Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ২৩:১৪
প্রার্থীদের দুই তালিকা আওয়ামী লীগের
বিএনপি অংশ নিলে ‘এ’ সেট না নিলে ‘বি’ সেট থেকে মনোনয়ন, বিতর্কিত ও জনবিচ্ছিন্নরা নৌকা পাবেন না, ক্লিন ইমেজের তরুণরা থাকবেন এগিয়ে
রফিকুল ইসলাম রনি
প্রার্থীদের দুই তালিকা আওয়ামী লীগের

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কৌশল হিসেবে দুই রকম তালিকা করা হচ্ছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটি নির্বাচনে অংশ নিলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হবে একরকম। আর বিএনপি অংশ না নিলে প্রার্থী হবে আরেকরকম। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়, তাহলে বর্তমান সংসদের আওয়ামী লীগ দলীয় শতাধিক এমপির কপাল পুড়তে পারে। এক্ষেত্রে মনোনয়নে এগিয়ে থাকবেন জনপ্রিয় ও স্বচ্ছভাবমূর্তি সম্পন্ন প্রার্থীরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন জরিপের ভিত্তিতে পৃথক দুটি খসড়া তালিকা তৈরি করছেন বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেড় বছর আগেই প্রার্থীদের বিষয়ে খোজখবর নিচ্ছেন। চার স্তরের জরিপে তিনি দুই ধরনের তালিকা প্রস্তুত করছেন।’

সূত্রমতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু হয় দেড় বছর আগে থেকেই। দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বেশ কয়েকটি পর্যায়ে আসনভিত্তিক জরিপ কাজ পরিচালনা করে প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যেসব আসনে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তাদেরকে ‘এ’ তালিকায় রাখা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে তাদের জোরালোভাবে মাঠে কাজ করে যেতে বলা হয়েছে। আর যারা কম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন তাদেরকে ‘বি’ তালিকায় রেখে জনসম্পৃক্তা বাড়াতে বলা হয়েছে। আর যেসব আসনে নতুন মুখ আনা হচ্ছে, তাদের এখন থেকেই মাঠ গোছাতে বলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সূত্রমতে, অন্তত ২০০ জন প্রার্থীকে ইতিমধ্যে দলের সভাপতি ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছেন। তাঁরা এলাকায় কাজ করছেন।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এবার আওয়ামী লীগের অনেক এমপি-মন্ত্রী নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়বেন। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কহীন, জনবিচ্ছিন্ন ও চাটুকার পরিবেষ্টিত থাকার অভিযোগ রয়েছে এমন নেতার তালিকা তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে দলকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন, নানাভাবে সমালোচিত হয়ে নিজেকে এবং দলকে হেয় করেছেন, এসব নেতাও থাকবেন তালিকায়। দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার হুঁশিয়ার করার পর তাদের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক জরিপেও তাদের সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে। এদের ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায় মনে করছে, তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। এ ব্যাপারে তাদের কোনো সন্দেহ নেই। সেক্ষেত্রে এ নির্বাচন হবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কাজেই জনবিচ্ছিন্ন ও বিতর্কিতদের দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া সম্ভব হবে না। পর পর দুই মেয়াদে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির প্রার্থীরা ভোটারদের সহানুভূতি আদায়ে তাদের ক্লিন ইমেজ কাজে লাগাবেন। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের এবারের ভরসা অপেক্ষাকৃত তরুণ, বঞ্চিত ও ত্যাগী নেতারা। এক্ষেত্রে দলের পেছনের কাতারে থাকা সৎ ও ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতারা গুরুত্ব পাবেন। সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনোনয়নে তিনশ আসনের কথা মাথায় রেখে অগ্রসর হলেও জোটের শরিকদের বিষয়টিও চিন্তায় রয়েছে। শরিকদের বর্তমান আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের নিজস্ব প্রার্থী রাখা হলেও এসব প্রার্থীকে প্রয়োজনে ছাড় দেওয়ার মানসিকতায় প্রস্তুত থাকতে বলা হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, কোনো বিতর্কিত জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হবে না। সমাজের সর্বস্তরের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা ধরেই নিয়েছি, বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে এবং তারা অংশ নিক সেটাই চাই। সে হিসেবেই আমরা প্রার্থী বাছাই শুরু করেছি। যারা রাজনীতিতে পরীক্ষিত, দলের প্রতি কমিটমেন্ট রয়েছে, সর্ব শ্রেণির মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য, যাকে দিয়ে বিজয় নিশ্চিত সম্ভব তাকেই মনোনয়ন দেবেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow