Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১২ জুন, ২০১৮ ২৩:২০
ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম ১৪৩ শতাংশ বাড়তে পারে
নিজস্ব প্রতিবেদক

গৃহস্থালিতে গ্যাস সংযোগের জন্য নতুন করে কাউকে ডিমান্ড নোট দেওয়া হয়নি। আগে যাদের ডিমান্ড নোট ইস্যু করা হয়েছে, গৃহস্থালিতে সংযোগ দিলে তাদেরই আগে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে ঘোষণা দিতে হবে। তবে এখনো গৃহস্থালিতে গ্যাস দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কোনো নির্দেশনা পায়নি তিতাস। আর এবার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেলে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ঘনমিটারে গ্যাসের দাম ১৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। এমনকি তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের শুরুতেই এই দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে গৃহস্থালি এবং বাণিজ্যিক ভোক্তাদের ক্ষেত্রে এবার গ্যাসের দাম বাড়ছে না। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের গণশুনানিতে তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ওপর অনুষ্ঠিত গণশুনানি সংশ্লিষ্টরা এসব কথা বলেন। এই শুনানিতে কমিশন গঠিত সাত সদস্যের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি তাদের প্রতিবেদনে গ্যাসের গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৪৩ ভাগ দাম বৃদ্ধির সুপারিশ করে। শুনানিতে জানানো হয়, তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানি গড়ে শুধুমাত্র গ্যাসের দাম ৭৫ ভাগ বৃদ্ধির জন্য গত ২০ মার্চ কমিশনের কাছে একটি আবেদন করে। এর সঙ্গে গ্যাস উন্নয়ন তহবিল, জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল, সঞ্চালন ব্যয় ও বিতরণ ব্যয় ধরে এই দাম বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করেছে কমিশনের কারিগরি কমিটি। কমিশন বলছে, এখন নির্দিষ্ট শ্রেণির গ্রাহকরা গড়ে ৩ দশমিক ৪৪৯৩ টাকায় প্রতি ঘনমিটার গ্যাস কিনেন। সব ধরনের তহবিল এবং চার্জ ধরে এই গ্যাসের প্রতি ঘনমিটারে ১১ দশমিক ৭৪৪৩ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে তিতাস কর্তৃপক্ষ। কারিগরি কমিটি মনে করে এই দরে আট দশমিক ৪০৫২ টাকা রাখলে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তিতাসের কোনো লোকসান হবে না। কেবলমাত্র এলএনজি আমদানির কারণেই দেশে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে কারিগরি কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে। এখন দেশে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম এক দশমিক ৫৭৮৭ টাকা। আর দৈনিক গড়ে উৎপাদিত দুই হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সঙ্গে প্রতিদিন এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানির ফলে মিশ্রিত গ্যাসের দাম বাড়ছে। তিতাস তার প্রস্তাবে অন্যসব তহবিল এবং চার্জ ব্যতিরেকেই শুধু গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার এক দশমিক ৫৭৮৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ দশমিক ৩৭ টাকা করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু কারিগরি কমিটি বলছে— এই দাম বৃদ্ধি করা যেতে পারে ৬ দশমিক ৮২ টাকা। এতেও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩২২ ভাগ। এবার বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা, সিএনজি, ক্যাপটিভ পাওয়ার (শিল্প কারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্র) শিল্প গ্রাহকদের গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শুনানিতে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘তিতাস প্রতি বছর লাভ হোক না হোক, ২৫০ কোটি টাকা সরকার এবং শেয়ার মালিকদের দিচ্ছে। এ জন্য তাদের অতিরিক্ত অর্থ তুলতে হচ্ছে। তিনি বাপেক্সকে দেওয়া তিতাসের তহবিলের দুই হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। শুনানিতে ঢাবির অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, ‘গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে একটি সংকট তৈরি করা হয়েছে। আর এখন সেই সংকটের মাশুল দিতে হচ্ছে পুরো জাতিকে। গড়ে প্রতি বছর একটি কূপও খনন করা হয়নি। সিলেট ছাড়া অন্য কোনো এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে খুব একটা কাজ না হওয়াতে এখন এলএনজি আনতে হচ্ছে। যা দেশের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। বুয়েটের অধ্যাপক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এলএনজি আসছে এই খবরেই গৃহস্থালি গ্রাহকদের ডিমান্ড নোট ইস্যু করা হচ্ছে। আবার একটি মহল এ বিষয়ে তৎপর হয়েছে।’ তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মীর মশিউর রহমান বলেন, এখনো গৃহস্থালিতে গ্যাস দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কোনো নির্দেশনা পায়নি তিতাস। শুনানিতে কমিশনের চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম, সদস্য রহমান মুর্শেদ, মাহমুদুল হক ভূইয়া, মো. আবদুল আজিজ খান ও মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow