Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৭ মে, ২০১৮ ২৩:০৬
রাজীবের মৃত্যুর দায় নিতে চায় না কেউ
আপিলের আদেশ ২১ মে
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই বাসের চাপায় হাত হারানোর পর রাজীবের মৃত্যুর ঘটনায় দায় নিতে চায় না দুই পরিবহন কোম্পানির কেউ। দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিআরটিসির বাসের পক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, তাদের কোনো দোষ নেই। অন্যদিকে স্বজন পরিবহনের আইনজীবী বলছেন, ওই গাড়িটি তাদের (স্বজন পরিবহন) নয়। গতকাল সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে শুনানির সময় দুই পক্ষের আইনজীবীরা এমন দাবি তোলেন। শুনানি শেষে আদেশের জন্য  আগামী ২১ মে সোমবার দিন ধার্য করেছে আপিল বিভাগ। শুনানিতে স্বজন পরিবহনের আইনজীবী পংকজ কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘ওই গাড়িটি রাজু নামে এক ব্যক্তির।’ বিআরটিসির আইনজীবী এবিএম বায়েজিদ বলেন, ‘আমরা তো কোনো দোষই করিনি।’ এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘একজন লোক মারা গেল, আপনারা দায় নেবেন না? লাভের অংশ তো ঠিকই নেন।’ দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানোর পর মারা যাওয়া রাজীব হাসানের দুই ভাইকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাই কোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহন। শুনানিতে বিআরটিসির পক্ষের আইনজীবী এবিএম বায়েজিদ বলেন, ‘আমরা ওই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী নই। স্বজন পরিবহনের গাড়িটি ওইদিন বাম দিক থেকে ওভারটেক করে এসে বিআরটিসির গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়। এতে আমাদের দোষের কিছু নেই। অতএব আমি দায়ী না হলে ক্ষতিপূরণের টাকা কেন দেব?’

এ সময় স্বজন পরিবহনের পক্ষের আইনজীবী পংকজ কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘ওইদিনের ঘটনায় স্বজন পরিবহন নামে যে গাড়িটি ছিল, সেটি স্বজন পরিবহন কোম্পানির গাড়ি নয়। গাড়িটি এ কোম্পানিকে মাসে ছয় হাজার টাকা দিত। এ কারণে গাড়িটি স্বজন নাম ব্যবহার করত।’ আসাদুজ্জামান রাজু নামে একজন ওই গাড়ির মালিক বলে তিনি আদালতকে জানান। আদালতে রাজীবের ক্ষতিপূরণের পক্ষে কথা বলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। গত ৮ মে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের নেতৃত্বাধীন হাই কোর্ট বেঞ্চ রাজীবের দুই ভাইকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনকে ৫০ লাখ করে মোট এক কোটি টাকা দিতে ওই আদেশে বলা হয়। হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে প্রথমে আপিল দায়ের করে বিআরটিসি। এরপর তাতে সংযুক্ত হয় স্বজন পরিবহন।

গত ৩ এপ্রিল বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার সামনে দুই বাসের রেষারেষিতে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেনের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজীব মারা যান। গত ৪ এপ্রিল রাজীবের দুর্ঘটনায় হাই কোর্টে রিট দায়ের করা হয়। আদালত ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow