Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৬ মে, ২০১৮ ২২:১১ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৬ মে, ২০১৮ ২২:২৩
পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র কলঙ্কিত : সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়
দীপক দেবনাথ, কলকাতা
পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র কলঙ্কিত : সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র কলঙ্কিত, এখানে মানুষের নিজস্ব অধিকার নেই। উল্টো দুর্বৃত্তদের প্রশয় দেওয়া হচ্ছে-এই অভিমত প্রকাশ করেছেন ভারতের লোকসভার সাবেক স্পীকার ও সিনিয়র বাম নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়।
ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গে যে সহিংসতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল এবং ২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে সে সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেই এই মন্তব্য করেছেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়।
বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি জানান ‘বর্তমান ক্ষমতাসীন দল যখন রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তখন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছিল, মানুষ তখন বদল চেয়েছিল। সেসময় আমি তার বিরোধী হলেও আমি ওই দলের (মমতা ব্যানার্জি) নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম। কিন্তু ক্ষমতায় এসে দেখা গেল যে উল্টো কাজ হচ্ছে’।
তার অভিমত ‘আমাদের দেশে গণতন্ত্র রক্ষা করাটা অত্যন্ত জরুরী। মানুষ তার ইচ্ছামতো রাজনীতি করবে, ইচ্ছামতো মত প্রকাশ করবে। তার দাবি জানাবে। কিন্তু আজকে এরাজ্যে গণতন্ত্র কলঙ্কিত, এবিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। মানুষের নিজস্ব অধিকার বলে কিছু নেই। যেটা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক তা হল দুর্বৃত্তদের প্রশয় দেওয়া। সাধারণ মানুষে মানুষে যে যোগাযোগ বা সম্পর্ক-তা এরাজ্যে নেই’।
লোকসভার এই সাবেক স্পীকারের অভিমত ‘আজ নির্বাচনটা একটা প্রহসনে পরিণত হয়েছে। একজন সাধারণ নারী ভোটাররের ওপর হামলা হচ্ছে, তাকে খুন হতে হচ্ছে। নির্বাচনে এখনও পর্যন্ত ২৩ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে একটা অসম্ভব অবস্থা এসে দাঁড়িয়েছে। আসলে পশ্চিমবঙ্গে দাঙ্গাবাজি করলে সুবিধা হয় এরকম একটা ধারনা তৈরি হয়েছে’।
এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে মানুষের মধ্যে চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন ‘এখানকার মানুষ যদি যেগে উঠতেন তবে এই অবস্থা তৈরি হত না। এর বিরুদ্ধে মানুষকে জাগিয়ে তুলতে হবে, মানুষকে সংগঠিত করতে হবে। দলমত নির্বিশেষে আমাদের সকলের উচিত একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি প্রতিরোধ গড়ে তোলা। না হলে যারা এই কাজ করছে তাদের কোন চেতনা হবে না, বা তাদের পথ পাল্টাবে না’।
সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও এদিনের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কবি মন্দাক্রান্তা সেন, অভিনেতা কৌশিক সেন, নাট্যকার রুদ্র প্রসাদ সেনগুপ্ত, কলকাতার সাবেক মেয়র ও সিপিআইএম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের মতো সমাজের বিভিন্ন জগতের বিদ্বজনেরা।
কবি মন্দাক্রান্তা সেন জানান ‘আমরা একটা নির্বাচন দেখলাম যেখানে গণতন্ত্রকে গণহত্যা করা হল। এটা আমাদের কাম্য ছিল না, এটা প্রহসনের থেকেও বেশি। অনেকটা দুস্বপ্নের মতো। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা তৈরি হল এটা হওয়ার কথা ছিল না কারণ বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বুক বাজিয়ে বলেছিল যে রাজ্যের সর্বত্র উন্নয়নের জোয়ার বইছে। সেখানে তাদের আত্মবিশ্বাসী হয়ে থাকার কথা কিন্তু উল্টে তারা ভয় দেখালেন কারণ তারা ভেবেছিলেন যে রাজ্যের ভোটাররা তাদের পাশে থাকবে না’। তার অভিমত ‘বর্তমানে এরাজ্যে সংস্কৃতি, সমাজ, সভ্যতা সবকিছু বিপন্ন’।  
বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য জানান ‘২০১১ সালে আমরা যে নতুন সরকারকে দেখেছিলাম তাদের কাছে আমাদের ন্যূনতম প্রত্যাশা ছিল রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশটা রক্ষিত হবে কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখলাম যে সরকারের তরফেই মানুষের সাধারণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চেতনার ওপর হামলা শুরু হয়ে গেল এবং বর্তমানে এই অবস্থাটা এমন পর্যায়ে নেমে এসেছে যে মানুষের স্বাধীন মতামতকে দুর্বৃত্তদের দিয়ে প্রতি-আক্রমণ করানো হচ্ছে’।

কৌশিক সেন জানান ‘রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে গেল তা ভয় পাওয়ার মতোই ঘটনা। এটা নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন’।

বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow