Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ৮ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৭ জুন, ২০১৮ ২২:০৮
উৎসবের রূপকাহন
ফেরদৌস আরা
উৎসবের রূপকাহন
♦ পোশাক ও ছবি : লা রিভ

সাধারণ সাজ, কিন্তু দেখাচ্ছে জমকালো। উৎসবের সাজ ও প্রস্তুতি তো থাকা চাইই। এজন্য প্রয়োজন আগাম প্রস্তুতি। প্রাণবন্ত থাকুন উৎসবের প্রতি মুহূর্ত।

 

ঈদুল ফিতর ঘরের দুয়ারে। আর তাই তো সারা দেশ সেজেছে উৎসবের আমেজে। ঈদ প্রস্তুতিতে নগরীতে জমেছে কেনাকাটা। সেই সঙ্গে বিউটি জোন এবং পারলারগুলোতে চলছে আগাম বুকিং। উদ্দেশ্য ঈদের দিন নিজের সৌন্দর্য বাড়িয়ে সবার কাছে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলা।

 

উৎসবের সাজ ও প্রস্তুতি নিয়ে আকাঙ্ক্ষা’স গ্ল্যামারস ওয়ার্ল্ডের বিউটি এক্সপার্ট জুলিয়া আজাদ বলেন, ‘সব পাড়াতে এখন ঈদের আমেজ। রোজা রাখা আর সারা দিন ঈদের কেনাকাটার দৌড়ঝাঁপে দেহে ক্লান্তি চাপলেও ঈদ প্রস্তুতি বলে সবই সয়ে নিচ্ছেন ঠিকই। তবে ঘরে ফিরে রূপকাহনের খেয়াল রাখা তো চাই! তাছাড়া ঈদে লাবণ্যময়ী চেহারা পেতে দুই সপ্তাহ আগে থেকে রূপচর্চায় মনোনিবেশ করা উচিত। রমজানের প্রতিটি দিন ত্বকের ক্লান্তি দূর করতে মধুর সঙ্গে মাল্টার রস মিশিয়ে ত্বকে লাগান। সার্কুলেশন ম্যাসাজ করে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।’

 

ঈদের আগের প্রস্তুতি

ঈদের বাকি কয়েক দিন। দিন গুনে সময় নষ্ট না করে আজ থেকেই যত্ন নেওয়া শুরু করুন। এজন্য প্রতিদিন পারলারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ঘরোয়া উপায়েই বাড়াতে পারেন ত্বকের উজ্জ্বলতা।

 

মনে রাখবেন, সব ধরনের ত্বকে সব ট্রিটমেন্ট নয়। তৈলাক্ত ত্বক, শুষ্ক ত্বক এবং মিশ্র ত্বকের ধরন অনুযায়ী ঘরোয়া যত্ন নিন। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা চালের গুঁড়ার সঙ্গে টক দই ও শসার রস মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। কয়েক দিন ব্যবহারে ত্বকের মরা চামড়া উঠে উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে। শুষ্ক ত্বকে দুধ ও মধুর মিশ্রণই যথেষ্ট। কাঁচা হলুদ বেটে এই মিশ্রণে দিলে ফল ভালো পাওয়া যাবে। তবে যদি কারও হলুদে এলার্জি থাকে তাহলে এই মিশ্রণে কাঁচা হলুদ বাটা যোগ করার দরকার নেই। যাদের ত্বক স্বাভাবিক তারা চালের গুঁড়া, দুধ, মধু, শসা ও গাজরের রস মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। ত্বকে লাগানোর পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে।

 

একইভাবে চুলের যত্নেও সমান মনোযোগ না দিলেই নয়। যাদের চুল শুষ্ক, তারা প্রতিদিন ঘুমানোর আগে তেল হালকা গরম করে ব্যবহার করুন। যাদের চুল তৈলাক্ত, তারা দু-একদিন অন্তর অন্তর তেল ব্যবহার করুন। তেল ব্যবহারের পর বড় একটা টাওয়েল হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। সব ধরনের চুলেই এই চর্চা করা যাবে। উৎসবের আগে অনেকেই চুল কালার করান। কালারিংয়ের পর মাইন্ড প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন। রং ধরে রাখতে কালার প্রোটেকশন শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন। এতে উজ্জ্বল ও ঘন দেখাবে। চুলকে আরও উজ্জ্বল দেখাতে চাইলে সিরাম ব্যবহার করতে পারেন।

 

ঈদের আগের সময়টা শুধু ত্বকের যত্ন নিলেই তো হবে না, সঙ্গে ঘাড় ও গলার যত্নও নিতে হবে। তাই সারা দিনে খুব বেশি নয়, মাত্র ১০ মিনিট সময় বের করে একটু যত্ন নিন। গোসলের আগে দুধের সর, চালের গুঁড়া, বেসন, টকদই ও কাঁচা হলুদ বাটা একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন। শুকিয়ে গেলে আলতো ঘষে গোসল সেরে নিন। ত্বক নরম হবে, ডার্ক প্যাঁচের সমস্যাও কমবে।

 

পাশাপাশি খেয়াল রাখুন হাত-পায়েরও। দিনশেষে বাড়িতে ফিরে শ্যাম্পু ও লেবুর রস মেশানো হালকা গরম পানিতে হাত-পা ১০ থেকে ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে। পায়ের গোড়ালি ঝামা পাথর দিয়ে আলতো করে ঘষে মরা কোষ তুলে ফেলতে হবে। আর নরম ব্রাশ দিয়ে হাত-পায়ের ত্বক ঘষলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। ঈদের আগে মেনিকিউর ও পেডিকিউর করাতে পারেন। এ ছাড়াও পুরো শরীর ম্যাসাজ বা স্পেশাল প্যাক ও স্ক্রাবিংয়ের জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে ভালো।

এই পাতার আরো খবর
সর্বাধিক পঠিত
up-arrow