Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৭ মে, ২০১৮ ০২:১৬
খুলনায় অনিয়ম ফল বদলে দেওয়ার মতো নয় : ইডাব্লিউজি
নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কিছু অনিয়ম চিহ্নিত করেছে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর একটি মোর্চা; তবে তারা বলেছে, এসব অনিয়ম না ঘটলেও ভোটের ফলাফল একই থাকত। খুলনায় নির্বাচনের পরদিন গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের পর্যবেক্ষণে পাওয়া বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডাব্লিউজি)। মোট ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে তার ভিত্তিতে নিজেদের প্রতিবেদন দিয়েছে ইডাব্লিউজি।

ইডাব্লিউজির পর্যবেক্ষণে যেসব অনিয়ম উঠে এসেছে তা হলো— অবৈধভাবে ব্যালটে সিল মারার ঘটনা ২৮টি কেন্দ্রে, বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থানের ঘটনা ৪টি। ভোট কেন্দ্রের ভিতর ও বাইরে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ১৬টি। ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ১৮টি, ভোটারদের কেন্দ্রে নিতে প্রার্থীদের যানবাহন দেওয়ার ঘটনা ১৭টি এবং পর্যবেক্ষকদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৪টি। ভোট কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণার ঘটনা ১০টি। অনিয়মে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার, ১০টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা এবং পরে সাতটিতে ভোট গ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। ইডাব্লিউজির পরিচালক মো. আবদুল আলীম বলেন, নির্বাচনে কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংসতা এবং নির্বাচনী অনিয়মের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও বেশ কিছু কেন্দ্রে নির্বাচনী ফলাফল পরিবর্তনের জন্য সহিংসতা ও অনিয়ম করার প্রচেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু বিচ্ছিন্ন ওইসব ঘটনার ব্যাপকতা বেশি না হওয়ায় তা ভোটের ফলাফল পরিবর্তনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। অর্থাৎ তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো অনিয়ম না হলেও তালুকদার খালেকই বিজয়ী হতেন। আলীম বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষক দল ৩২ শতাংশ কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা দেখতে পেয়েছে; এর মধ্যে অবৈধভাবে ব্যালট পেপারে সিল মারা, ভোট কেন্দ্রের ভিতর ও বাইরে সংগঠিত সামান্য সহিংসতা, ভোট কেন্দ্রে অননুমোদিত মানুষের উপস্থিতি এবং ভোটারকে ভোট প্রদানে বাধার মতো ঘটনা ঘটেছে।

আলীম বলেন, এসব ‘বিচ্ছিন্ন’ ঘটনা ছাড়া নির্ধারিত সময়ে ভোট গণনা শুরু, ভোট গণনার সময় পোলিং এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ নিশ্চিত করা, গণনার আগে সব ব্যালট বাক্সে নিরাপত্তা সিল লাগানো ছিল। ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট এবং ৮৮ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর এজেন্ট দেখতে পেয়েছে ইডাব্লিউজির পর্যবেক্ষকরা। সংবাদ সম্মেলনে ইডাব্লিউজির আরেক পরিচালক ও জানিপপ চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, নির্বাচনে অনিয়মের বেশ কিছু ঘটনা আমরা হাজির করেছি। এসব ঘটনা তুলে ধরার অর্থ হচ্ছে ভবিষ্যতে নির্বাচনে যাতে এ ধরনের কোনো ছোট বা বড় কোনো অনিয়মের ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক প্রায় ৬৬ হাজার ভোটে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে হারিয়ে দেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow