Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ৮ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৭ জুন, ২০১৮ ২২:০৬
ঈদের দিনের সাজ আয়োজন
তামিম মেহজাবিন
ঈদের দিনের সাজ আয়োজন
♦ পোশাক ও ছবি : ডিমান্ড

ঈদ মানে বেজায় খুশি, চারদিকে আনন্দ। উৎসব, অতিথি আপ্যায়ন, ঘুরে বেড়ানো, এককথায় দারুণ ব্যস্ততা। এই আনন্দের মাঝেও ঝক্কি ঝামেলার কমতি নেই।

 

এত কিছুর পর ঈদের আনন্দের সঙ্গে নিজেকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে চান সবাই। ঈদের পোশাকটা কেমন হবে তা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন সবাই। সারা দিন অনেক কাজ আর ঘোরাঘুরি করা হয়। তাই একটু আরামদায়ক পোশাক পরিধান করাই ভালো। এক্ষেত্রে হালকা সুতির পোশাক হলে বেশি ভালো হয়। ছেলেদের নতুন পাঞ্জাবি ছাড়া ঈদ যেন ঠিক জমে না। যেহেতু গরম তাই বেছে নিতে পারেন সুতি কিংবা মসলিনের পাঞ্জাবি। নামাজ আর প্রতিবেশীর সঙ্গে কুশল বিনিময়ে সকাল ও দুপুর কেটে যায় আলখেল্লা পাঞ্জাবির ভূষণে। বিকালটাকে রাঙিয়ে তুলতে অনেকেই বেছে নেন শার্ট কিংবা টি-শার্ট। আর মেয়েরা শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, ফতুয়া, জিন্স যে পোশাকই পরবেন খেয়াল রাখবেন সেটা আপনার জন্য আরামদায়ক হচ্ছে কিনা। পছন্দের সঙ্গে মিল রেখে শিফন বা জর্জেটের পোশাক, জামদানি বা টাঙ্গাইলের শাড়িও পরতে পারেন। ঈদ মানে আনন্দ। তাই এই দিনে পছন্দের পোশাকটিই পরুন।

 

ঈদের দিনে পোশাকের সঙ্গে মানানসই সাজটাও যে ঈদ উৎসবের একটি অংশ এ কথা কোনো রমণীরই ভুল হয় না। সেই অনুযায়ী সকাল, দুপুর এবং রাতের সাজ এবং সেই সঙ্গে পোশাকটা কী হবে সেটাও আগে থেকেই ঠিক করে নিন।

আকাঙ্ক্ষা’স গ্ল্যামারস ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার জুলিয়া আজাদ বলেন, ‘ঈদের সাজটা চমকপ্রদ না হলে যেন ঈদ উৎসবটাই ম্লান হয়ে যায়। মেয়েদের সাজে সময় ও আবহাওয়া বুঝে নেওয়া উচিত। আবার ট্রেন্ড বুঝে হাওয়া বদল করাও যে আরেকটি ফ্যাশন। সাজের ক্ষেত্রে গত দুই বছরে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। মেয়েদের কাছে নো মেকআপ লুকই বেশি পছন্দের। তাছাড়া এবারের ঈদটাও হবে তীব্র গরমের ভিতর। তাই সাজগোজে যত সাধারণ থাকা যায় ততই ভালো। তবে পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে মেকআপ নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। চুলের সাজেও খুব বেশি পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। স্ট্রেইট চুলের ফ্যাশনটা বর্তমানে বেশি। হেয়ার কাট যার যার রুচির ব্যাপার। তবে চুলের কালারের ব্যাপারে অনেকটায় নিরুৎসাহিত মনে হচ্ছে তাদের। মূলত ন্যাচারাল লুকেই ছিমছাম উপস্থাপনা গুরুত্ব পাচ্ছে।’

 

ঈদের সকালে কাজের চাপ একটু বেশি থাকে। তাই চলাফেরা করতে সুবিধা হয় এমন কোনো পোশাকই সকালের জন্য বেছে নিন। সকালে যারা রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকবেন তারা হালকা সেজে নিতে পারেন। ভারী মেকআপ এ সময় না নেওয়ায় ভালো। চোখে সামান্য কাজল, ঠোঁটে ন্যাচারাল লিপস্টিক আর খোঁপায় বাঁধা চুল ছড়িয়ে দেবে শুভ্রতা।   যেহেতু এবারের ঈদ গরম আর বৃষ্টির শেকলে বন্দী তাই দুপুরের সময়টাতে বাড়িতেই থাকার চেষ্টা করুন। দুপুরে সামান্য ফাউন্ডেশনের পর পাউডার মেখে হালকা করে ব্লাশন বুলিয়ে নিন। ঠোঁটের পলবে দিন পছন্দের লিপস্টিক। চোখের সাজে ভিন্নতা আনতে শ্যাডো আর আইলাইনার দিতে পারেন। পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কানে আর গলায় ছোট গয়না আর হাতে আংটি পরতে পারেন।

 

ঈদের মূল আয়োজনটাই হয়ে থাকে সন্ধ্যা বা রাতে। তাই ঈদের রাতের সাজ নিয়ে একদমই ভাববেন না। রাতে নিজের ইচ্ছামতোই সাজুন। তবে খুব বেশি ভারী মেকআপ এই গ্রীষ্ম-বর্ষায় মানাবে না। তাই পরিমিত হালকা মেকআপ নেওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। মুখে, গলায় ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন। সাজ বেশি সময় স্থায়ী করতে স্পঞ্জ পানিতে ভিজিয়ে মুখে চেপে ফাউন্ডেশন বসিয়ে নিন। মুখে দাগ থাকলে সহজে কনসিলার ব্যবহার করুন। এরপর হালকা করে ফেস পাউডার দিয়ে নিন। চোখে মাশকারা, আইলাইনার এবং গাঢ় রঙের শ্যাডো ব্যবহার করুন। রাতের মেকআপটা একটু ভারী করুন। ঠোঁটের লিপস্টিকের রঙের ক্ষেত্রেও একটু গাঢ় রংটাই বেছে নিন।

 

ঈদের সকালে ব্লো ড্রাই করে চুল ছেড়ে রাখলে ভালো দেখাবে। চাইলে বেঁধেও রাখতে পারেন। দুপুরে ঝুঁটি করতে পারেন, আবার চাইলে টুইস্ট করে বাঁধতে পারেন। ফ্রেঞ্চ বেণিও মানানসই। রাতের জমকালো সাজে চুল কোঁকড়া করে ছেড়ে রাখুন। সাজ যেহেতু হালকা, তাই ভারী গয়না আর মানানসই এক্সেসরিজ চেহারায় ছড়াবে ঈদ উৎসবের আমেজ।

এই পাতার আরো খবর
সর্বাধিক পঠিত
up-arrow