Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ৬ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৫ মে, ২০১৮ ২৩:০৪
গুরুতর অসুস্থ আদালতকে জানাতে বললেন খালেদা
পাঁচ আইনজীবীর সাক্ষাৎ
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ৮ মে জামিন শুনানিতে ‘অসুস্থতা’র বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে উপস্থাপনের জন্য দলের আইনজীবীদের বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল বিকালে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে নির্জন পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বিএনপিপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুর রেজ্জাক খান সাংবাদিকদের কাছে এ কথা জানান। বিকাল ৪টায় পুরনো কারাগারে বন্দী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে প্রবেশ করেন তার শীর্ষ পাঁচ আইনজীবী। বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বেরিয়ে আসেন। তারা হলেন— সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট আবদুর রেজ্জাক খান, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আবদুর রেজ্জাক খান বলেন, ‘ম্যাডাম বলেছেন, তিনি গুরুতর অসুস্থ— এটা কোর্টকে জানাতে হবে। জেলে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে থাকার কারণে দিন দিন তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। মেডিকেল গ্রাউন্ডে জামিন দিয়েছেন হাই কোর্ট— এটা সর্বোচ্চ আদালতে উপস্থাপনের জন্য আমাদের তিনি বলেছেন।’ অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘হাই কোর্ট বিস্তারিত শুনানি করে ম্যাডামকে জামিন দিয়েছে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে এবং আমার ৫০ বছরের ক্রিমিনাল প্র্যাকটিসে পাঁচ বছর সাজার পর হাই কোর্ট বিভাগ যখন জামিন দেন, উচ্চ আদালত সেই জামিন কখনো স্থগিত করেনি। এখানে শুধু স্থগিতই করেনি, এখানে তারা পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য দীর্ঘ সময় দিয়ে তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছে। আমরা আশা করি, বিশ্বাস করি, দেশে যদি আইনের শাসন বিন্দুমাত্র থাকে, তাহলে অবশ্যই ৮ তারিখে ম্যাডাম জামিন পাবেন।’ অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমরা ম্যাডামকে দেখতে এসেছিলাম আইনজীবী হিসেবে। ম্যাডাম খুবই অসুস্থ। তার বাঁ হাত তিনি নাড়াতে পারেন না। তা শক্ত হয়ে  গেছে। ঘাড়েও তার সমস্যা আছে। অর্থাৎ এ রকম একটি স্যাঁতসেঁতে জায়গায় বন্দী থাকা অবস্থায় যে রকম অবস্থা হয় তা-ই ম্যাডামের হয়েছে। ম্যাডামের বয়সও চিন্তা করতে হবে। তার বয়স ৭৩ বছরের ওপরে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, এখনো বলছি, ম্যাডামের যে চিকিৎসা দরকার তা জেলখানায় সম্ভব নয়। ম্যাডামের চিকিৎসা ইউনাইটেড হাসপাতালে হওয়া দরকার। আপনারা দেখেছেন, জেল কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছে তার চিকিৎসার জন্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক মামলায় তিনি আজকে বিনা চিকিৎসায় জেলখানায় কষ্ট পাচ্ছেন। এটা খুবই দুঃখজনক।’

প্রায়ই জ্বরে ভুগছেন খালেদা জিয়া : কারাগারে খালেদা জিয়া প্রায়ই জ্বরে ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার নিকটাত্মীয়দের সাক্ষাৎ হয়েছে। তাদের কাছ থেকে আমি জানতে পেরেছি, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। গতকাল আমরা খবর পেয়েছি, তার হাঁটু ও শরীরে প্রচণ্ড ব্যথাসহ নানা জটিল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। স্যাঁতসেতে পরিত্যক্ত কক্ষে থাকায় এখন তিনি প্রায়ই জ্বরে ভুগছেন এবং কাশি লেগেই আছে। ধুলাকীর্ণ এ রকম অবস্থায় সাধারণত নিউমোনিয়ার আশঙ্কা থাকে। তার চোখের ব্যথা এখনো সারেনি।’ গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

 রিজভী আহমেদ বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও এখনো তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কিন্তু সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষ বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসার বিষয়ে কোনো কর্ণপাতই করছে না। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে সরকারের একটি গভীর দুরভিসন্ধি আছে। অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে তার পছন্দসই গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার দাবি জানাচ্ছি।’ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মামুন আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আসাদুল করিম শাহিন, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow