Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৮ ২১:৩৮
সুস্বাস্থ্য
দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার চিকিৎসা
দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার চিকিৎসা

অনেকেই দীর্ঘদিন যাবৎ শরীরের ব্যথা-বেদনায় ভুগে থাকেন। বিশেষত ঘাড় ব্যথা, কোমর ব্যথা, হাঁটু ব্যথা, শোল্ডার জয়েন্ট ব্যথা। এর মধ্যে  দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা-বেদনার বিভিন্ন ধরনের কারণও। যার মধ্যে অন্যতম কারণ ডিজেনারেটিভ ডিজিজ বা বয়সজনিত হাড় ক্ষয়। সারভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিস, লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস ইত্যাদি। এর বাইরেও রয়েছে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস বা স্পন্ডাইলো আর্থ্রোপ্যাথি ইত্যাদির মতো বেশকিছু কারণ।

 

স্পন্ডাইলোসিস

এটি মেরুদণ্ডের কশেরুকাগুলোর ক্ষয়জনিত রোগ। এখানে কশেরুকাগুলোর ক্ষয় হয়। পাশাপাশি কিছু ছোট ছোট নতুন হাড়ের বৃদ্ধি হয়, যেটাকে মেডিকেল পরিভাষায় ‘অস্টিওফাইট’ বলা হয়। স্পন্ডাইলোসিসে দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী স্পেস বা গ্যাপ কমে যায়। ফলে নার্ভ রুটের ওপর চাপ পড়ে এবং রোগী নার্ভের ডিস্ট্রিবিউশন অনুযায়ী ব্যথা অনুভব করে। যখন এটি মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে হয়, তাকে মেডিকেল ভাষায় সারভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিস এবং যখন মেরুদণ্ডের কোমরের অংশে হয় তখন এটাকে লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস বলা হয়।

অস্টিওআর্থ্রাইটিস

এটিও একটি ডিজেনারেটিভ ডিজিজ বা বয়সজনিত জয়েন্টের অভ্যন্তরীণ গঠনের ক্ষয়রোগ। এই রোগে জয়েন্টের ভিতরে অবস্থানরত কার্টিলেজগুলো ও জয়েন্ট সারফেসের ক্ষয় হতে থাকে। জয়েন্টের অভ্যন্তরীণ সাইনোভিয়াল ফ্লুইডগুলোও কমে যায়। যার ফলে জয়েন্টের ভিতরের স্পেস কমে যাায়। তখন আক্রান্ত রোগীর জয়েন্ট নাড়াতে কষ্ট হয়। যদি তার হাঁটুতে অস্টিওআর্থ্রাইটিস হয়, তাহলে রোগী নিচে বসতে পারে না, নামাজের মতো বসতে পারে না, টয়লেটে বসতে কষ্ট হয়, সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করতে পারে না ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।

 

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস 

এটি একটি অটো-ইম্যুন ডিজিজ যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এই রোগে আমাদের হাত ও পায়ের ছোট ছোট জয়েন্টগুলো আক্রান্ত হয়ে থাকে। জয়েন্টগুলো ব্যথা করে, ফুলে যায়, বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে উঠার সময় রোগীর ব্যথা অনেক বেড়ে যায়। খানিকক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে কিছুটা কমে আসে।

 

অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস

এটিও একটি মেরুদণ্ডের বাত রোগ যা প্রথমে মেরুদণ্ডের নিচের অংশে আক্রমণ করে পরবর্তীতে ধীরে ধীরে মেরুদণ্ডের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগটির সবচেয়ে খারাপ দিক হলো এটি মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট করে মেরুদণ্ডকে শক্ত করে ফেলে, যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিটি মেরুদণ্ডের ঘাড় ও কোমরের অংশ ঘুরাতে পারে না, সামনের দিকে ঝুঁকতে পারে না  ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।

 

রোগ নির্ণয়

উপরোক্ত রোগসমূহের ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগীর উপসর্গ, চিকিৎসকের ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশনের পাশাপাশি কিছু কিছু প্যাথলজিক্যাল ও রেডিওলজিক্যাল টেস্ট করানোর প্রয়োজন পড়ে। যেমন- স্পন্ডাইলোসিস ও অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানের এক্স-রে করতে হয় এরং রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিসের ক্ষেত্রে এক্স-রের পাশাপাশি কিছু স্পেশাল টেস্ট করতে হয়। যেমন- আর এ টেস্ট, সি আর পি, এন্টি সিসিপি, এইচ এল এ বি ২৭ (HLAB 27) ইত্যাদি।

 

চিকিৎসা

উপরোক্ত ডিজিজ বা রোগগুলো দীর্ঘমেয়াদি রোগ। যেমন- স্পন্ডাইলোসিস বা অস্টিওআর্থ্রাইটিস হলো বয়সজনিত হাড়ের ক্ষয়রোগ। অতএব, এটাকে সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব নয়। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে  রোগীর কষ্ট কমানো সম্ভব। পাশাপাশি কিছু নিয়ম মেনে চললে ও চিকিৎসকের নির্দেশিত কিছু ব্যায়াম করলে রোগী ভালো থাকবেন। তেমনি রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস রোগ দুটিও একেবারে নিরাময়যোগ্য রোগ নয়। এ ক্ষেত্রেও রোগীকে কিছু ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ও নির্দিষ্ট কিছু থেরাপউটিক এক্সারসাইজ করতে হবে। এই রোগগুলো যেহেতু দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে, তাই এর চিকিৎসার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা যাবে না কারণ দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের ফলে বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই এই ধরনের রোগীদের চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা খুবই উপকারী ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। তবে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা নিতে হবে।

লেখক—

ডা. এম ইয়াছিন আলী

চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট

ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল

ধানমন্ডি, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
সর্বাধিক পঠিত
up-arrow