Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২৫ মে, ২০১৮ ০৯:১৬ অনলাইন ভার্সন
ইয়াবার টাকায় রাজশাহীতে তিন বাড়ি আসলামের
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
ইয়াবার টাকায় রাজশাহীতে তিন বাড়ি আসলামের

মিউজিক ভিডিও নির্মাণের আড়ালে মাদকের কারবার গড়ে তুলেছিলেন রাজশাহীর মাদক চক্রের হোতা আসলাম সরকার (৪০)। তাকে গত বুধবার সকালে পর্যটননগরী কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় র‌্যাব-৭-এর সদস্যরা গ্রেফতার করেন। এ সময় গ্রেফতার করা হয় তার মাইক্রোবাসের চালক মাসুদ রানাকে (৩২)। র‌্যাব জানায়, তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১ লাখ ৮ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট যার আনুমানিক মূল্য ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। রাজশাহীতে আসলাম সরকারের বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। কর্মজীবনের শুরুতে আসলাম ছিলেন একটি টেলিফোনের দোকানের কর্মচারী। তিনি ছয়টি বিয়ে করেছেন। বিভিন্ন থানায় নারীঘটিত মামলাও আছে তার বিরুদ্ধে। মাদকসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবসা করে এখন তিনি বহু টাকার মালিক। গত তিন বছরে তিনি নগরীতে কিনেছেন তিনটি বাড়ি। নগরীর ঘোষপাড়া মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামের পূর্বে তিন তলা ভবনে ‘ব্ল্যাক ক্যাফে’ নামে তার একটি প্রতিষ্ঠান আছে। এ ভবনটি পুরোটাই ভাড়া নিয়ে সেখানে মাদকসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের রাজ্য গড়ে তোলেন। ওই প্রতিষ্ঠানটি এখন তার সব অপকর্মের কেন্দ্রস্থল। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, ব্ল্যাক ক্যাফেতে তরুণ-তরুণীদের নিয়ে বসানো হয় মাদকসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আসর। বাইরে থেকে সবসময় বন্ধ করে রাখা হয় এ ক্যাফেটির দরজা। অপরিচিত কাউকেই এ ক্যাফের মূল অংশে প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না। তার ‘সরকার প্রডাকশন হাউস’-এর কর্মকান্ড ওই ভবনে। সেখানে নারীদের মডেল হিসেবে ব্যবহার করে আসলাম সরকার মাদকের পাশাপাশি অপরাধ জগতের স্বর্গ গড়ে তোলেন। নারী মডেলদের ব্যবহার করে বিত্তশালী পরিবারের ছেলেদের নিয়ে গিয়ে ইয়াবাতে আসক্ত করাতেন আসলাম সরকার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, মিউজিক ভিডিও নির্মাণের জন্য সুন্দরী তরুণীদের প্রায়ই দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যেতেন। মূলত তার শুটিং স্পট বেশির ভাগ সময় থাকত কক্সবাজার। মডেল নির্বাচনের জন্য তিনি দরিদ্র পরিবারের তরুণীদের টার্গেট করতেন। এমন অর্ধশত তরুণী আছে তার তালিকায়। আসলামের গ্রেফতারের খবর পাওয়ার পর তার খপ্পরে থাকা এক তরুণী জানান, দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় আসলাম তাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতেন। এরপর মডেলিংয়ের প্রস্তাব দেন। তিনি রাজি হলে শুটিংয়ের জন্য তাকে কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন আসলামের আসল কারবার। মডেলের শয্যাসঙ্গী হতে বাধ্য করা হয় তাকে। এরপর শুরু হয় তাকে ব্ল্যাকমেইলিং। সামান্য দোকান কর্মচারী থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া আসলামের যোগাযোগ আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও। ব্ল্যাক ক্যাফের ভিতরে এমন অসংখ্য ছবি দেয়ালে টানিয়ে রেখেছেন। মিউজিক ভিডিও শুটিংয়ের আড়ালে মাদকের কারবার গড়ে তোলা আসলাম সরকার সম্পর্কে নগর পুলিশের মুখপাত্র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম জানান, কক্সবাজারে গ্রেফতার হওয়ার পর এখন তারা অনেক অভিযোগ পাচ্ছেন। বিষয়গুলো পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/ ২৫ মে ২০১৮/ ওয়াসিফ

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow