Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২২ মে, ২০১৮ ১৯:২৫ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২২ মে, ২০১৮ ১৯:২৯
জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য প্রস্তুত বিশ্বের প্রথম ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
নিজস্ব প্রতিবেদক
জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য প্রস্তুত বিশ্বের প্রথম ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
জ্বালানি লোডিং'র জন্য প্রস্তুত বিশ্বের প্রথম ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

বিশ্বের প্রথম ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘একাডেমিক লামানোসভ’ জ্বালানি লোডিং-এর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এজন্য রাশিয়ার তৈরি এই পারমাণবিক কেন্দ্রটিকে গত ১৯ মে সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে মুরমানস্কে আনা হয়েছে। জ্বালানি লোড করার পর বিদ্যুৎ গ্রীডে সংযুক্ত করার জন্য ভাসমান এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের চুকুতকা অঞ্চলের পিভেক শহরে নিয়ে যাওয়া হবে। 

এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে প্রতিটি ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি কেএলটি-৪০সি পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে। এই ভাসমান কেন্দ্রটি লম্বায় ১৪৪মিটার এবং প্রস্থে ৩০ মিটার। পিভেক অঞ্চলে বর্তমানে ৫০ হাজার লোককে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পুরানো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থলাভিষিক্ত হবে এই ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর ফলে আর্কটিক অঞ্চলে হাজার হাজার টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন রোধ করা সম্ভব হবে। 

আশা করা হচ্ছে- একাডেমিক লামানোসভ ২০১৯ সালে বিদ্যুৎ গ্রীডে যুক্ত হবে। এর আয়ুষ্কাল ৪০ বছর, তবে ৫০ বছর পর্যন্ত এটি বৃদ্ধি করা যাবে।

মুরমানস্কে আগমন উপলক্ষে এটমফাটের (রুশ পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন-রসাটমের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান) জেটিতে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় রোসাটমের মহা-পরিচালক আলেক্সি লিখাচোভ, চুকুতকা অঞ্চলের গভর্নর রোমান কপিনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 

আলেক্সি লিখাচোভ ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে রুশ বিজ্ঞানীদের একটি অনন্য প্রকৌশল অর্জন হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এটি মাঝারি ক্ষমতাসম্পন্ন মোবাইল বিদ্যুৎ ইউনিটের একটি রেফারেন্স, যার চাহিদা আগামী বছরগুলোতে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিভিন্ন দ্বীপ যেখানে নানা কারণে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ অবকাঠামো নির্মাণ করা কঠিন, সেসব স্থানে এই জাতীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, সারা বিশ্বে দূরবর্তী জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজন সাশ্রয়ী মূল্যে নির্ভরযোগ্য নন-কার্বন এনার্জি। ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এই চাহিদা পূরণ করতে পারবে। 

এরই মধ্যে বিভিন্ন পরিবেশবাদী এবং গ্রীন গ্রুপ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। কেননা এ জন্য কয়লার উপর আর্কটিক অঞ্চলের নির্ভরতা কমবে এবং বিপুল পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও বিষাক্ত বস্তু নিঃস্বরণজনিত পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষা পাবে এই অঞ্চলের ভঙ্গুর ইকোসিস্টেম।  

একাডেমিক লামানোসভ জাতীয় মাঝারি আকারের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো জ্বালানি লোড করার পর এক নাগারে তিন থেকে পাঁচ বছর কাজ করতে সক্ষম। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ডিকমিশনিং এবং রিসাইকেল করার জন্য রাশিয়ার মূল ভূ-খণ্ডে নিয়ে আসা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তেজস্ক্রিয় বর্জ্য এবং স্কেন্ট ফুয়েল রাশিয়ার মূল ভূ-খণ্ডে অবস্থিত বিশেষ সংরক্ষণাগারে রাখা হবে।  

উল্লেখ্য, রোসাটম ইতিমধ্যে দ্বিতীয় প্রজন্মের ভাসমান বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে কাজ করছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে দুটি আরআইটিএম-২০০এম রিয়্যাক্টর থাকবে এবং প্রতিটি উৎপাদন ক্ষমতা হবে ৫০ মেগাওয়াট। এগুলোর আকৃতিও অপেক্ষাকৃত ছোট।

বিডি প্রতিদিন/২২ মে ২০১৮/এনায়েত করিম

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow