Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৩ জুন, ২০১৮ ২৩:১৩
বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা, ব্যাপক ক্ষতি
প্রতিদিন ডেস্ক
বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা, ব্যাপক ক্ষতি
বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে অনেক এলাকা —বাংলাদেশ প্রতিদিন

ঈদের আগে আকস্মিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট, খাগড়াছড়ি, ফেনী, রাঙামাটি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চল ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গবাদি পশুর মৃত্যুসহ বাড়িঘর ও অনেক ফসলি জমি নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানা যায়।

প্রতিনিধিসূত্রে জানা যায়, দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা উজানের পানিতে মৌলভীবাজারের মনু নদ ও ধলাই নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়। নদ-নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে আউশ ফসল, সবজি খেতসহ পাঁচ ইউনিয়নের অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, মনু নদের পানি বিপদসীমার  ১৭৫ সেন্টিমিটার ও ধলাই নদীর পানি ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে প্রতিরক্ষা বাঁধের অন্তত ২০টি এলাকা।

এদিকে পানি বেড়ে ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামের ১১ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মুহুরী নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও ফেনী সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

গতকাল সকাল থেকে মুহুরী নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগের দিন দিনভর ভারি বর্ষণে ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর ও বরইয়া অংশের দুটি বাঁধ ভেঙে অন্তত ১১ গ্রাম প্লাবিত হয়।

তবে প্রবল বর্ষণে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে, রামগড় ও দীঘিনালা উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বন্যায় ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে সহস্রাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। খরস্রোতা ফেনী ও মাইনী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে খাগড়াছড়ি শহরের দুই-তৃতীয়াংশ, রামগড় ও মহালছড়ির বিস্তৃত অঞ্চল এবং দীঘিনালার মেরুং বাজার পানিতে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট হয়ে গেছে। ভেসে গেছে কয়েক শ পুকুরের মাছ। রেড ক্রিসেন্ট ও যুব রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন।

এদিকে হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে হবিগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধ। মঙ্গলবার বিকাল থেকে নদীতে পানি বাড়তে থাকে। রাত ১১টা থেকে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম জানান, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেখানকার পানি নেমে খোয়াই নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি আরও বাড়বে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া তিন দিনের অবিরাম বৃষ্টিপাত ও সীমান্ত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাচালং নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ১৪টি গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। গ্রামগুলো হলো— করেঙ্গাতলী, বাঘাইহাট, বঙ্গলতলী, রূপকারী, কদমতলী, তুলাবান, গুচ্ছগ্রাম, মুসলিম ব্লক, ইমামপাড়া, মাস্টারপাড়া, গুনিয়াপাড়া, সরকারপাড়া, কলেজপাড়া ও পুরাতন মারিষ্যা।

পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় বাঘাইছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মার্কেটসহ বিভিন্ন পাকা ভবনে অবস্থান নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন দুর্গতদের জন্য এখনো কোনো ত্রাণ তৎপরতা শুরু করতে পারেনি। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দুর্গতদের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল ও অতিবর্ষণের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় লংগদু, জুরাছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, নানিয়ারচরের নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি ও কৃষিজমি পানিতে ডুবে গেছে।

মাটিচাপায় নিহত ১১ জনের সৎকার সম্পন্ন

নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড়ধসের মাটিচাপায় নিহত ১১ জনের সৎকার মঙ্গলবার সম্পন্ন হয়েছে। রাঙামাটিতে তিন দিন পর বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আর কোথাও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেনি। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোয় আশ্রয় নেওয়া লোকজন বাড়িঘরে পুনরায় ফিরতে শুরু করেছে। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কসহ রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে।

এ ব্যাপারে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ জানান, বাঘাইছড়িতে পাহাড়ি ঢলে বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে সেখানে বসবাসরত মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছে। তবে এই পানি হচ্ছে পাহাড়ি ঢল তাই বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেলে আস্তে আস্তে পানি কমে যাবে এবং গতকাল রাত থেকে বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। তাই যেসব এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে তা আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে এবং জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে আসছে। তার পরও আমরা প্রস্তুত রয়েছি এবং মঙ্গলবার বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছি যাতে আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষ এসে খাওয়ার কোনো সমস্যা না হয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow