Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৩ জুন, ২০১৮ ২৩:০৯
ভোট টার্গেটে মাঠে নামবে আওয়ামী লীগ
আবার জেলায় জেলায় জনসভায় নামছেন প্রধানমন্ত্রী, ১৫ টিমের জেলা-উপজেলায় সমাবেশ, ১২ লাখ পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ
রফিকুল ইসলাম রনি

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের স্থগিত ভোট ২৬ জুন। আর ৩০ জুলাই সিলেট, বরিশাল এবং রাজশাহী সিটিতে ভোট হবে। এই সিটি ভোটে জয়ের পাশাপাশি একাদশ সংসদ নির্বাচনে হ্যাটট্রিক জয় চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ জন্য ঈদের পর সিটি নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা, সংসদ নির্বাচনের অংশ হিসেবে সাংগঠনিক সফর, জেলা-বিভাগীয় সমাবেশ করা হবে। এ ছাড়া মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আসন ভাগাভাগিসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামবে দলটি। ঈদের পর জেলায় জেলায় জনসভা করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের পক্ষ থেকে ১২ লাখ পোলিং এজেন্টকে দেওয়া হবে প্রশিক্ষণ। দলের নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সিটি ও সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি বিএনপির আন্দোলনের দিকেও নজর রাখবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের নামে যেন ২০১৩-২০১৪ সালের মতো সহিংসতার চেষ্টা করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে ক্ষমতাসীনরা।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ঈদের পরই শুরু হচ্ছে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। এরপর সিলেট, রাজশাহী ও বরিশালে ভোট। সিটি ভোটের প্রস্তুতি শেষ করেই আমরা সংসদ নির্বাচনের জন্য আটঘাট বেঁধে মাঠে থাকব।’ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলন নিয়ে আমরা ভাবছি না। খালেদা জিয়াকেই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বের হতে হবে। ২০১৩-২০১৪ সালেও তারা আন্দোলন করেছিল। কিন্তু সফল হয়নি। এবারও তারা সফল হবে বলে মনে করি না।’   

সূত্রমতে, খুলনার সিটি ভোটে দলীয় প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকের জয়ের পর আওয়ামী লীগের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। খুলনার ধারাবাহিকতায় গাজীপুরসহ আরও তিন সিটিতে জয় চায় আওয়ামী লীগ। সে লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছেন ক্ষমতাসীনরা। ঈদের পরই সিলেট, রাজশাহী ও বরিশালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন দিতে গণভবনে বৈঠক করবে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড। আওয়ামী লীগ এখন থেকেই সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করে রাখতে চায়। ১২ লাখ পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি গঠন করা হচ্ছে জেলা ও বিভাগীয় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটি। ইতিমধ্যে নির্বাচন পরিচালনা কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। জুলাই মাসের মধ্যেই জোটের শরিকদের সঙ্গেও আসন ভাগাভাগি করা হবে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ঈদের পরই বৈঠক শুরু হবে। যেসব আসনে নতুন মুখ দেওয়া হবে, সেখানে তাদের ডেকে এলাকায় কাজ করতে বলা হবে। একই সঙ্গে জোটের প্রার্থীদের বিষয়টি সমাধান করা হবে।’ 

সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেশ কয়েকটি বিভাগীয় শহরে তিনি জনসভা সেরেছেন। কিছু দিন বিরতি দিয়ে আবার শুরু করবেন নির্বাচনী প্রচারণা। যেসব জেলায় বর্তমান মেয়াদে কখনই যাননি সেসব জেলাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী সফরের সূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। গত মার্চ থেকে আওয়ামী লীগের ১৫টি টিম জেলায় জেলায় সফর করছে। ঈদের পর আবার তারা জেলা ও উপজেলায় সমাবেশ, বর্ধিত সভা, কর্মিসভা শুরু করবেন। জানা গেছে, ঈদের দুই দিন পর থেকেই আওয়ামী লীগের ২৫ জন কেন্দ্রীয় নেতা প্রথমে গাজীপুর সিটিতে ভোটের মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালাবেন। এরপর এই টিমের নেতারা ছড়িয়ে পড়বেন সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি এলাকাতে। দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি তুলে ধরবেন সরকারের উন্নয়ন। একই সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা-সহিংসতার চিত্র।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই ১৫টিম সারা দেশে সাংগঠনিক সফর করেছিলাম। ঈদের পর আবারও শুরু করব। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মিসভা, বর্ধিত সভা এবং গণসংযোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়নগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরব। কোথাও কোনো সমস্যা থাকলে তা মিটিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ করেই আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেব।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow