Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১০ মে, ২০১৮ ২১:৫৯
সৌন্দর্য
ঘুরেফিরে পুঁতির মালা
ঘুরেফিরে পুঁতির মালা
♦ মডেল: তানজিন তিশা ♦ ছবি: ফ্রাইডে

ফ্যাশন ট্রেন্ডে হাজার মেটালের ব্যবহার বাড়লেও ঘুরেফিরে মেয়েদের পছন্দ আটকে যায় পুঁতির মালাতেই।  বিস্তারিত জানাচ্ছেন— তামিম মেহজাবিন

 

এইতো কিছুদিন আগেও একগাছি পুঁতির মালা আর একডজন রেশমি চুড়ি ছিল উঠতি বয়সের মেয়েদের আদুরে আবদার। শহর কিংবা গ্রামের মেলায় কোনো মেয়ের চাওয়া ওই পুঁতির মালাতেই আটকে থাকত। মালার সঙ্গে হয়তো যোগ হতো আলতা, ফিতা, টিপ, ঠোঁটপালিশ, নখপালিশ। কিন্তু পুঁতির মালায় জড়িয়ে থাকা প্রেমকাব্য তাদের কাছে পেত অন্যরকম মর্যাদা। প্রেয়সীর মন পেতেও প্রেমিক না যুবকের ভরসা হতো সেই পুঁতির মালা-ই।

 

যুগ বদলেছে। বদলেছে মেয়েদের ফ্যাশন ট্রেন্ড। ব্যবহূত অনুষঙ্গে পড়েছে নানা সংস্কৃতির প্রভাব। সস্তা পুঁতির জায়গায় রকমারি সব মেটাল, বিডস, স্টোনের আধিপত্য দেখা গেছে। সোনালি, রুপালি, অ্যান্টিক, অক্সি, প্রক্সি কত না রঙে তাদের উপস্থিতি। ক্রিস্টাল পাথরের ব্যবহারও হলো রমরমা। হালকা, ভারী, মাঝারি সব ধরনের মালা পাওয়া গেছে এসব উপাদানে। কিন্তু সব কিছুর ভিড়ে ঘুরেফিরে জায়গা করে নিয়েছে সেই পুরনো পুঁতির মালা। নতুন নতুন ডিজাইন নিয়ে পুঁতির মালা ফিরেছে ফ্যাশন ওয়ার্ল্ডে। 

 

চলতি ট্রেন্ডে বাঙালি মেয়েদের পোশাক রীতিতেও লেগেছে ব্যাপক পরিবর্তনের ছোঁয়া। তারা আজ শুধু শাড়ি বা থ্রি-পিসে আটকে নেই। পশ্চিমা রীতির প্যান্ট, শার্ট, টপস তো পরছেনই সঙ্গে ফিউশন ধর্মী কুর্তি, ফতুয়া, কাতুয়াও পরছেন খুব স্বাচ্ছন্দ্যে। পরিবর্তিত এই পোশাক রীতিতে উপযুক্ত অনুষঙ্গের চাহিদা বেড়েছে। আর তাইতো মেয়েদের ব্যবহার্য অনুষঙ্গ আয়োজনে বিক্রেতারাও ব্যতিব্যস্ত। রকমারি এসব আয়োজনে সমান গুরুত্ব পাচ্ছে হরেক রমক পুঁতির মালা। ছোট, বড়, মাঝারি পুঁতির এসব মালার কোনোটি এক রঙা, কোনোটি হাজার রঙের মিশেলে বানানো। কিছু মালা চিকন গড়নের, কিছু আবার চওড়া। কোনো মালা গলার কাছে নেকলেসের মতো বেশকিছু জায়গা নিয়ে লেগে থাকে, কোনোটি থাকে অনেকখানি ঝুলে। ইদানীং মখমলের চোকার নেকলেসগুলোতেও পুঁতির ডিজাইন দেখা যাচ্ছে। মেয়েরা শার্ট, ফতুয়া, কুর্তি, কামিজ অথবা গাউনের সঙ্গে পরছেও খুব স্বাচ্ছন্দ্যে।

 

ভারতীয়, পাকিস্তানি, আফগানি গহনার প্রতি আকর্ষণ বেড়েছে সামাজিক যোগাযোগের কল্যাণে। ভিন্ন এসব সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ও যোগাযোগ বেড়েছে সবার। তাছাড়া আমাদের সংস্কৃতিতে ভারতের রাজস্থানি চুড়ি, জয়পুরী পুঁতির মালার কদর ছিল অনেক আগে থেকে। ইদানীং আমাদের মেয়েরা এসব ভিনদেশি গহনার প্রতি দারুণভাবে ঝুঁকে পড়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য হলো মনোহরি পুঁতির মালা। মালাগুলো দেখতে যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনি যে কোনো পোশাকের সঙ্গে মানিয়েও যায় বেশ।

বাজারে পাওয়া যাচ্ছে হরেক রকম পুঁতির মালা। মালাগুলোর দামও থাকছে সীমিত। ১৫০ টাকা থেকে প্রতিটি পুঁতির মালার দাম শুরু। ডিজাইন ও মার্কেট প্লেসের ওপর এর দাম কমবেশি হয়। আজকাল অনলাইন শপ থেকেও পছন্দের পুঁতির মালাটি বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আপনি যদি খুব বেশি পরখ করে, দশটা দোকান ঘুরে সবচেয়ে সুন্দর মালাটি কিনতে চান তাহলে সোজা চলে যেতে পারেন ঢাকার চাঁদনী চক, গাউসিয়া, নিউ মার্কেটে। থরে বিথরে পুঁতির মালার এই আয়োজন সাজিয়ে বসে আছে দোকানিরা। একটু দরদাম করে কিনতে পারলে তো কথাই নেই। এ ছাড়াও বসুন্ধরা সিটি, কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি, রাজধানী সুপার মার্কেট, মৌচাকসহ বড় যে কোনো মার্কেটে পছন্দের পুঁতির মালাটি পেয়ে যাবেন।

এই পাতার আরো খবর
সর্বাধিক পঠিত
up-arrow