Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১ এপ্রিল, ২০১৮ ১৫:০০ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ৩ এপ্রিল, ২০১৮ ১৬:৩০
বাবা-মা'কে সরি বলা হয়নি কিন্তু ছোট হয়ে গেছি
প্রিন্স মাহমুদ অর্ণব
বাবা-মা'কে সরি বলা হয়নি কিন্তু ছোট হয়ে গেছি

আমি একজন নিয়মিত উবার রাইডার। আমি কখনো ভাবিনি এ রকমের একটা পরিস্থিতির শিকার হতে হবে। সবার সচেতনতার জন্য শেয়ার করলাম।

গতকাল ২৮ মার্চ আমি আমার বাবা-মাকে নিয়ে যাই ধানমন্ডি আনোয়ার খান মর্ডান হসপিটাল-এ চিকিৎসার জন্য। আমার বাবার বয়স ৭০ ঊর্ধ্ব এবং উনি একজন কিডনির রোগী। একা চলাচল করার মতো অবস্থায় নেই। মা স্ট্রোকের রোগী, একদিক আংশিক প্যারালাইজড। দুই জনকে একটু আরামে ডাঃ এর কাছে নেয়ার জন্যই সাধারণত উবার ব্যবহার করি।

যাই হোক, সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটে কাজী মমিনুর নামক একজন ড্রাইভারের এক্সিও গাড়িতে উঠি। গাড়ির নম্বর সম্ভবত গ৩৯-৯৩** । সিরিয়াল নম্বরটা সঠিক মনে নাই এবং পরে কোথাও খুঁজেও পাইনি। ধানমন্ডি থেকে ফার্মগেট হয়ে আমার বাসা নর্দা যাবার কথা। ফার্মগেটে এসে বেশ জ্যামে পড়ি।

অনেকক্ষণ জ্যামে বসে চালক প্রচণ্ড বিরক্তি দেখাতে থাকে। আমি তার দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে আমার মতো বসে আছি। এক পর্যায়ে গাড়ির এসি বন্ধ করে দেয়। আমি তখনও কিছু বলি নাই। তার আচরণ ভালো ঠেকছিল না এবং গাড়িতে আমার অসুস্থ বাবা-মা। আমি শুধু আল্লাহর নাম নিচ্ছি যেন জ্যামটা তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেয়।

কিন্তু মনে যে শঙ্কাটা ছিলো সেটাই ঘটল। সে আমাকে বলে, 'ভাই, আপনি অন্য উবার দেখেন আমি যাবো না।' জিজ্ঞেস করলাম কেন? বলে, 'আমার শরীর ভালো লাগছে না তাই।' আমি বললাম, 'আপনি তো মিথ্যা বলছেন, জ্যাম এর কারণে যাবেন না বলছেন।' সে বলে, 'যাব না মানে যাব না। এত কথা তো বলতে পারবো না।'

আমার ফোনে সেই মুহূর্তে মাত্র ২% চার্জ। আমি তাকে দেখালাম আমার ফোনটি।বললাম, 'যে আমিতো উবারে কলও দিতে পারবো না।'

ততক্ষণে সে আমার সার্ভিস বাতিল করে দিয়েছে এবং বলছে, '১৪৫ টাকা হইছে এইটা দিয়ে নেমে যান।' আমি তাকে অনুরোধ করলাম যে, 'ভাই আমার অসুস্থ বাবা-মা আমি তাদের নিয়ে এখন কেমনে যাব? এখনতো সিএনজিও পাওয়া যাবে না।' সে বলে, 'আপনি কেমনে যাবেন তা আমি কেমনে বলব? টাকা দেন আর নামেন।'

মাথায় রক্ত উঠে যায়, আমি উচ্চ বাক্যে কথা বলা শুরু করি। কিন্তু আমার বাবা-মা আমাকে বলে, 'চল বাবা আমরা নেমে যাই, এই ছেলে একটা বেয়াদব।'

নামার সময় আমি তাকে ১৫০ টাকা দিলাম এবং বললাম, 'আমি আপনার নামে গুরুতরভাবে অভিযোগ করব।' এই কথার প্রতি উত্তরে সে বিদ্রুপের হাসি হাসল।

বাবা-মার কাছে লজ্জায় এবং তাদের কষ্টের কথা মাথায় আসতেই চোখ জলে ভিজে গেল। তারপর ঠিক ১ ঘণ্টা ২৭ মিনিট পর একটা সিএনজি পাই। ততক্ষণ আমার অসুস্থ বাবা-মা ফার্মগেটের জ্যামের মাঝে ঠাঁই দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাবা-মা কে হয়তো সরি বলা হয়নি। কিন্তু নিজের কাছে ছোট হয়ে গেছি। 

লেখক : একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত

(পাঠক কলাম বিভাগে প্রকাশিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়) 

বিডি প্রতিদিন/১ এপ্রিল, ২০১৮/ফারজানা

আপনার মন্তব্য

up-arrow