Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১১ জুলাই, ২০১৮ ২৩:৪৪
প্রকৃতি
মেহেরপুরের মাটিতে মধ্যপ্রাচ্যের খেজুর
মাহবুবুল হক পোলেন, মেহেরপুর
মেহেরপুরের মাটিতে মধ্যপ্রাচ্যের খেজুর

মেহেরপুরের মুজিবনগরে ১০টি জাত নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের খেজুর চাষ। কয়েকটি জাত বাছাই করে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে বলে জানান কৃষি বিজ্ঞানীরা। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এ ফল উৎপাদনের দ্বার খুলতে যাচ্ছে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, খেজুর দেশে উৎপাদন করা সম্ভব হলে সহজে পূরণ হবে পুষ্টি চাহিদা। আর আমদানি করতে হবে না। উল্লেখ্য, শুষ্ক অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্য। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে মেহেরপুর অঞ্চলের। তারপরও বেলে ও বেলে-দোআঁশ মাটিতে খেজুর ভালো জন্মে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ধরনের মাটিতেই খেজুর গাছ রোপণ করা যায়। তবে পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা থাকতে হবে। মাটির গুণগতমান ও আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে মুজিবনগরে সৌদি আরবের খেজুর চাষ শুরু হয়েছে। ‘মুজিবনগর সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কুষ্টিয়া কেন্দ্র মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স চত্বরে ২০১৪ থেকে খেজুরের চাষ শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার, ওমান, দুবাই, ইরান, সৌদি, সুদান থেকে আজওয়া, আম্বার, লুলু, খালাছ, ডেগলেটনুর, কালমি, মাকতুম, ছুক্কারি, বাহারি ও মারইয়াম এই ১০টি জাতের বীজ নিয়ে আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কুষ্টিয়া। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বীজ বপন করা হয় কুষ্টিয়া সেচ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। সেই বীজের দুই হাজার চারা রোপণ করা হয় মুজিবনগর কমপ্লেক্সে। বপনের আড়াই বছরের মধ্যে ৪টি গাছে ফলও আসে। এ বছরে ১০টি গাছে খেজুর ধরে। মধ্যপ্রাচ্যে যে মানের ও স্বাদের ফল হয়, সেই মানের ফলই গাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে। খেজুর গাছের পরাগায়ণ পোকা-মাকড়, মৌমাছি কিংবা বাতাসের মাধ্যমে খুব কম হয়। তাই হাত দিয়ে অথবা মেকানিক্যাল পদ্ধতিতে পরাগায়ণ করতে হয়। বাগানে ১০০টি স্ত্রী গাছের সঙ্গে মাত্র ১টি পুরুষ গাছ থাকলেই পরাগায়ণের জন্য যথেষ্ট। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কুষ্টিয়া জোনের আওতায় মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স চত্বরে খেজুর বাগানের তত্ত্বাবধায়ক মহিবুল ইসলাম বলেন, একরপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০টির বেশি গাছ রোপণ করা যাবে না। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শহীদুল্লাহ জানান, এই খেজুর চাষে কিছু সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বর্ষাকালে পুষ্পমঞ্জুরিকে ঢেকে দিতে পারলে মধ্যপ্রাচ্যের মতোই ফল উৎপাদন করা সম্ভব। না হলে খেজুর চাষে সুফল পাওয়ার স্বপ্নপূরণ হবে না। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, মেহেরপুরের মাটিতে সব ধরনের আবাদ সম্ভব।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow