Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর, ২০১৫ ১৩:১৯ অনলাইন ভার্সন
সুন্দর চরিত্রের মরতবা
মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল খালেক
সুন্দর চরিত্রের মরতবা

রসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যে সেই হবে আমার অতি প্রিয় ও সর্বাপেক্ষা নিকটে উপবেশনকারী, তোমাদের মধ্যে যে সুন্দরতম চরিত্রের অধিকারী। আর সেই হবে আমার কাছে অপ্রিয় ও সবচেয়ে দূরে অবস্থানকারী, যে বেশি বেশি ও বড় বড় কথার মাধ্যমে অহঙ্কার করে।’ শান্তিপূর্ণ সমাজ ও দেশ গঠনে ভালো মানুষের প্রয়োজন। সুন্দর চরিত্রের অধিকারী ভালো মানুষরা সমাজ থেকে অশান্তি দূর করতে পারেন। পৃথিবীতে তারা গড়ে তুলতে পারেন সৌহার্দ্যরে পরিবেশ। যে কারণে রসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের সুন্দর চরিত্রের প্রতি তার পছন্দের কথা বলেছেন।

উপরোক্ত হাদিসে প্রমাণিত হয় অহঙ্কারী ও বাক্যবাগিশরা আমাদের সমাজের মানুষের কাছে প্রিয় নয়, তেমনি আল্লাহর রসুলের কাছেও অপ্রিয়। নিজেকে রসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় উম্মত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে অহঙ্কার ও বড় বড় কথা বলার কুঅভ্যাস ছাড়তে হবে। শুধু অহঙ্কারী হওয়া থেকে দূরে থাকা নয়, অপচয় এবং ভোগ-বিলাসীতা থেকেও দূরে থাকতে হবে। ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সোনা অথবা রুপার পাত্রে বা সোনা-রুপা মিশ্রিত পাত্রে পান করে, সে নিজের পেটে জাহান্নামের আগুন ঢালে (দারু কুতনি থেকে মিশকাতে)।

উপরোক্ত হাদিসে স্পষ্ট করা হয়েছে, সহজ-সরল জীবনযাপনই মুমিনদের কাম্য হওয়া উচিত। অপচয় ও ভোগ-বিলাসের মাধ্যমে জাহান্নামকে আমন্ত্রণ করা কারোরই উচিত নয়। পবিত্র কোরআনের সূরা আশ শামসের ৯ ও ১০ আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘সেই সফলকাম হবে যে নিজেকে পবিত্র করবে এবং সেই ব্যর্থ হবে, যে নিজেকে কলুষাচ্ছন্ন করবে।’ উপরোক্ত দুটি আয়াতে স্পষ্ট করা হয়েছে আল্লাহর কৃপা লাভ করতে হলে নিজেকে পবিত্র করতে হবে, সব ধরনের কলুষতা মুক্ত হতে হবে। নিজের আত্নাকে অন্ধকার থেকে বের করে আনতে হবে। আল্লাহর কাছে নিঃশর্তভাবে আÍসমর্পণ করতে হবে। আÍশুদ্ধির মাধ্যমে নিজেকে সংশোধন করতে হবে।

আমরা যদি পারিবারিক জীবনে, সামাজিক জীবনে, রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি চাই তবে আÍশুদ্ধির মাধ্যমে নিজেদের শুদ্ধ করতে হবে। নিজেদের বিবেক ও বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে কোনটি ভালো আর কোনটি মন্দ উপলব্ধি করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের পথের অনুগামী হওয়ার, তাঁর প্রতি অনুগতশীল হওয়ার তৌফিক দান করুন।

 লেখক : ইসলামী গবেষক।


বিডি-প্রতিদিন/ ২৯ অক্টোবর, ২০১৫/ রশিদা

আপনার মন্তব্য

up-arrow