে তুমব্রু নো-ম্যানস ল্যান্ডে বসবাসরত রোহিঙ্গা এরফান বলেন, ‘শনিবার গভীর রাতে আকতার আলম তার পরিবার নিয়ে সবার অজান্তে মিয়ানমারে ফেরত গেছেন। মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে চুক্তি করে তিনি মিয়ানমারে ফেরত গেছেন।’ অন্যদিকে দাবি করা হয়েছে, গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইনে সহিংস ঘটনার পর অন্যান্য রোহিঙ্গার সঙ্গে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন আকতার। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু এলাকায় এক ইউপি সদস্যের বাড়ি ভাড়া নিয়ে তিনি এতদিন বাংলাদেশে ছিলেন। খালেদ হোসেন নামের আরেক রোহিঙ্গা নেতা জানান, মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া আকতার আলমের দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছয়জন। এর মধ্যে এক মেয়েকে রেখে পাঁচজনকে নিয়ে মিয়ানমারে ফেরত গেছেন তারা। তবে এক সন্তানকে রেখে যাওয়ার কারণ জানা যায়নি। তাদের ফেরত যাওয়ার বিষয়টি অন্য রোহিঙ্গারা জানত না। মিয়ানমার গিয়েই তারা এনভিসি কার্ড সংগ্রহ করেছে।

কক্সবাজার শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসনবিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আকতার নামে এক রোহিঙ্গা নাগরিক তার পরিবার নিয়ে মিয়ানমারে ফেরত গেছেন বলে আমি শুনেছি। এটা প্রত্যাবাসনের আওতায় পড়ে না। তমব্রু সীমান্তের নো-ম্যানস-ল্যান্ডে প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা পরিবার রয়েছে। ওই পরিবারগুলো প্রত্যাবাসনের আওতায় পড়ে না। এ জন্য মিয়ানমার সরকারকে আগে থেকেই বলা হচ্ছে ওই পরিবারগুলোকে ফেরত নেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা সবাইকে ফেরত না নিয়ে শুধু একটি পরিবারকে নিয়ে  গেছে।’

এটা হাস্যকর : এক রোহিঙ্গা পরিবারকে মিয়ানমারের ফেরত নেওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ‘আমি এখনো নিশ্চিত নই। এ মুহূর্তে ১১ লাখ রোহিঙ্গা আছে, যারা বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তাদের আমরা চিহ্নিত করেছি। বায়োমেট্রিকসহকারে তাদের পরিচয়পত্র দিয়েছি। একটি পরিবার নিয়ে গেছে লোক দেখানোর জন্য। এটা তো আমাদের কাছে হাস্যকর ব্যাপার।’ গতকাল দুপুরে মতিঝিলের চেম্বার ভবনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজে (ডিসিসিআই) আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিকরা বিদেশি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঁচ সদস্যের এক রোহিঙ্গা পরিবার ফেরত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এটুকু দাবি করি— এখন যেসব রোহিঙ্গা শূন্য রেখায় অবস্থান করছে, যারা এখনো বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি। মিয়ানমার সীমান্তের নো-ম্যান্স-ল্যান্ডে ছয় হাজারের অধিক রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তাদের বিষয়ে আমরা বারবার বলেছি, এই রোহিঙ্গারা তো বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি। তাদের আপনারা নিয়ে যান। কিন্তু মিয়ানমার প্রতিবার বলছে, আমরা মিটিং করব। মিটিং হচ্ছে। এখন পর্যন্ত নেয়নি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এক পরিবার নিয়েছে, আপনারা (সাংবাদিক) বললেন। আমি এখনো নিশ্চিত নই। আমরা মিয়ানমারকে বারবার বলেছি— যারা শূন্য রেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি, তাদের চিহ্নিত করার কোনো প্রয়োজন নেই। এসব রোহিঙ্গা বলছে, তাদের বাড়িঘর পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যেই আছে। সেখানে এই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাক মিয়ানমার। তাদের জন্য ব্যবস্থা করুক। এসব রোহিঙ্গা তো মিয়ানমারের এলাকাতেই বসে রয়েছে। কিন্তু সময় সময়ই মিটিংয়ের পর মিটিং হচ্ছে। তবে আমরা আশা করছি— মিয়ানমার সব রোহিঙ্গাকে নিয়ে যাবে। শুধু ছয় হাজার নয়, সবাইকে নিয়ে যাবে।’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow