Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১২ জুলাই, ২০১৮ ১৯:৪৪ অনলাইন ভার্সন
দেশ ঠিকভাবে চলছে না: রওশন এরশাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশ ঠিকভাবে চলছে না: রওশন এরশাদ

সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ বলেছেন, এক পদ্মা সেতু দেখে তো মানুষ খুশি হবে না। দেশে শিল্প-কল-কারখানা গড়ে ওঠেনি। দেশে কর্মসংস্থান নেই। শিক্ষিত যুবকরা বেকরা। তাদের চাকরি নেই। তারওপর মাদকের ছোবলে তরুণ সমাজ আক্রান্ত। ২ কোটি মানুষ অর্ধাহারে আছে। প্রভাবশালীরা সব দখল করে নিচ্ছে। অনেক প্রভাবশালী লোক মাদকের ব্যবসা করছে। কর্মসংস্থানের অভাবে অনেকে মাদক ব্যবসায় জড়াচ্ছে। আমরা বেকার যুবকদের চাকরি দিতে পারছি না। সংসদে আসলাম, বসে সময় কাটালাম, তাহলে তো হবে না। দেশঠিকভাবে চলছে না। সরকার জনগণের চাহিদা কতটুকু পূরণ করতে পেরেছে- তা চিন্তাভাবনা করতে হবে।
জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে আজ এসব কথা বলেন তিনি। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে উপস্থিত ছিলেন। পরে তার এসব বক্তব্যের জবাবও দেন তিনি।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, কোটা নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি দেখা যাচ্ছে, এটা তাদের নায্য দাবি,  তাদেরকে দাবি আদায়ে আন্দোলন করতে গিয়ে এখন নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। তাদের এ দাবিকে সহানুভ’তির সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, স্পিকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো, তিনি যেন সহানুভুতির দৃষ্টি নিয়ে এই বিষয়টি বিবেচনা করেন।

রওশন এরশাদ বলেন, নদী থেকে অবাধে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলা হচ্ছে। জমি থেকে পলি মাটি তুলে ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে। কয়দিন পর এসব জমিতে ফসল ফলবে না। এসব করছে প্রভাবশালীরা। আপনারদের সরকার থেকে এসব দেখার কেউ নেই। আমি যে কথাগুলো বলছি আপনারা তা যাচাই বাছাই করে দেখবেন আমি সঠিক কথা বলেছি  কীনা। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে ঝুঁকি নিয়ে আমরা অংশ নিয়েছি। তাই প্রধানমন্ত্রীকে এসব দেখতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রওশন এরশাদ বলেন, গত নির্বাচনে ঝুঁকি নিয়ে নির্বাচন করে আপনাদের দায়িত্ব দিয়েছি। সব সমস্যাগুলো তো আপনাকে দেখতে হবে। এই সমস্যাগুলো না দেখলে সরকারের ভালো কাজগুলো ফুটে উঠবে না।
বিরোধী দলীয় নেতা আরো বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার যখন রাস্তা দিয়ে যান তখন রাস্তা বন্ধ থাকে। উনি জানেন না রাস্তা বন্ধ থাকার জন্য মানুষের কত দুর্ভোগ হয়। সেই যানজট ছাড়তে ছাড়তে রাত হয়ে যায়। কিন্ত যানজট ছাড়ে না। আর রাস্তাঘাট অতি বৃষ্টির কারণে সব নষ্ট হয়ে গেছে। কেউ বলে না সাহস করে। এখানে যারা আছেন, সবাই জানেন। কিন্তু কারও সাহস নেই বলার। সবাই যানজটে নাকাল থাকে। এরপর সরকারি দলের এমপিদের প্রশ্ন করে তিনি বলেন, আপনারা বলেন না কেন? সড়ক পরিবহন মন্ত্রী আজ সংসদে নেই। কিন্তু যানজটের কারণে সব বন্ধ থাকে। দেশের রাস্তাগুলোর কোনটাতেই চলা যায় না।
বাজেটে প্রণোদনা নেই অভিযোগ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ব্যাংক লুটপাটকারীদের কর কমানো হয়েছে। মানুষের করের টাকায় দিতে হচ্ছে। ব্যাংক খাতের নৈরাজ্য বন্ধ করতে হলে সংস্কারের কোনও বিকল্প নেই। সুশাসন প্রতিষ্ঠার কোনও বিকল্প নেই।  ১৬ লাখ মানুষ ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি এসময় সংসদ সদস্যদের সাহস করে দেশের অনিয়ম দুর্নীতির কথা জোর গলায় তুলে ধরার উপর জোর দেন। সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার দাবি জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা খরচ এত বেশি যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। তারপরও থাকে বেশি ভিড়। চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যাও অনেক কম থাকে। ধনীরা বিদেশে চিকিৎসার জন্য গিয়ে সুস্থ্য হয়ে ফিরে আসছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা দেশেই করতে হবে। এসময় দেশে শিক্ষার মান কমে গেছে দাবি করে বাজেটে শিক্ষাখাতে বেশি বরাদ্দ দেয়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow