Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৩ মার্চ, ২০১৮ ১০:৪৯ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৩ মার্চ, ২০১৮ ১৩:০৪
বিমানে ছিলেন রাজশাহীর তিন দম্পতি, পাঁচজন নিহত
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
বিমানে ছিলেন রাজশাহীর তিন দম্পতি, পাঁচজন নিহত
জীবিত রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষক ইমরানা কবির হাসি

নেপালের কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটিতে রাজশাহীর তিন দম্পতি ছিলেন। এই ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনই নিহত হয়েছেন। বেঁচে আছেন শুধু রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) এক নারী শিক্ষক। তার নাম ইমরানা কবির হাসি।

তিনি কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার ফেসবুক আইডিতে হতাহত বাংলাদেশিদের যে তালিকা প্রকাশ করেছেন তাতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তালিকার ৩২ বাংলাদেশির মধ্যে ইমরানা কবির হাসির নাম রয়েছে ১৪ নম্বরে। সবুজ রঙে নাম লিখে জানানো হয়েছে তিনি জীবিত আছেন। তবে হাসির স্বামী রকিবুল হাসানের নাম লেখা রয়েছে কাল রঙে। জানানো হয়েছে তিনি বেঁচে নেই।

প্রকৌশলী রকিবুলের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামে। আর হাসির বাড়ি টাঙ্গাইলে। রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ থেকে পাশ করে সেখানেই শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন হাসি। আর তার স্বামী একই বিভাগের জিরোসিক্স সিরিজের শিক্ষার্থী ছিলেন। রকিবুল ঢাকায় একটি বেসরকারি সফটওয়ার কোম্পানিতে চাকরি করতেন। হাসি রাজশাহীর মুন্নাফের মোড় এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

এই দুর্ঘটনায় রাজশাহীর আরও দুই দম্পতি নিহত হয়েছেন। তারা হলেন- নগরীর শিরোইল এলাকার বাসিন্দা হাসান ঈমাম, তার স্ত্রী নাহার বিলকিস বানু এবং উপশহর এক নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আক্তারা বেগম। নিহত নাহার বিলকিস বানু রাজশাহীর বরেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর মালেকের বোন। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক ছিলেন। আর তার স্বামী হাসান ঈমাম ছিলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব।

অন্যদিকে নজরুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তার স্ত্রী আক্তারা বেগম ছিলেন রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক। দুইজনই সম্প্রতি অবসর প্রস্তুতি মূলক ছুটিতে (এলপিআর) গেছেন। অবসর গ্রহণের আগের এই ছুটিতে তারা প্রথমবারের মতো বিদেশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। বিমান দুর্ঘটনায় পড়ে সেখানেই জীবন থেকে বিদায় নিলেন তারা।

মুঠোফোনে তাদের মেয়ে কাকন জানান, তারা দুই বোন। ঢাকায় থাকেন। তাদের বাবা-মা রাজশাহীতে থাকতেন। নেপালের বিমানবন্দরে যে বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে তাতে তার বাবা-মা ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তারা তাদের মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছেন। কিন্তু এখনও তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না। ভাবছেন, ঘরে ফিরবেন তাদের বাবা-মা।

বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন

আপনার মন্তব্য

up-arrow