Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৩ জুন, ২০১৮ ২৩:১১
একনিষ্ঠ ইবাদত আল্লাহর জন্যই
মুফতি আমজাদ হোসাইন হেলালী
একনিষ্ঠ ইবাদত আল্লাহর জন্যই

মাহে রমজান প্রায় শেষ। আজকের রাতটি ২৯তম রাত। হাদিসের বর্ণনা মতে, এই রাতও পবিত্র শবেকদর হওয়ার একটি সম্ভাবনাময় রাত। আমরা রমজানের ২৭তম রাতে যেভাবে আল্লাহর ইবাদত করেছি, ঠিক ওইভাবে ২৯তম রাতেও শবেকদর পাওয়ার উদ্দেশ্যে ইবাদত করতে হবে। আর আল্লাহর কাছে দোয়া করি ‘হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র শবেকদরের সব বরকত আমাদেরকে দান করুন’। রমজান ও শবেকদরের সব বরকত পাওয়ার জন্য শর্ত হলো ইবাদত হতে হবে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য। বাস্তবিক পক্ষে ওই ব্যক্তির ইবাদত আল্লাহ কবুল করেন যার ইবাদত শুধু আল্লাহর জন্যই হয়। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘তাদেরকে এ ছাড়া কোনো নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, নামাজ কায়েম করবে এবং জাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম’। (সূরা বাইয়্যেনাহ : ৫) তাই সব সময় আল্লাহর জন্যই ইবাদত হতে হবে। এমন যাতে না হয়  রমজান আসলে আল্লাহর হুকুম মানা হলো, রমজান চলে গেলে আল্লাহর হুকুম মানা ছেড়ে দেওয়া হলো, তাহলে কিন্তু খাঁটি মুমিন-মুসলিম হওয়া যাবে না। আমাদের একটু চিন্তা করতে হবে। মাহে রমজানে আল্লাহতায়ালা যেমনিভাবে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন অনুরূপ রমজান ছাড়াও তিনি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ রেখেছেন। অনুরূপ অন্যান্য ইবাদতও পূর্বের ন্যায় বহাল আছে। মাহে রমজানে রোজা রেখেছি এর দ্বারা আল্লাহর দেওয়া একটি ফরজ ইবাদত আমরা আদায় করেছি বরকতময় মাসে। এ ছাড়াও নামাজ, হজ, জাকাতসহ অন্যান্য ইবাদতের বিধানাবলি আগের মতোই হুবহু বহাল আছে এবং থাকবে। কোনোটাই বাদ দেওয়া বা বাদ দেওয়ার চিন্তাও করা যাবে না। অনেকে এমন আছে মাহে রমজানে ইবাদত করে। আবার দুঃখে বা কষ্টে পড়লে আল্লাহকে ডাকে। দুঃখ-কষ্ট চলে গেলে আল্লাহকে ডাকা দেড়ে দেয়। তাদের সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধাদ্বন্দ্বে জড়িত হয়ে আল্লাহর ইবাদত করে। যদি সে কল্যাণ প্রাপ্ত হয়, তাহলে ইবাদতের ওপর কায়েম থাকে। আর যদি কোনো পরীক্ষায় পড়ে, তবে পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়। সে ইহকালে ও পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত। এটাই প্রকাশ্য ক্ষতি’। (সূরা হজ : ১১) দুনিয়া বরবাদ হলো এভাবে যে সে বিপদ-মুসিবতে থাকল, আর এ অবস্থায় আল্লাহর ইবাদত না করায় তার আখেরাতও বরবাদ হলো। অন্য আয়াতে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন— ‘বল তো কে নিঃসহায়ের ডাকে সাড়া দেন, যখন সে ডাকে। এবং কষ্ট দূরীভূত করেন। আর তোমাদেরকে পৃথিবীতে পূর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত করেন। সুতরাং আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো উপাস্য আছে কি? তোমরা অতি সামান্যই ধ্যান কর’। (সূরা আন-নমল : ৬২) সুতরাং চলুন এখন থেকে সংকল্প করে নেই।  শ্বাস-প্রশ্বাস যতদিন থাকবে, আমরা ততদিন আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা হয়ে বেঁচে থাকব ইনশাআল্লাহ। আর দোয়া করি, হে আল্লাহ! আমাকে আপনার একনিষ্ঠ একজন বান্দা হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

লেখক : মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও খতিব, বারিধারা, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow