Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ২৩:০৪
বামজোট বিতর্ক
আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে যাব না : সেলিম
ঝর্ণা মনি
আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে যাব না : সেলিম
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। বরং শাসক শ্রেণির এই দুই বুর্জোয়া দলের বাইরে শিগগিরই সব বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তি এবং ব্যক্তিকে একত্রিত করে নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সেলিম বলেন, আগামী নির্বাচন শুধু আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি নির্বাচন হবে না, নির্বাচন হবে ত্রিশক্তির লড়াই। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের দ্বি-দলীয় ধারার বিপরীতে বিকল্প শক্তি হিসেবে মাঠে প্রস্তুত রয়েছে বাম প্রগতিশীল দল, সংগঠন ও ব্যক্তিদের তৃতীয় শক্তি। গতকাল (বুধবার) রাজধানীর পল্টনে সিপিবির দলীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আলাপচারিতায় জনগণের ভোটাধিকার, আগামী নির্বাচন পদ্ধতি, নির্বাচন নিয়ে সিপিবির ভাবনা এবং প্রস্তুতির বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সঙ্গে জোটে যাওয়া না যাওয়া প্রসঙ্গে সিপিবি প্রধান বলেন, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমমনা। এরা একটা হচ্ছে আপদ, আরেকটা হচ্ছে বিপদ। একদল ভিশন ২০২১ এবং ২০৪১ নিয়ে কথা বলে। আরেক দল ভিশন ২০৩০ নিয়ে কথা বলে। কিন্তু ভিশন ’৭১ নিয়ে কথা বলে না। এরা লুটেরা শ্রেণি। এদের থেকে আমরা ১৮০ ডিগ্রি উল্টো এঙ্গেলে চলি। তাই তাদের কারও সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। নির্বাচনের জন্য দেশ কতটা প্রস্তুত— এ প্রশ্নের জবাবে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, পাকিস্তান আমলে মানুষ সর্বজনীন ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করেছে। বাংলাদেশ আমলে বিশেষ করে দুটি সামরিক শাসকের আমলে ‘আমার ভোট আমি দেব’ দাবিতে সংগ্রাম করেছে। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের পতনের মধ্য দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ জাতির সামনে এসেছিল। কিন্তু ’৯০-পরবর্তী ক্ষমতাসীন দলগুলোর ক্ষমতালিপ্সার কারণে বাংলাদেশে নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতেই পারেনি। স্বৈরাচার আমলের মতো নির্বাচনকে তারা পুনরায় তামাশায় পরিণত করেছে। ফলে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, নির্বাচনী ব্যবস্থাকে মৌলিকভাবে ঢেলে সাজানো ছাড়া নির্বাচনের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে কমরেড সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগ চায় শেখ হাসিনার অধীনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আর বিএনপি চায় শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে সহায়ক সরকার। আমরা কোনোটাই চাই না। সংসদ নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে, কোনো সরকারের অধীনে নয়— এটিই আমাদের দাবি। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে এটি স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। এই বাম নেতা বলেন, অতীতের মতো আগামী নির্বাচনটা যদি আবারও পেশিশক্তি ও টাকার খেলায় পরিণত হয় সে ক্ষেত্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কোনোভাবেই আশা করা যায় না। তাই নির্বাচন কবে ও কোন ফর্মুলায় হবে, সেটি বিবেচনায় না রেখে সবার আগে গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।

কমরেড সেলিম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘এলাকাভিত্তিক একক প্রতিনিধিত্ব’-এর পরিবর্তে ‘জাতীয়ভিত্তিক সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা’ চালুর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় প্রতিনিধিত্বশীলতা নিশ্চিত হয় না। এ ব্যবস্থায় সংখ্যালঘিষ্ঠ ভোট পেয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতিনিধি হওয়া যায়। তিনি বলেন, সংখ্যানুপাতিক ব্যবস্থায় ব্যক্তির পরিবর্তে দলীয় ইশতেহার প্রাধান্য পাওয়ায় নির্বাচনে টাকার খেলা, পেশিশক্তির ব্যবহার হ্রাস পাবে। আগামী নির্বাচনে সিপিবিসহ বামশক্তিগুলোর প্রস্তুতি কেমন— এ প্রশ্নের জবাবে সিপিবি সভাপতি বলেন, ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত। আন্দোলন-সংগ্রাম এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি একই সঙ্গে চলছে। কারণ আমরা নির্বাচনকে আন্দোলনের বাইরে ভাবি না। তবে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন বলছে, নির্বাচনের জন্য জামানত দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা।

 এটি অন্যায়, অযৌক্তিক, অগণতান্ত্রিক। কারণ দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ একসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা চোখেও দেখেনি। এ ধরনের নির্বাচন হলে অংশগ্রহণ করব কিনা ভেবে দেখব।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow