Bangladesh Pratidin

ফোকাস

  • চাটাইয়ে মুড়িয়ে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান!
  • কেরানীগঞ্জে বাচ্চু হত্যায় ৩ জনের ফাঁসি, ৭ জনের যাবজ্জীবন
  • ৩ মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে খালেদার আবেদন
  • হালদা নদীর পাড়ের অবৈধ স্থাপনা ভাঙার নির্দেশ
  • আফগানিস্তানের বিপক্ষে টাইগারদের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা
  • কাদেরের বক্তব্যে একতরফা নির্বাচনের ইঙ্গিত: রিজভী
  • কলারোয়া সীমান্তে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ
  • বিএনপি নির্বাচনে না এলেও গণতন্ত্র অব্যাহত থাকবে: কাদের
প্রকাশ : সোমবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২২:৪৫
সাক্ষাৎকার
খেলাপিদের অবাধ রিট সুবিধা বন্ধ করতে হবে : আবদুছ ছালাম আজাদ
আলী রিয়াজ
খেলাপিদের অবাধ রিট সুবিধা বন্ধ করতে হবে : আবদুছ ছালাম আজাদ

ব্যাংক খাতে যে অস্থিরতা চলছে তা থেকে বের হতে হলে সব ব্যাংকের নিজস্ব মনিটরিং বিভাগ আরও শক্তিশালী করতে হবে। ঋণখেলাপিদের অবাধ রিট সুবিধা বন্ধ করতে হবে। যারা অনিয়মে জড়িত তাদের অর্থ উদ্ধারে বিশেষ পদক্ষেপ না নিলে ব্যাংক খাত নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে। দেশের ব্যাংক খাতের অনিয়ম, অস্থিরতা কীভাবে দূর করা যায় তা নিয়ে কথা বলেছেন, জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুছ ছালাম আজাদ। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যাংকের সুশাসন, নিয়ন্ত্রণ নিয়েও কথা বলেন। ছালাম আজাদ বলেন, ব্যাংকিং খাতে ঋণখেলাপি সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য ব্যাংকগুলোর নিজেদেরই পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রত্যেকটি শাখায় দক্ষ ও চৌকস মনিটরিং সেল থাকতে হবে। কিন্তু বর্তমানে দেশের অধিকাংশ ব্যাংক শাখার তা নেই। এভাবে প্রধান কার্যালয়ের বৃহৎ মনিটরিং বিভাগ থাকতে হবে। নজরদারি থাকলে খেলাপি ঋণ তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে না। কারণ নজরদারি শুধু ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রেই নয়, আদায় করা বা সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ওপরও কাজ করে। কিস্তি সঠিক সময় না দিলে তারা বিষয়টি দেখে। এতে গ্রাহক টাকা দিতে বাধ্য হয়। তিনি বলেন, যেসব প্রকল্প বা গ্রাহক খেলাপিতে পরিণত হয়েছে তা আদায়ের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য শুধু ব্যাংকগুলো নয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইনবিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। একটি ব্যাংক কাউকে খেলাপি ঘোষণা করলে গ্রাহক কোর্টে গিয়ে রিট পিটিশন দায়ের করেন। এতে ওই ঋণটি আদায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে অবাধ রিট দায়ের করার সুযোগ বন্ধ করা উচিত। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে অবাধ রিট কীভাবে বন্ধ করা যায় তা নিয়ে কাজ চলছে। এক্ষেত্রে একটি নীতিমালা করার চিন্তাভাবনা আছে। এ ছাড়া খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে যুক্ত করতে হবে।

ছালাম আজাদ বলেন, বেসরকারি সব ব্যাংকই নানা ধরনের সমস্যায় রয়েছে। এই সমস্যা একদিনে তৈরি হয়নি। তাই দ্রুত উন্নতি করাও কঠিন হবে। ৯০ দশক থেকেই ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ সমস্যা ছিল। অনেক ঋণ তামাদি হয়ে গেছে। সেসব তামাদি ঋণ ব্যাংকগুলোকে বহন করতে হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোকে অনেক লোকসান দিতে হয়েছে। কিন্তু লোকসান কাটিয়ে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করছে এখনো। দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে এখনো ব্যাংকগুলোর ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, বর্তমানে কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক বিশেষ করে নতুন প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি ব্যাংক সবচেয়ে বেশি সমস্যা রয়েছে। এই ব্যাংকগুলো ঋণ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সঠিক ব্যবসায়ী নির্বাচন করতে পারেনি। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুণাগুণ বিচারে ঘাটতি ছিল। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনায় যে সমন্বয় থাকা দরকার ছিল সেটা করতে পারেনি। তাদের সিআরআর হতে টাকা ব্যবহার করতে হয়েছে। এতে গ্রাহকদের আস্থা কমে গেছে। অনেক গ্রাহক তাদের ডিপোজিট উত্তোলন করতে চেয়েছে। একসঙ্গে অনেক গ্রাহকের চাপ কোনো ব্যাংক সামলাতে পারবে না। নতুন ব্যাংকগুলোও পারেনি। এটা সাময়িক, দীর্ঘ মেয়াদে এই সংকট থাকবে না। তবে নতুন ব্যাংকগুলোকে এখন আরও বেশি সতর্কতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে আরও একটি বড় দুর্বলতা ছিল কনজুমার এলসি বেশি করা। সরকারি ব্যাংকের কনজুমার এলসি কম হয়। বেসরকারি ব্যাংকে বেশি হয়েছে। কিন্তু সময়মতো বিল তারা পায়নি। এই সংকটের কারণে ডলার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কার্ব মার্কেট থেকে তারা ডলার কিনেছে বেশি দামে। এতে তারল্য সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এখন এই ব্যাংকগুলোর ওপর বিশেষ নজরদারি হবে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

জনতা ব্যাংকের এমডি বলেন, জনতা ব্যাংক গত এক বছরে অনেক উন্নতি করেছে। আমি ডিসেম্বরে দায়িত্বে আসার পর সারা দেশে ঝটিকা সফর করছি। প্রত্যেকটি শাখা সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছি। প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো শাখা পরিদর্শন করছি। তাদের কর্মকাণ্ডের বিস্তারিতভাবে জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে এসেছি। আমাদের খেলাপির পরিমাণ এখন আছে ১২ শতাংশের মতো। যেটা কয়েক মাস আগেও ছিল ১৪ শতাংশ। আগামী দুই মাসের মধ্যে আমরা সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসব। তিনি বলেন, একটি ব্যাংক পরিচালনার জন্য যে ধরনের দক্ষ পর্ষদ দরকার বর্তমানে আমাদের তা আছে। আমাদের চেয়ারম্যান একজন আইটি দক্ষ ব্যক্তি। পর্ষদের প্রত্যেক পরিচালক দেশের স্বনামধন্য ব্যক্তি। তারা প্রত্যেকটি কর্মকাণ্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার বিশ্লেষণ করেন। তাদের নজরদারি বাইরে কোনো কিছুই হচ্ছে না। একজন ডিজিএম পর্যন্ত কর্মকর্তাকেও পর্ষদের কাছে জবাবদিহি করতে হয়।

বড় কয়েকটি গ্রুপ থেকে টাকা আদায় করছি। যারা খেলাপি আছে তাদের সবাইকে বাধ্য করছি টাকা ফেরত দিতে। এ ছাড়া নিয়মিত করার লক্ষ্যে কয়েকটি গ্রুপের মর্টগেজ বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠান চলছে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সেরা সুশাসনের ব্যাংক হবে জনতা ব্যাংক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow