Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ৫ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৪ মে, ২০১৮ ২১:৩৯
বলিউডে বাংলাদেশি সাদিয়া নাবিলা
সাইফ ইমন
বলিউডে বাংলাদেশি সাদিয়া নাবিলা

মার্চে বলিউডে মুক্তি পায় ‘পেরেশান পারিন্দা’। এ ছবির দুই নায়িকার একজন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি সাদিয়া নাবিলা।

২০১২ সালে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেই উড়াল দেন অস্ট্রেলিয়ায়। ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরায় ভর্তি হলেন ব্যাচেলরস ইন ইনফরমেশন টেকনোলজিতে

 

গত মার্চে বলিউডে মুক্তি পায় ‘পেরেশান পারিন্দা’ চলচ্চিত্রটি। এই ছবির দুই নায়িকার একজন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি সাদিয়া নাবিলা। বিশ্বজুড়ে যখন বাংলাদেশিদের জয়জয়কার তখন বলিউড কেন বাদ থাকবে। নাচ, গান আর অভিনয়ের পোকাটা নাকি মাথায় আগে থেকেই ছিল বাংলাদেশের আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা সাদিয়া নাবিলার। কিন্তু কোন মাধ্যমে নিজেকে স্থির করবেন, সে সিদ্ধান্ত তখনো নেননি। এর মধ্যে ভাইয়ের ইচ্ছা আর বাবা-মায়ের চাওয়ায় পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায়। সময়টা ছিল ২০১২ সাল। ২০১২ সালে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেই উড়াল দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ায়। ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরায় ভর্তি হন ব্যাচেলরস ইন ইনফরমেশন টেকনোলজিতে।

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মতিনের মেয়ে সাদিয়া আন্দালিব নাবিলার জন্ম সৈয়দপুর। জন্মেছিলেন ছোট শহরে। আর বেড়ে উঠেছিলেন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে। মা-বাবার পূর্ণ সমর্থনে নাচ ও গানে নিজেকে পরিচিত করে তোলেন স্কুলেই। অস্ট্রেলিয়া গিয়েও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল তার। ২০১৩ সালে যোগ দেন ক্যানবেরার ‘ভিক্টোরিয়াস মডেল এজেন্সি’তে। মডেল হিসেবে যাত্রা শুরু তখন থেকেই। ২০১৪ সালের শেষের দিকে ‘ক্যানবেরা স্কুল অব বলিউড ড্যান্সিং’ স্কুলে যোগ দেন নাচের শিক্ষক হিসেবে। সাদিয়া বলেন, ‘আমার স্বপ্নের শুরু হতে পারত ঢাকায়। কিন্তু এইচএসসি পাসের পর আমাকে অস্ট্রেলিয়া চলে আসতে হয়। ঢাকায় যাওয়ার সুযোগ হয়নি। বলতে পারেন, ভাগ্য সহায় হয় অস্ট্রেলিয়া আসার পর। ভিক্টোরিয়াস মডেল এজেন্সিতে দেড় বছর কাজ করার পর হাউস মডেলস নামের আরেকটি নামি প্রতিষ্ঠান থেকে ডাক পাই। নানা দেশের নানা সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়। তত দিনে রুপালি পর্দায় কাজ করার স্বপ্নটা আরও ডানা মেলতে শুরু করে। পড়াশোনার ফাঁকে চলতে থাকে স্বপ্ন পূরণের মিশন।’ ২০১৫ সালে সাদিয়ার ডাক পড়ে ‘হউস মডেলস’ থেকে। বিশ্বের নামকড়া সব নামিদামি মডেলরা এই এজেন্সির অধীনে কাজ করে থাকেন। এদের নির্বাচন প্রক্রিয়াও বেশ কঠিন। সাদিয়া বলেন, ‘ওরাই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। সানন্দে সাড়া দিলাম।’

বলিউডের ছবিতে অভিনয়ের পথ সুগম হয়েছিল সুন্দরী প্রতিযোগিতার কল্যাণে। গত বছর মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় ‘মিস ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ডওয়াইড ২০১৭’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম রানার-আপ হয়েছিলেন সাদিয়া। ‘স্বপ্নেও ভাবিনি এমন একটা আসরে এত ভালো রেজাল্ট করব। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে পেরেছি, এটা আমার জন্য গর্বের বললেন সাদিয়া। কয়েক দিন পরেই বলিউডে প্রস্তাব আসে সাদিয়ার কাছে। বলিউডের ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া সহজ হয়েছিল এক সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কারণে। ‘পেরেশান পারিন্দা’ ছবিটিতে কাজ করেছেন আন্তর্জাতিক শিল্পীরা। সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বেশ কয়েকজন শিল্পী অভিনয় করেন। এই মার্চে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় মুক্তি পায় ছবিটি। দেবেশ প্রতাপ সিংয়ের এই ছবির গল্প আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে। এক নায়কের বিপরীতে দুই নায়িকা। ‘রিনা ও মিনা দুটি চরিত্র। আমারই করার কথা ছিল মিনা চরিত্রটি। হিন্দি উচ্চারণে বাংলা টানের কারণে আমাকে রিনা চরিত্র করতে হয়’, বলেন সাদিয়া।

তিনি আরও বলেন,‘ পেরেশান পারিন্দা ছবিতে অভিনয়ের জন্য আমাকে এক মাসের বেশি সময় দিতে হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ দিন একটি কর্মশালায় অংশ নিই। আমি যেহেতু বাংলাদেশের মেয়ে, তাই আমাকে ভালোভাবে হিন্দি শিখতে হয়েছে। ১৫ দিন যার সঙ্গেই কথা বলতাম, হিন্দিতে বলতে হতো। এরপর শুটিং করেছি। ভারতীয় অনেকে শুটিংয়ের সময় আমার হিন্দি বলা নিয়ে ভেংচি কাটত। কিন্তু আমি তাতে দমে যাইনি।’

এদিকে ‘মিস ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ডওয়াইড ২০১৭’ বিজয়ীদের সম্মানে একটি ডিনার পার্টি হয় ক্যানবেরায়। এটি আয়োজন করে জি টিভি অস্ট্রেলিয়া। সেখানে জন আব্রাহামের সঙ্গে একটি গানে পারফর্মও করেন সাদিয়া। সেই পারফর্মেন্স উপস্থিত সবার কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। ‘পেরেশান পারিন্দা’ মুক্তির আগেই ভারতের শীর্ষ টেলিভিশন জিটিভি অস্ট্রেলিয়ায় উপমহাদেশের প্রতিযোগীদের নিয়ে আয়োজন করে ‘সুপারস্টার অস্ট্রেলিয়া’। সেখানে সেরা দশে জায়গা করে নেন সাদিয়া।

বাংলাদেশেও কাজ করেছেন সাদিয়া নাবিলা। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে এ বছরের শুরুতেই দেশে এসেছিলেন। এই ফাঁকে মডেল হয়েছেন আদনান আল রাজীবের নির্দেশনায় ‘গ্রামীণফোন ফোরজি’র বিজ্ঞাপনে। সিয়াম আহমেদের বিপরীতে একটি টিভি নাটকেও অভিনয় করেছেন।

বাংলাদেশে স্থায়ী হবেন কিনা এমন প্রশ্নে সবাইকে অবাক করে দিয়ে সাদিয়া উত্তর, ‘হ্যাঁ, দেশের শোবিজেই নিজেকে মেলে ধরতে চাই। শোবিজেই তো কাজ করছি, সেই কাজটি যদি নিজের দেশেই করতে পারি তাহলে অবশ্যই ফিরব। বাংলাদেশে এখন অনেক ভালো কাজ হচ্ছে। অনেকেই উন্নত মানের ছবি বানাচ্ছে। অনেকে হয়তো ভাবছেন, বলিউডের ছবিতে অভিনয় করে অনেক কিছু করে ফেলেছি। আমি কিন্তু তা মনে করছি না। তবে এটাও ঠিক, অনেক কিছু জেনেছি। অন্য রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে। এ অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আমার দেশে কাজ করতে সহযোগিতা করবে।’

সাদিয়া নাবিলার নানাবাড়ি ও দাদাবাড়ি শরীয়তপুরে। বাবা-মায়ের পাশাপাশি তাঁদের আত্মীয়দের কাছ থেকেও সমর্থন পেয়েছেন সাদিয়া। বললেন, ‘আমি অনেক ভাগ্যবতী, কারণ থাকা সত্ত্বেও অনেকে পরিবারের সমর্থন পায় না। অথচ আমার যে কোনো সমস্যায় পরিবার ছিল পাশে।’

‘পেরেশান পারিন্দা’ নামের হিন্দি ছবির পরিচালক দেবেশ প্রতাপ সিং। এই চলচ্চিত্রে কাজ করা ছিল সাদিয়া নাবিলার ভাবনার অতীত। পুরো বিষয়টি স্বপ্নের মতো মনে করছেন তিনি। সাদিয়া অভিনীত ‘পেরেশান পারিন্দা’ ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন শিল্পী। ছবির গল্প আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে। এক নায়কের বিপরীতে দুই নায়িকা। সাদিয়ার বিপরীতে অভিনয় করেছেন মিরাজ শাহ। তিনি থাকেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে।

এই পাতার আরো খবর
সর্বাধিক পঠিত
up-arrow