Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ৫ মে, ২০১৮ ১৪:৪৬ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ৫ মে, ২০১৮ ১৪:৪৮
কেন শেখ হাসিনার নৌকায় ভরসা রাখবেন?
শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল
কেন শেখ  হাসিনার নৌকায় ভরসা রাখবেন?

বঙ্গবন্ধু কন্যা বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা যখন থেকে সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তখন থেকেই এরশাদ সরকারসহ বর্তমানে জনগণের দ্বারা নিগৃহীত দল বিএনপি বারবার দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর থেকে তার উপর চালানো হয় নারকীয় হত্যাচেষ্টা। ২০০০ সালে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার জনসভাস্থলে ৭৬ ও ৮৪ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা হয়। ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট করা হয় নৃশংস গ্রেনেড হামলা। আল্লাহ্ তা'আলার অশেষ রহমতে দেশরত্নকে হত্যার চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নাটকীয়তায় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তাকে কারাবরণ করতে হয় এবং ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি কারামুক্ত হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে টানা ২য় বারের মতো জয়লাভ করে। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ কে পিছনে তাকাতে হয়নি। এরপর থেকে আজ অবধি চলমান বাংলাদেশের জয়রথ।

ক্ষমতাগ্রহণের পরেই মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের বিচার করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করেন। এবং মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের যথাযথ ব্যবস্থা ও ভাতা প্রদান করেন।

দীর্ঘদিন চলমান সমুদ্রসীমার সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করেন এবং বিজয় লাভ করেন। ভারত-মায়ানমারের সমুদ্রসীমার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান করেন।

দীর্ঘদিনের ছিটমহলবাসীদের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় চুক্তি সম্পন্ন হয়। তাদের নিজস্ব পরিচয় দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।

বিশ্বব্যাংক এর দুর্নীতির অভিযোগ এনে পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থায়ন না করায় শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাংক এর বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং এতে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার দুঃসাহসী সিদ্ধান্ত নেন। যা এখন বাস্তব এবং দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার মাঝে যোগাযোগ স্থাপন করেছে।

শিক্ষাব্যবস্থা গুরুত্ব দিয়েছেন সবচেয়ে বেশি। বছরের প্রথমদিনে ১ম থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে বই দিচ্ছেন। প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদের টিফিনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ছাত্রীদের উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছেন। শিক্ষাব্যবস্থা সেশনজট মুক্ত করেছেন পুরোপুরিভাবে। তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন।হাতের নাগালেই এখন সব পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন অঞ্চলে শতশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে স্বাক্ষরতার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২.৭৬ ভাগ।প্রতিটা উপজেলা একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণ করেছেন, ধর্মের প্রতি অনুরাগী করে গড়ে তোলার জন্য কয়েকহাজার মাদ্রাসা নির্মাণ করেছেন।

শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করেছেন। আগের চেয়ে বেকারত্বের হার অনেক কমে গিয়েছে।

লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠা করেছেন। নারীদের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টি করে এগিয়ে এনেছেন। সামরিক বাহিনীসহ সকল ক্ষেত্রে নারীদের যুক্ত করে বৈষম্য দূর করেছেন। নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়িয়ে করেছেন ৬মাস, যা আগে ছিল ২ মাস।

কৃষিক্ষেত্রে কৃষকদের জন্য কৃষি ভর্তুকি প্রদানের ব্যবস্থা করেন। কৃষিখাতে এখন পর্যন্ত ভর্তুকি দিয়ে ৯০০০ কোটি টাকা। কৃষকদের সেবার জন্য অনলাইন সেবা চালু করেছেন এবং খাদ্য উৎপাদন করেছেন ৪০০ লক্ষ মেট্রিক টন যা আগে ছিলো ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন।

চিকিৎসাব্যবস্থায় উন্নতি হয়েছে ব্যাপক। নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপন করেছেন ১৭টি। বর্তমানে সরকারি মেডিকেল কলেজ ৩১টি। অনলাইনে চিকিৎসা সেবা চালু করেছেন। প্রত্যেক ডাক্তারকে পাশ করার পর ১ম ২ বছর প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সেবা বাধ্যতামূলক করেছেন। শিশুমৃত্যু হার কমে গেছে।

শতভাগ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ এর আওতাধীন আনার কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। বর্তমানে ৮৩% লোক এর আওতাভুক্ত হয়েছে যা আগে ছিল ৩৬%। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে এখন ১৫৮২১ মেগাওয়াট, আগে ছিল ১০ হাজার ৮৭৯ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্য ১১৫টি, আগে ছিল ৮৮টি। রুপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেছেন।

শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাথাপিছু আয় বেড়ে এখন ১৬১০ মার্কিন ডলার, আগে ছিল ৯০০ ডলার। প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে দাড়িয়েছে ৭.২৪।বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৩ বিলিয়ন ডলার যা আগে ছিল ৩২বিলিয়ন ডলার।

যোগাযোগ ব্যবস্থায় অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। পদ্মা সেতুসহ ঢাকা শহরকে যানজট মুক্ত করতে ঢাকা শহরকে ফ্লাইওভারের মোড়কে সাজানো, বিভিন্ন মহাসড়ককে ৪ লেনে উন্নীতকরণ, ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ, মেট্রোরেল চালু, পদ্মাসেতুতে রেল সংযোগ, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস রেলওয়ে ও এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে, ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণসহ ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ অন্য দেশগুলোর জন্য আদর্শ। বিগত সময়ে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় সহ সকল দুর্যোগ মোকাবেলায় এই সরকার শতভাগ সফল। দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সতর্কতা জারি ও দুর্যোগ সংগঠিত হওয়ার পূর্বেই নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া ও দুর্যোগ মোকাবেলাসহ সকল কাজে সফল এই সরকার।

পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ ২য় অবস্থানে চলে এসেছেে। পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। 'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১' উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ৫৭তম স্যাটেলাইট ক্ষমতাধর দেশ হতে যাচ্ছে। সবুজায়নের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। পরিবেশ  উন্নয়ন কর্মসূচী, আন্তঃপরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নের স্বীকৃতি হিসেবে দেশরত্ন শেখ হাসিনা 'চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ-২০১৫' নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রায় ১০লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক আশ্রয় দিয়ে ও লালনপালন করে সারাবিশ্বের কাছে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছেন। যার স্বীকৃতিতে তিনি মাদার অব হিউম্যানিটি উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।

বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ও উন্নত, সমৃদ্ধশালী ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে শেখ হাসিনার বিকল্প একমাত্র শেখ হাসিনা-ই।আওয়ামী লীগ সরকার কে আবারও ক্ষমতায় এনে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখুন।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ

(পাঠক কলাম বিভাগে প্রকাশিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়) 

বিডি প্রতিদিন/৫ মে, ২০১৮/ফারজানা

আপনার মন্তব্য

up-arrow