Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৩ জুন, ২০১৮ ১৮:২৯ অনলাইন ভার্সন
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিপর্যস্ত জনজীবন
ফারুক তাহের, চট্টগ্রাম
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিপর্যস্ত জনজীবন

চারদিন ধরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় গড়ে ১৩৮ মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এখানকার জনজীবন। নতুন-পুরাতন প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে নানা সংকটের মুখে পড়েছে অন্তত ৭ লাখ রোহিঙ্গার স্বাভাবিক জীবন-যাপন। বিশেষ করে টয়লেট ও খাবার পানির গভীর সংকটে রয়েছে এই ৭ লাখ মানুষ।

পাহাড়ি ঢলের কারণে ডুবে গেছে ক্যাম্প এলকার অধিকাংশ নলকূপ ও টয়লেট। এতে বৃষ্টির পানি ও বর্জ্যের পানি একাকার হয়ে গেছে। উত্তোরণের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (আইএফআরসি) জরুরি পদক্ষেপ নিতে তাদের ডিআরইএফ তহবিল থেকে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঙ্ক সরবরাহ করেছে বলে জানা গেছে।

বুধবার আইএফআরসি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রেডক্রস সূত্রে জানা গেছে, টানা এই বৃষ্টিপাতের ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে রেডক্রস এবং রেডক্রিসেন্ট কর্মী-স্বেচ্ছাসেবকরা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কিছু এলাকা বর্তমানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। আর এতে করে ক্যাম্পগুলোর ৬ লাখ ৯৩ হাজার মানুষ কঠিন সংকটের ভিতর দিয়ে সময় অতিবাহিত করছেন। চলতি সপ্তাহে বৃষ্টিতে নড়বড়ে হয়ে থাকা পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে ভূমি ধসের ঘটনাও ঘটেছে। ভূমি ধসের এই মাত্রা ভয়াবহ আকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে আইএফআরসির কক্সবাজার উপ অফিসের প্রধান সঞ্জীব কাফে বলেন, আকস্মিক ঢলের সঙ্গে পাহাড় থেকে ময়লা কাঁদা-মাটি ও আবর্জনা মিশ্রিত পানি দ্রুত গতিতে নিচে নেমে আসে। পাহাড়ি ঢলের পানি, কাদামাটি ও টয়লেটের ময়লা একসঙ্গে মিশে নিচে আসার কারণে নিচে থাকা রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী বসবাসের স্থানগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পানিবাহিত রোগেরও প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ ‍বৃদ্ধি পেয়েছে। এই রোগের প্রাদুর্ভাব খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে যা এখন আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এদিকে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা জানান, যেহেতু পাহাড় ধসের আশঙ্কা ও পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে, এই ধস হলে বিপুল পরিমাণ জীবন ও স্থাপনার ক্ষতি হবে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। ইউএনডিপির পরিবেশ বিষয়ক ন্যাশনাল কন্সালটেন্ট ড. গোলাম মাহাবুব সরওয়ার বলেন, সাধারণত পাহাড়ী এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে ভূমি ধসের আশঙ্কা থাকে। সেখানে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ১৩৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এতে ভূমি ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা আরো বেড়ে গেছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, বর্ষা মৌসুম শুরু হবার কারণে এমনিতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বন্যা এবং ভূমিধসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তার ওপর গত ৯ জুন থকে প্রতিদিন গড়ে ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমী বায়ূর প্রভাবের কারণে আরো দুই-তিন দিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

পাহাড় ধসে গুরুতর আহত ৪ রোহিঙ্গা: এদিকে ভারি বর্ষণের কারণে বুধবার সকাল ১১টায় উখিয়ার পালংখালী শফিউল্লাহ কাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধ্বসে ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন নারী ও এক শিশুসহ ৪ জন রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানিয়রা উদ্ধার করে এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাহাড় ধসের ঘটনায় আহতরা হলেন, পালংখালী ডি ক্যাম্পের ২নং ব্লকের বাসিন্দা আলী আজগরের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (৪৫), মোঃ ইব্রাহীমের স্ত্রী সমুদা খাতুন, মোঃ শাকের আলমের স্ত্রী, রোকেয়া (২৫) ও তার ৩ বছরের শিশু উম্মে হাবিবা।

ডি-২নং ব্লকের মাঝি জয়নাল আবেদীন জানান, পাহাড়ের পাদস্থলে থাকা দুইটি রোহিঙ্গা পরিবারের উপর বড় একটি পাহাড়ের অংশ ধসে পড়ে ৪ জন আহত হয়েছে। তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স ও এনজিও কর্মীরা দ্রুত এসে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

পানির নিচে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক: পানিতে তলিয়ে গেছে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের অধিকাংশ এলাকা। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কক্সবাজার-টেকনাফ সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে মহাসড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বুধবার সকাল ৭ টা থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বুধবার ভোর থেকে বাঁকখালী নদীতে প্রবল বন্যা নামলে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের চেইন্দা, বাংলাদেশ বেতারের কক্সবাজার কেন্দ্র গেইট, কাঁঠি রাস্তার মাথা পয়েন্টসহ কয়েকটি স্থানে সড়ক প্রায় কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে সকাল সাতটা থেকে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। যাতায়াতের অপেক্ষায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়েছে শত শত যানবাহন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা গাড়ীতে আটকা পড়েছে। মালবাহী ট্রাক আটকা পড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী সররাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানান স্থানীয় ট্রাক ড্রাইভার হামিদ সিকদার।

বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন

আপনার মন্তব্য

up-arrow