Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৮ ২২:৫৯
কোটা সংস্কার আন্দোলন
কাঁদছে রাশেদের মা সোহেল গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এ বি এম সুহেলকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল ভোরে রাজধানীর শান্তিনগরে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকি আক্তারের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন লাকি আক্তার। তবে সুহেলকে গ্রেফতারের বিষয়টি প্রথমে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অস্বীকার করলেও পরে পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, সুহেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে স্পষ্ট করেননি তিনি।

এদিকে গ্রেফতার রাশেদের মা সালেহা বেগম ছেলের জন্যে শুধু কাঁদছেন। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। থানা, ডিবি অফিস আর আদালত ঘুরতে ঘুরতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, আমার ছেলেকে ভিক্ষা দাও। চাকরির দরকার নেই। আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই।

এদিকে শান্তিনগরে ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী লাকি আক্তারের বাসা থেকে সুহেলকে গ্রেফতার করা হয়। লাকি আক্তার বলেন, ভোর ৪টার দিকে দরজায় ধাক্কা শুনে সুহেলই আমার ঘুম ভাঙায়। আমি জানতে চাইলাম, “কে?” তারা পুলিশের লোক বলে জানালেন। আমি বললাম, ‘কেন দরজা খুলব, কী বিষয়?’ তখন তারা বলেন, ‘দরজা না খুললে ভেঙে ভিতরে ঢুকব।’ তখন আমি বলি, ‘ঠিক আছে, বাড়িওয়ালাকে ডেকে আনেন, তার উপস্থিতিতে আমরা দরজা খুলব।’ তখন তারা বাড়িওয়ালা চাচাকে নিয়ে এলে সাড়ে ৪টার দিকে আমি দরজা খুলি।’ লাকি বলেন, ‘তারা ১০ জনের মতো ছিল। ঘরে ঢুকেই পুরো বাসায় তল্লাশি চালান। এ সময় সুহেলকে কেন নিয়ে যাচ্ছেন জানতে চাইলে তারা জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যুতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন।’ এদিকে আটক রাশেদকে এক পলক দেখার আশায় বিভিন্ন স্থানে ঘুরছেন তার মা সালেহা বেগম। তিনি কাঁদছেন। রাশেদের বাবা রাজমিস্ত্রি আর মা সালেহা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করে ছেলেকে পড়িয়েছেন। সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের একজন যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান। আন্দোলনে সহিংসতা সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেফতার রাশেদকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এর পরই ঝিনাইদহ থেকে ঢাকায় ছুটে আসেন তার মা। উঠেছেন তার ছেলের বউ রাবেয়া আলোর মিরপুরের বাসায়। ছেলের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গতকাল কথা বলতেই হাউমাউ করে কান্না করতে থাকেন সালেহা বেগম। বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তো আমাদের মা, দেশের মা। তার কাছে আমার সন্তানকে ভিক্ষা চাই। সে যেন মুক্ত হয়ে পড়ালেখা করতে পারে, বাকি পরীক্ষাগুলো যেন দিতে পারে আমি সেটা চাই। আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার সোনামণির মুক্তি চাই।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই মা বলেন, ‘আমি এখন কী করব, আমার সোনামণির কোনো দোষ নাই। তবুও আমি তার অপরাধের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। তিনি তো চাইলেই আমার ছেলেকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। আমার ছেলেকে ভিক্ষা চাই।’ রাশেদের স্ত্রী রাবেয়া আলো বলেন, ‘পরের বাড়িতে কাজ করে রাশেদকে লেখা পড়া করিয়েছেন। এখন তার সন্তানের হাতে হাতকড়া পরানো হয়েছে। একমাত্র ছেলের এ অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রাশেদের বাবাও অসুস্থ। তার কিডনি সমস্যা। এখন ছেলের জন্য মা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন।’ তিনি বলেন, টিউশনি করে আমরা দুজনে চলতাম। আজ রাশেদ রিমান্ডে। আর কবে দেখা হবে তার সঙ্গে আমাদের, জানি না।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow