Bangladesh Pratidin

ফোকাস

  • চাটাইয়ে মুড়িয়ে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান!
  • কেরানীগঞ্জে বাচ্চু হত্যায় ৩ জনের ফাঁসি, ৭ জনের যাবজ্জীবন
  • ৩ মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে খালেদার আবেদন
  • হালদা নদীর পাড়ের অবৈধ স্থাপনা ভাঙার নির্দেশ
  • আফগানিস্তানের বিপক্ষে টাইগারদের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা
  • কাদেরের বক্তব্যে একতরফা নির্বাচনের ইঙ্গিত: রিজভী
  • কলারোয়া সীমান্তে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ
  • বিএনপি নির্বাচনে না এলেও গণতন্ত্র অব্যাহত থাকবে: কাদের
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৫ মে, ২০১৮ ২২:৪৯
খালেদার জামিন নিয়ে রায় আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আপিল বিভাগের রায় ঘোষণা করা হবে আজ। এ বিষয়ে করা দুটি আপিল রায়ের জন্য আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় এক নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি  সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ রায় ঘোষণা করবে। এদিকে এই মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে। বিচারিক আদালতে রায়ের পর হাই কোর্টে তিনি জামিন পেলেও দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে তা আটকে যায়। এখন তার জামিনের বিষয়টি আপিল বিভাগেই ফয়সালা হবে। গতকাল দুটি আপিলের রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও তা হয়নি। এদিকে শুনানিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। সকালে রায় ঘোষণার আগ মুহূর্তে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে জানান, তার আরও বক্তব্য আছে। এ জন্য তিনি আরও একদিন সময় চান। পরে বেলা ১২টায় রাষ্ট্রপক্ষের শুনানির সময় নির্ধারণ হয়। ১২টার দিকে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা অ্যাটর্নি জেনারেলের শুনানির পর আদালত রায় ঘোষণার নতুন দিন ধার্য করে। এর আগে ৮ ও ৯ মে দীর্ঘ শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছিল।  দুপুরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আবারও খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বিগত চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী নাজমুল হুদা, বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মীর হেলাল ও বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে দুদকের মামলার দৃষ্টান্ত দেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এসব মামলার অভিযোগ আর এই মামলার অভিযোগ এক নয়। ওইসব মামলায় আসামিদের জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে মেডিকেল বোর্ডের যথাযথ মূল্যায়ন বা মতামত ছিল। কিন্তু এ মামলায় আসামির জামিন নিয়ে মেডিকেল বোর্ডের এ ধরনের কোনো মতামত বা মূল্যায়ন নেই। জীবন নিয়ে শঙ্কা না থাকলে এবং মেডিকেল বোর্ডের যথাযথ মতামত না থাকলে শুধুমাত্র অসুস্থতার যুক্তিতে জামিন মঞ্জুর হতে পারে না। নাজমুল হুদা, মোহাম্মদ নাসিম, ইকবাল হাসান টুকু ও মীর হেলালের মামলায় আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণ এনে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ৯০ কর্মদিবসে আপিল শুনানি শেষ না হলে, আসামি গুরুতর অসুস্থ হলে বা মৃত্যুর আশঙ্কা থাকলে এবং তিন বছরের বেশি সাজা না হলে অসুস্থতাজনিত কারণে আসামি জামিন পেতে পারেন। কিন্তু এই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো যুক্তি কার্যকর নেই। জরুরি অবস্থার সময় অসুস্থতার কারণে ওই চারজনের জামিন আবেদন হাই কোর্ট মঞ্জুর করেছিল। আপিল বিভাগেও তা বহাল থাকে। মাহবুবে আলম বলেন, ওইসব মামলায় রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের ঘটনা না থাকলেও এ মামলায় প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে এতিমদের টাকা তছরুপ হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আদালতে বলেন, আমরা অ্যাটর্নি জেনারেলের এই বক্তব্যের জবাব দেব না। বরং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ দিতে চাই যে, আমরা ওইসব মামলার শুধু উদাহরণ দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি এখানে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্য আমাদের পক্ষে এসেছে। এরপর আদালত রায়ের দিন ধার্য করে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে হাই কোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করে। শুনানির পর ১৯ মার্চ আপিল বিভাগ খালেদা জিয়াকে হাই কোর্টের দেওয়া জামিনের আদেশ ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করে। ১২ মার্চ খালেদা জিয়ার আবেদনের শুনানি করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তাকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয় হাই কোর্ট। দুদকের করা এ মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেয়। এ মামলার ছয় আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্যদের দশ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া আসামিদের আর্থিক জরিমানা করা হয়।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে চিকিৎসকের উদ্বেগ : কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ১ হাজার ৩০১ জন চিকিৎসক। খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন তারা। গতকাল এক বিবৃতিতে ডক্টরস অ্যাসোসিয়শেন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) সমর্থিত চিকিৎসকরা বলেন, ‘আমরা চিকিৎসকসমাজসহ দেশের ১৬ কোটি মানুষ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিনাতিপাত করছি। বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ। প্রতি রাতে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। তার কাশি ও জ্বর নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ডান চোখ লাল হয়ে ফুলে গেছে।’ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সার্ভভাইকাল স্পনডাইলোসিস রোগের ভয়াবহতার কারণে খালেদা জিয়ার বাঁ হাত ধীরে ধীরে অবশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোমরের সমস্যার কারণে তাঁর শরীরের বাঁ পাশ ও বাঁ পায়ের তীব্র ব্যথা নিচের দিকে নামছে। তিনি হাঁটাচলাও করতে পারছেন না।’ চিকিৎসকরা বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে জরাজীর্ণ, স্যাঁতসেতে পরিত্যক্ত, নির্জন কারাগারে বন্দী করে রেখেছে সরকার। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ জটিল নানা রোগে আক্রান্ত। ইতিপূর্বে তাঁর দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি তিনি লন্ডনে চোখের অপারেশনও সম্পন্ন করান। তিনি কোনো সাধারণ রোগী নন। চিকিৎসকদের পরিভাষায় তিনি একজন বিশেষ পরিচর্যাসাপেক্ষ রোগী। সে হিসেবে তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত পরিচর্যার সব সুবিধা নিশ্চিত করা জাতির কর্তব্য।’

চিকিৎসকরা বলেন, ‘খালেদা জিয়া রাষ্ট্রের একজন সিনিয়র সিটিজেন। আমরা চিকিৎসকসমাজ ১৬ কোটি মানুষের নেত্রীর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। সুচিকিৎসার জন্য তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তরের জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় এর দায়দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।’ বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক ডা. মবিন খান, অধ্যাপক ডা. বায়েছ ভূঁইয়া, অধ্যাপক ডা. সিরাজউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক ডা. আবদুল মান্নান মিয়া, অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. আবদুল কুদ্দুস, অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান মোল্লা, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. এ এস এম এ রায়হান, অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম, অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. খাদিজা বেগম, অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল হক, অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক প্রমুখ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow