Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৫ মে, ২০১৮ ২৩:০০
সংবাদ সম্মেলনে আমির হোসেন আমু
রমজানে সারা দেশে ভেজাল বিরোধী অভিযান চলবে
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে এবার সারা দেশে ভেজালবিরোধী অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি রমজানে নির্ভেজাল খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রসঙ্গে বলেন, ইফতার ও সাহরিতে অধিক পরিমাণে ব্যবহূত হয় এমন ২৪ প্রকার খাদ্যপণ্যের মোট ২৮৬টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে বিএসটিআই। ১৭৫টি নমুনার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩৬টি পণ্যে ভেজাল পাওয়া গেছে। আরও ১১১টি নমুনা পরীক্ষাধীন। যেসব প্রতিষ্ঠানের নমুনা পরীক্ষা করে ভেজাল পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

গতকাল শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, প্রতি বছর রমজানে ভোক্তাপর্যায়ে ভেজালমুক্ত খাদ্য-পানীয় ও পণ্যসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিত ভেজালবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি বিএসটিআই বিশেষ ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।

 এবারও সে লক্ষ্যে বিএসটিআই কার্যক্রম শুরু করেছে। এ ছাড়া সারা দেশে বিএসটিআইর আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমে এ ধরনের ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, যা পুরো রমজান মাসে অব্যাহত থাকবে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, পবিত্র রমজান মাসে ঢাকা মহানগরীর বাইরে কেরানীগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, ধামরাইসহ বিভিন্ন উপজেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় রমজান মাসজুড়ে মোবাইল কোর্ট চলবে। তিনি বলেন, আকস্মিকভাবে পরিচালিত অভিযানগুলোয় রোজাদাররা সচরাচর যেসব খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করেন, যেমন মুড়ি, কলা, খেজুর, আম, সফ্ট ড্রিঙ্ক পাউডার, কারবোনেটেড বেভারেজ, ফ্রুট সিরাপ, ফ্রুট জুস বা ফ্রুট ড্রিঙ্কস, ভোজ্যতেল, সরিষার তেল, ঘি, পাস্তুরিত দুধ, নুডলস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, লাচ্ছা সেমাই, সেমাই, পানি, ডেক্সট্রোজ মনোহাইড্রেট ইত্যাদির ওপর বিশেষভাবে নজর রাখা হবে। তিনি বলেন, ভেজাল বা নকল খাদ্য ও পণ্য উৎপাদন এবং বিপণন প্রতিরোধে সোচ্চার বিএসটিআই। প্রতিষ্ঠানটি সারা বছর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এ ছাড়া ওজনে কারচুপি রোধেও আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএসটিআই। শিল্পমন্ত্রী বলেন, গত প্রায় ১১ মাসে ভেজালবিরোধী অভিযানে ৩৮২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ-সংক্রান্ত ৫২২টি মামলা দায়ের হয়েছে। জরিমানা আদায় করা হয় ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। কারাদণ্ড প্রদান করা হয় ৫৮ জনকে। আর ২৮টি কারখানা সিলগালা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বিএসটিআই পরিচালক (সিএম) এস এম ইশাকুল আলী। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. দাবিরুল ইসলাম, বিএসটিআইর মহাপরিচালক সরদার আবুল কালামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow