Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৬ মে, ২০১৮ ২৩:০৯
কেমন বাজেট চাই
রপ্তানিমুখী সব শিল্পে প্রণোদনা প্রয়োজন
— আবদুস সালাম মুর্শেদী
রুহুল আমিন রাসেল
রপ্তানিমুখী সব শিল্পে প্রণোদনা প্রয়োজন

আসছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে রপ্তানিমুখী সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ— ইএবি সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী। শিল্প সহায়ক বাজেট তৈরির পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি এবং এর সূচকগুলো সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। তারপরও বলছি— শিল্প সক্ষমতা বাড়ানোর বাজেট প্রয়োজন। কোনোভাবেই যেন, করের বাড়তি চাপ করদাতাদের ওপর না পড়ে। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইএবি সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, শিল্পে ব্যবহূত কাঁচামালের ওপর আমদানি পর্যায়ে উেস আয়কর কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হোক। একই সঙ্গে ব্যক্তি-শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা হোক। এই দাবির যৌক্তিকতা হলো— বর্তমানে গড় মূল্যস্ফীতির তুলনায় করমুক্ত আয়ের সীমা জীবনযাত্রার আয় ও খরচের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে সব ব্যক্তিকে আয়করের আওতায় এনে করভুক্ত করতে হবে, যাতে ব্যবসায়ীদের ওপর এককভাবে চাপ না পড়ে। দেশের শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এনভয় গ্রুপের এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সরকারকে এবার বাজেট তৈরি করতে হবে। এটি বাস্তবতা। আরেকটা বাস্তবতা হলো— ব্যাংকে তারল্য সংকট। ঋণের সুদ দ্বিগুণ বা ডাবল ডিজিট। এই কয়েকটি দিক বিবেচনায় নিলে এবারের বাজেট চ্যালেঞ্জিং। বছরটিও চ্যালেঞ্জিং। যদিও দেশ উন্নয়নশীলের কাতারে এগিয়েছে। অর্থনৈতিক সূচকগুলো ভালো। এখন বিনিয়োগ প্রয়োজন। বাজেটে রপ্তানি খাতের জন্য পৃথক মুদ্রানীতি প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, রপ্তানির জন্য পৃথক এই মুদ্রানীতি প্রচলিত মুদ্রানীতির বাইরে আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকবে। এটি শুধু রপ্তানি খাতকে সহায়তা করবে। যেমন কোনো রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানার হঠাৎ কোনো সংকট হলো— তখন ওই শিল্পকে দ্রুত সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করবে রপ্তানি-মুদ্রানীতি। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সব রপ্তানিমুখী শিল্পের অবদান বিবেচনায় নিয়ে সরকারের কাছে প্রণোদনার প্রস্তাব করছি। কেননা— এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত তৈরি পোশাকশিল্পের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। সরকার রপ্তানি খাতকে সুরক্ষার জন্য প্রণোদনা প্রদান করছে। ওই প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় বস্ত্র খাত ও তৈরি পোশাকশিল্পসহ বেশ কিছু রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানকে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ শতভাগ রপ্তানিমুখী এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প হওয়া সত্ত্বেও এসব খাতে সুযোগ প্রদান করা হয়নি। বিজিএমইএ’র সাবেক এই সভাপতি আয়কর সংক্রান্ত প্রস্তাবে বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পের দুটি উপাদান হলো— বস্ত্র ও এক্সেসরিজ। বর্তমানে পোশাকশিল্প খাতের এক্সেসরিজের পুরো চাহিদাই স্থানীয়ভাবে মেটানো হচ্ছে। এ ছাড়া পোশাক খাতের উত্থান-পতনের সঙ্গে এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তবুও এই খাতের আওতাভুক্ত রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহ কখনো নগদ সুবিধা পায়নি। আবদুস সালাম মুর্শেদী আগামী বাজেটে কর কমানোর বিভিন্ন প্রস্তাবে বলেন, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য কর্পোরেট কর ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হোক।

টেরিটাওয়েল ও হোমটেক্সটাইল, গার্মেন্টস এক্সেসরিজ, প্যাকেজিং, ফিনিশড লেদার এবং প্লাস্টিক শিল্পের কর্পোরেট করও কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হোক। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্প খাতকে আলাদা না করে সব খাতকে একই হারে— অর্থাৎ, ১০ শতাংশ হারে কর প্রদানের ব্যবস্থা করা হোক। ইএবি সভাপতি নিরাপদ শিল্প খাত গড়ে তোলার জন্য প্রস্তাবে বলেন, কারখানা নিরাপদ, ঝুঁকিমুক্ত ও পরিবেশ বান্ধব করতে যে সব অগ্নি-নির্বাপক ও আধুনিক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, এলইডি বাল্ব, টিউবলাইটসহ ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। এসব পণ্যসামগ্রী শুল্কমুক্তভাবে আমদানির জন্য এসআরওভুক্ত করতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow