Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৫ মে, ২০১৮ ২২:৫৩
বিএনপি খালেদাকে গণতন্ত্রের মা বানিয়ে তামাশা করছে : প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপি খালেদাকে গণতন্ত্রের মা বানিয়ে তামাশা করছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন, বিএনপি খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের মা’ আখ্যা দিয়ে জনগণের সঙ্গে তামাশা করছে। তিনি বেগম জিয়াকে ইঙ্গিত করে বলেন, যে ভোট চুরিতে এক্সপার্ট, মানুষ খুনে এক্সপার্ট, ?দুর্নীতিতে এক্সপার্ট, কালো টাকা সাদা করে, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে, সে আবার গণতন্ত্রের মা হয়! এটা গণতন্ত্র হলো কোথা থেকে? এটা দেশের মানুষকে নিয়ে তামাশা করা, আর কিছু নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া আসলে গণতন্ত্রের মা নয়, চোরের মা, দুর্নীতির মা। গতকাল সন্ধ্যায় গণভবনে ১৪ বছর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্বজন এবং আহতদের মধ্যে সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করতেই বিএনপি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। এই হত্যার বিচার চলছে। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি এর বিচারের রায় হবে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা উপযুক্ত শাস্তি পাক, সেটাই আমরা চাই। আমরা ন্যায়বিচার চাই। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এরকম ঘটনা কখনো ঘটেনি যেখানে একটা হামলা হয়েছে অথচ হামলার শিকার নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছে পুলিশ। হামলার পর আলামত নষ্ট করেছে এরপর জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছে।’ আমি তখন বিরোধীদলীয় নেতা, আমাকে হত্যার জন্য যদি তখনকার সরকারের প্রধান ও তার ছেলে মিলে ষড়যন্ত্র করে তাহলে সে দেশ কীভাবে চলে? তিনি বলেন, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী, তার কেবিনেটের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীরা এটার সঙ্গে জড়িত। এটা খুব স্পষ্ট বোঝা যায় তাদের উদ্দেশ্যই ছিল আমাদেরকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করা। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা করেছে। এ হত্যার সঙ্গে জিয়াউর রহমান যে জড়িত ছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই। গ্রেনেড হামলায় নিহতদের পরিবার ও আহতদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় গেছে, অনেকের বয়স হয়ে গেছে, অনেকের শরীরে স্প্লিন্টার, অনেকেই এরকম মানবেতর জীবনযাপন করছে, অনেকেই মারা গেছে। আমরা চেষ্টা করছি কিছু সহযোগিতা দিতে। কেবল এই হামলা না। বিএনপি-জামায়াত আমলে আওয়ামী লীগের যত নেতা-কর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছে, সবার পাশে থাকব। প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমালোচনা করে বলেন, তাদের অপকর্মের তো শেষ নেই। ব্যাংকের টাকা পয়সা লুটপাট করে খেয়ে চলে গেছে। সব বিদেশে পাচার করেছে। সেই পাচার করা টাকা ধরা পড়েছে আমেরিকায়, সিঙ্গাপুরে। কিছু টাকা আমরা ফেরত এনেছি। পাচার করা টাকা ধরা পড়ল বিদেশিদেরই কাছে। এ জন্য আমাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের মা নয়, চোরের মা, দুর্নীতির মা। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার কাজ তো এটাই ছিল। খুন খারাবি। আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। মেয়র নির্বাচনের পর ছয়জনকে হত্যা করল। জিয়াউর রহমান আসার পর থেকে আওয়ামী লীগের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। খালেদা জিয়াও একই কাজ করেছে। ঘরে থাকতে পারেনি কেউ। মেয়েদের ওপর যে অত্যাচার করেছে; একদিকে পুলিশ আরেকদিকে বিএনপির ক্যাডাররা, রাস্তায় ফেলে যে অত্যাচার করেছে, আমরা তো তা ভুলতে পারি না। এতিমের অর্থ আত্মসাতের মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচার একটা হয়ে গেছে। এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করলে যে অন্যায়, তার শাস্তি সে পাচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা উন্নত হয়েছি, উন্নয়নশীল দেশ হয়েছি, আজ স্যাটেলাইট পাঠিয়ে বাংলাদেশকে অন্য মর্যাদায় নিয়ে গিয়েছি। মাত্র ৯ বছরে বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক উন্নতি করেছি, আর কেউ তো তা পারেনি। জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের ক্ষমতায় এনেছে বলেই তো আমরা করতে পেরেছি। বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ওরা করবে কেন? ওরা রাজাকার-আলবদর-যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছে। জাতির পিতার খুনিকে ভোট চুরি করে এমপি বানিয়েছে। তাদের কাজই খুনি, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদ নিয়ে। এরা তো দেশের কল্যাণ চায় না। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তাদের হৃদয়ে পেয়ারে পাকিস্তান।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান : এদিকে সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধীদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্ত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এটা করেছে। আমরা আশা করি অন্যান্য দেশও আমাদের অনুসরণ করবে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রতিবন্ধিতা ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করেছে। এ জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্তকরণে এ সম্মেলন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট, অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অন ডিআইডিআরএম, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অটিজম বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow