Bangladesh Pratidin

ফোকাস

  • চাটাইয়ে মুড়িয়ে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান!
  • কেরানীগঞ্জে বাচ্চু হত্যায় ৩ জনের ফাঁসি, ৭ জনের যাবজ্জীবন
  • ৩ মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে খালেদার আবেদন
  • হালদা নদীর পাড়ের অবৈধ স্থাপনা ভাঙার নির্দেশ
  • আফগানিস্তানের বিপক্ষে টাইগারদের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা
  • কাদেরের বক্তব্যে একতরফা নির্বাচনের ইঙ্গিত: রিজভী
  • কলারোয়া সীমান্তে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ
  • বিএনপি নির্বাচনে না এলেও গণতন্ত্র অব্যাহত থাকবে: কাদের
প্রকাশ : শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ২৩:১৬
ছাত্রলীগ নেতার নির্যাতন
৬ মিনিট চড় থাপ্পড় কিল ঘুষির ভিডিও ভাইরাল, সংগঠন থেকে বহিষ্কার
নিজস্ব প্রতিবেদক
ছাত্রলীগ নেতার নির্যাতন
সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যায় ছাত্রলীগ নেতা রনি মেরেই চলছে কোচিং সেন্টার পরিচালককে

যুবকটির পরনে জিন্সের প্যান্ট আর আকাশনীল চেক শার্ট। মাথাভর্তি চুল। বাঁ হাতে একটি সিগারেট। ডান হাতে লাইটার। বুক চিতিয়ে মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে ঢুকে পড়লেন অফিসের একটি কক্ষে। সেখানে বসা আছেন একজন কর্মকর্তা। সরাসরি সেই কর্মকর্তার সামনে হাজির। যুবকটি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। ফুঁসছেন। তাকে দেখে জড়সড় চেয়ারে বসে থাকা কর্মকর্তাটি। কাঁপছেন। যুবকটি চেয়ারে বসতে গিয়েও বসছেন না। উত্তেজিত ভীষণ। চিৎকার করতে করতে প্রথমেই টেবিলের ওপর হাত দিয়ে আঘাত করেন। ঝুঁকে লাফিয়ে লাফিয়ে চেয়ারে বসা লোকটির চুল টেনে ধরছেন। প্রচণ্ড শক্তিতে চড়-থাপড় মারছেন। শব্দ শুনে কেউ একজন ওই কক্ষের সামনে এসে ওই দৃশ্য দেখলেও এগিয়ে এলেন না। ভয়ে সটকে পড়েন। যুবকটি টেবিলের ওপাশ থেকে ঘুরে চলে এলেন কর্মকর্তার চেয়ারের সামনে। এসেই চুল ধরে হ্যাঁচকা টান দেন। গলা চেপে ধরেন। মুখমণ্ডলে অনবরত চড়-থাপড় মারতে থাকেন। লোকটি হাতজোড় করে মাফ চাচ্ছেন। কাজে আসছে না। যুবকটি এতটাই ক্ষুব্ধ যে, হাতের সিগারেটটিও ধরাতে পারছেন না। একসময় সিগারেটটি ধরান। সিগারেট ধরিয়েই আবারও অসহায় লোকটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। কিন্তু লোকটির ঠোঁট-মুখ ফেটে রক্ত বেরোলেও আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষায় কোনো চেষ্টাও করতে পারেননি। না, এটি ফিল্মের কোনো ক্লিপের বিবরণ নয়। সত্য ঘটনা। আর এ ঘটনার প্রধান চরিত্র হলেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি। চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ের একটি কোচিং সেন্টারের পরিচালক রাশেদ মিয়াকে এভাবেই মারধর করেন তিনি। চড় মারার এই ভিডিও গতকাল ফাঁস হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে রনিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মারধরের সেই ভিডিওচিত্রটি ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকালের। ওইদিন বিকাল ৫টা ২৬ মিনিট থেকে ৩২ মিনিট পর্যন্ত ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, রাশেদ মিয়া কোচিং সেন্টারে তাঁর কার্যালয়ে বসে আছেন। সেখানে ঢুকে নুরুল আজিম রনি উত্তেজিত হয়ে যান। একপর্যায়ে রাশেদ মিয়ার চুল ধরে টানা-হেঁচড়া করেন। এরপর চড়-থাপড় মারতে থাকেন। ৬ মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, রাশেদ মিয়াকে ১৩টি চড় মারেন রনি। এ সময় হাতজোড় করে ছিলেন রাশেদ মিয়া। রনি ২০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে রাশেদ মিয়াকে মারধর করেন বলে জানা গেছে। গতকাল চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানায় রনিসহ ছাত্রলীগের আরেক কর্মীর নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন কোচিং সেন্টারের পরিচালক রাশেদ মিয়া। অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় আরও সাত-আট জন জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়। পাঁচলাইশ থানায় দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, নুরুল আজিম রনি ইউনিভার্সিটি অ্যাডমিশন কোচিং সেন্টারে প্রায়ই আসা-যাওয়া করতেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি জিইসি মোড়ে ওই কোচিং সেন্টারে গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তিনি। না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

 এরপর ১৩ এপ্রিল নগরের মুরাদপুরের মোহাম্মদপুর এলাকায় রাশেদকে একা পেয়ে মারধর করেন রনি ও ছাত্রলীগ কর্মী নোমান চৌধুরী। এ সময় তারা ২০ লাখ টাকা চাঁদা চান। টাকা নেই জানানো হলে রনির নির্দেশে নোমান চৌধুরী সুগন্ধা আবাসিক এলাকার বাসায় গিয়ে রাশেদের স্ত্রীর পাসপোর্টসহ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে যান। বাকি টাকা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

তবে মামলার বাদী রাশেদ মিয়া বলেন, রনি তার কোনো ব্যবসায়িক অংশীদার নন। চাঁদার জন্যই তাকে মারধর করেছেন। প্রমাণ হিসেবে তার কাছে এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ আছে।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ গতকাল বিকালে বলেন, ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির জন্য থানায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখনো মামলা হিসেবে নেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এর আগে ৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহেদ খান বাদী হয়ে নুরুল আজিম রনিসহ ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে নগরের চকবাজার থানায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা করেছিলেন। প্রবেশপত্রের সঙ্গে উন্নয়ন ফি বাবদ ৫ হাজার টাকা নেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ২৯ মার্চ বিজ্ঞান কলেজে রনির নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেন। সেদিন কলেজ কর্তৃপক্ষ ৩১ মার্চ বাড়তি ফি ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এরপর কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি করায় ৩১ মার্চ দুপুরে রনি আবারও ওই কলেজে যান। তখন টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে বাক?বিতণ্ডার একপর্যায়ে রনি ও তার কর্মীরা অধ্যক্ষকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow