Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৮ ২৩:০৫
খুনিরা পেশাদার ব্ল্যাকমেইলার
এসবি কর্মকর্তা মামুন হত্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক
খুনিরা পেশাদার ব্ল্যাকমেইলার

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক ইমরান মামুনকে খুন করেই দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা আঁটেন কথিত মডেল ও অভিনেত্রী মেহেরুন নেছা আফরিন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বেনাপোলে ধরা পড়ে যান তিনি। এসবি কর্মকর্তা খুনের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে তাকে গ্রেফতারের পর নিয়ে আসা হয়েছে ঢাকায়। মিন্টো রোডের গোয়েন্দা দফতরে জেরা করা হচ্ছে। মডেল আফরিনের জন্মদিনের দাওয়াতে গিয়েই নির্মম খুনের শিকার হন পরিদর্শক ইমরান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইমরান মামুন বনানীর বাসায় যাওয়ার পর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে ফাঁদ পেতে সেই মডেল ও অভিনেত্রীর সঙ্গে অশ্লীল ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা হয়। এ সময় ইমরান মামুনের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মারা যান ইমরান মামুন।

খুনিরা পেশাদার ব্ল্যাকমেইলার। গ্রেফতার রহমত উল্লাহকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে আরও কয়েকজনকে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শোবিজ মিডিয়ায় মাঝেমধ্যে অভিনয় করার সুবাদে রহমত উল্লাহর সঙ্গে পরিচয় ছিল ইমরান মামুনের। রহমত উল্লাহ পেশায় প্রকৌশলী হলেও শোবিজ মিডিয়ার সঙ্গে জড়িত। গত রবিবার বিকালে রহমতের সঙ্গে ফোনে কথা হয় ইমরানের। এ সময় রহমত তাকে মডেল ও অভিনেত্রী মেহেরুন নেছা আফরিন ওরফে আন্নাফি আফরিনের জন্মদিনের পার্টি আছে বলে জানান। মোটরবাইক নিয়ে মামুন যান বনানীর ২/৩ সড়কে। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষারত রহমত তাকে নিয়ে যান ওই সড়কের ৫ নম্বর বাসার এ-২ ফ্ল্যাটে। ওই ফ্ল্যাটেই আন্নাফি আফরিনসহ স্বপন, মিজান, আতিক, শেখ হৃদয় ওরফে আপন ওরফে রবিউল, সুরাইয়া আক্তার কেয়া, ফারিয়া বিনতে মীম ওরফে মাইশা অপেক্ষা করছিলেন। আগে থেকেই তারা একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। সেখানে ইমরান ও রহমত যাওয়ার পর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অশ্লীল ছবি তুলে ইমরানকে আটকে রেখে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে সংঘবদ্ধ এই চক্র। কিন্তু ইমরানের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় ইয়াবা সেবন করা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্যরা তাকে বেদম মারধর করেন। এতে মারা যান ইমরান। পরে রাতভর লাশের সামনে বসেই লাশ গুমের পরিকল্পনা করেন তারা।

খুনিরা ব্ল্যাকমেইলার : কথিত মডেল, অভিনেত্রীসহ ১০-১২ জনের এই সংঘবদ্ধ চক্রটি ফাঁদ পেতে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে অর্থ আদায় করত। নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি এ চক্রের মূল হোতা। চলতি বছরের মে মাসে বনানীর ২/৩ সড়কের ৫ নম্বর ভবনের এ-২ ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন নজরুল। সেখানে বায়িং হাউস ও মায়ের আঁচল নামে একটি বৃদ্ধাশ্রমের প্রধান কার্যালয় ও শোবিজ মিডিয়ার কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের কথা বলেন। শেখ হৃদয় ওরফে আপন ওরফে রবিউলকে এ কার্যালয় চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। শেখ হৃদয় এ বাসায় নিয়মিত মদ-জুয়ার আসর বসাতেন। এসব আসরে থাকতেন কথিত অভিনেত্রী ও মডেল শেখ আন্নাফি ওরফে মেহেরুন নেছা ওরফে আফরিন, ফারিয়া বিনতে মীম ওরফে মাইশা ও সুরাইয়া আক্তার কেয়া।

স্বপন, মিজান, আতিক মিলে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তৈরি করেন। তারা মদ-জুয়ার আসরের আড়ালে কৌশলে এসব অভিনেত্রী ও মডেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করতেন। এ ছাড়া অর্থের বিনিময়ে নিয়মিত দেহব্যবসাও চলত এ বাসায়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow