Bangladesh Pratidin

ফোকাস

  • চাটাইয়ে মুড়িয়ে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান!
  • কেরানীগঞ্জে বাচ্চু হত্যায় ৩ জনের ফাঁসি, ৭ জনের যাবজ্জীবন
  • ৩ মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে খালেদার আবেদন
  • হালদা নদীর পাড়ের অবৈধ স্থাপনা ভাঙার নির্দেশ
  • আফগানিস্তানের বিপক্ষে টাইগারদের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা
  • কাদেরের বক্তব্যে একতরফা নির্বাচনের ইঙ্গিত: রিজভী
  • কলারোয়া সীমান্তে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ
  • বিএনপি নির্বাচনে না এলেও গণতন্ত্র অব্যাহত থাকবে: কাদের
প্রকাশ : সোমবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২২:৪৪
অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানাল ইডরা
আর কোনো বীমা কোম্পানি নয়
রুকনুজ্জামান অঞ্জন

নির্বাচনের আগে নতুন বীমা কোম্পানির আবেদন জমা পড়ছে সরকারের কাছে। অনেকে কোম্পানির নিবন্ধন নেওয়ার জন্য সুপারিশও করছেন। সেই সুপারিশের বিষয়ে মতামতও চাওয়া হচ্ছে। তবে বীমা কোম্পানির নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (ইডরা) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা দেশে আর কোনো জীবন বীমা কোম্পানির অনুমোদনের পক্ষে নয়।

৫ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে ইডরা জানিয়ে দিয়েছে, ‘বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নতুন কোনো জীবন বীমা কোম্পানির অনুমোদনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নেতিবাচক মত প্রদান করা হলো।’

ইডরার চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ‘১৬ কোটি জনসংখ্যার এ দেশে ৭৮টি নিবন্ধিত বীমা কোম্পানি ব্যবসা পরিচালনা করছে।

এর মধ্যে ৩৮টি জীবন বীমা কোম্পানি। পাশের বিশাল জনসংখ্যার দেশ ভারতে এতসংখ্যক বীমা কোম্পানি নেই। বাংলাদেশের বাজার আকৃতি অনুযায়ী নিবন্ধিত বীমা কোম্পানির সংখ্যা অত্যন্ত বেশি।’ সূত্র জানায়, রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ১৬টি বীমা কোম্পানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৪টি ছিল জীবন বীমা কোম্পানি। তবে নতুন অনুমোদিত এসব বীমা কোম্পানির বেশির ভাগই চরম সংকটে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোয় আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। ইতিমধ্যে এসব কোম্পানির অ্যাকাউন্ট (হিসাব) নেতিবাচক হয়েছে। ফলে ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়েছে কোম্পানিগুলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কোম্পানিগুলোকে আর্থিকভাবে লাভজনক হতে বছরে অন্তত ১০ কোটি টাকার প্রিমিয়াম আয় করতে হয়। কিন্তু এসব কোম্পানি গড়ে ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা আয় করছে। আয়ের তুলনায় কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেশি হচ্ছে। এ অবস্থায় কোম্পানিগুলো পরিচালন ব্যয় মেটাতে গ্রাহকের সঞ্চয়ের টাকার বড় একটি অংশ খরচ করে ফেলছে। তাই ঝুঁকিতে রয়েছেন এসব কোম্পানির গ্রাহক। উপরন্তু আর্থিক সংকটে অনেক কোম্পানি কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না, সামগ্রিকভাবে যা বীমা খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইডরার চিঠিতেও নতুন বীমা কোম্পানিগুলোর নাজুক পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০১৩-২০১৪ সালে ১৪টি জীবন বীমা কোম্পানিকে ব্যবসা করার অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে মাত্র এক-দুটি কোম্পানি আশানুরূপ ব্যবসা অর্জন করতে পেরেছে। অন্যান্য কোম্পানির লাইফ ফান্ড নেগেটিভ, বীমা গ্রাহকদের দাবির টাকা পরিশোধে নানা গড়িমসি এবং ক্ষেত্রমতে দাবি পরিশোধ না করা, বীমা এজেন্টদের অর্থ আত্মসাৎ ইত্যাদি অসাধু কার্যক্রম কোম্পানিগুলোর নাজুক পরিস্থিতিকেই নির্দেশ করে। উপরন্তু জীবন বীমা শিল্প দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থাকায় এ শিল্পে দক্ষ জনবল গড়ে ওঠেনি। ফলে কোম্পানিগুলোর সঠিক পরিচালনাও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে ইডরার সদস্য গোকুল চাঁদ দাস বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের কাছে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জীবন বীমা কোম্পানির নিবন্ধনের বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছিল। আমরা নতুন বীমা কোম্পানির অনুমোদনের বিপক্ষে মত দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘২০১৩ ও ২০১৪ সালে যে বীমা কোম্পানিগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়, তারাই ব্যবসা করতে পারছে না। এগুলো মানুষের কাছ থেকে টাকা এনে টাকা ফেরত দিতে পরছে না। এ অবস্থায় নতুন করে বীমা কোম্পানির অনুমোদন দিলে বীমা খাতে আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow