Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ২ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১ জুন, ২০১৮ ২৩:৩৪
সৌদিতে রাজকন্যার নেতৃত্বে প্রথম ফ্যাশন উইক
শনিবারের সকাল ডেস্ক
সৌদিতে রাজকন্যার নেতৃত্বে প্রথম ফ্যাশন উইক

রাজকন্যা নওরা বলেন, আমরা চেয়েছি উপস্থিত নারীরা দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই অনুষ্ঠান উপভোগ করুক। ‘সৌদি আরবের নারী হিসেবে এই সংস্কৃতি ও ধর্মের প্রতি আমার শ্রদ্ধাবোধ আছে। পোশাকের কারণে কেউ আমাদের রক্ষণশীল ভাবতে পারে। কিন্তু এটাই আমাদের সংস্কৃতির অংশ। বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতাসীন ক্রাউন প্রিন্স আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপনে সক্ষম।

 

দিন বদলের গান শুরু হয়েছে সৌদি আরবে। একসময় বদলে যাবে অনেক কিছুই। বর্তমানে দেশটির নারীদের নিজ নিজ অধিকার বাস্তবায়ন হচ্ছে বৃহত্তর পরিসরে। ধাপে ধাপে অধিকার পাওয়া সৌদি নারীরা বর্তমানে ফতোয়া দেওয়ার অধিকার রাখেন। এখন ফ্যাশন জগতেও পা রাখলেন সৌদি নারীরা, তাও আবার এক রাজকন্যার নেতৃত্বে!

 

তেলভিত্তিক অর্থনীতি আর ধর্মীয় নেতাদের পরামর্শের ওপর ভর করে দেশটির অর্থনীতি পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু এই রীতি থেকে কিছুটা বের হয়ে এসেছেন দেশেটির ৩২ বছর বয়স্ক ক্রাউন প্রিন্স সালমান। ভিশন-২০৩০ কে সামনে রেখে তিনি দেশটিকে আরও বেশি আধুনিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এর মূলমন্ত্র জাতীয়তাবাদ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন। পরিবর্তনের এই ধারা শুরু হয়েছে গত বছর থেকেই। বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতাসীন যুবক সৌদি আরবের কাছে ক্রাউন প্রিন্সের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপনে সক্ষম। সৌদি আরবকে তিনি তারুণ্যনির্ভর দেশে পরিণত করছেন।

এই ধারাবাহিকতায় ফ্যাশন জগতেও পা রাখলেন সৌদি নারীরা তাও আবার এক রাজকন্যার নেতৃত্বে! এই সৌদি রাজকন্যা হলেন নওরা বিনতে ফয়সাল আল সৌদ। ৩০ বছর বয়সী রাজকন্যা নওরা গত ডিসেম্বরে আরব ফ্যাশন কাউন্সিলের অনারারি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। এরপর গত মাসে সৌদি আরবে প্রথমবারের মতো ‘আরব ফ্যাশন উইক’ আয়োজন করা হয়। সেই আয়োজনে ভালোভাবেই যুক্ত ছিলেন রাজকন্যা নওরা। সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল আজিজ আল সৌদ রাজকন্যা নওরার প্রপিতামহ (দাদার বাবা)। নওরা জাপানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। জাপানে ফ্যাশন সম্পর্কে ভালোই ধারণা পান তিনি। সম্ভবত এ কারণে তার হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে সৌদি নারীদের ফ্যাশনের ব্যাটন। আয়োজনের সঙ্গে রাজকন্যা নওরা জড়িত থাকলেও নানা কারণে ‘আরব ফ্যাশন উইক’ শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দুই সপ্তাহ  দেরিতে। সৌদি আরবে প্রথমবারের মতো এই আয়োজন বলে অনেকের নজর ছিল এই ফ্যাশনের দিকে। কিন্তু এই আয়োজন প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত ছিল। শুধু আমন্ত্রিত নারীরাই সেখানে উপস্থিত থাকতে পেরেছিলেন। অনুষ্ঠানে ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। আরব ফ্যাশন কাউন্সিল অবশ্য ওই অনুষ্ঠানের ছবি তুলেছে। সৌদি আরবের বিনোদন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে ওই অনুষ্ঠানের কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্বের কাছে সৌদি আরব রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থার একটি দেশ হিসেবেই পরিচিত। এই দেশে আগের যে কোনো সময়ে নারীরা থেকেছে অভিভাকত্ব ব্যবস্থায়। যে ব্যবস্থায় একজন নারী তার পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত কোনো ধরনের সামাজিক সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না। এখন পর্যন্ত পাসপোর্ট করা, বিদেশ ভ্রমণ, বিয়ে, ব্যাংক হিসেব খোলা, কোনো ধরনের সার্জারি করা এমনকি কারাগারে সাজা ভোগ শেষে বাইরে বের হওয়ার জন্যও নারীকে অবশ্যই তার পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি নেওয়া হয়। কিন্তু দিন বদলের গান শুরু হয়েছে সে দেশেও। এক সময় বদলে যাবে অনেক কিছুই। বর্তমানে দেশটির নারীদের নিজ নিজ অধিকার বাস্তবায়ন হচ্ছে বৃহত্তর পরিসরে। ধাপে ধাপে অধিকার পাওয়া সৌদি নারীরা বর্তমানে ফতোয়া দেওয়ার অধিকার রাখেন।

আগের দিনে কল্পনারও বাইরে ছিল পুরুষের অনুমতি ব্যতীত নারীর ব্যবসা পরিচালনা। কিন্তু বর্তমানে সে অধিকার পেয়েছেন সৌদি নারীরা। শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনীতে যোগদান, নিজস্ব পরিচয়পত্র বহন, ভোটাধিকার ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েদের মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি, স্টেডিয়ামে বসে ফুটবল খেলা দেখা, গাড়ি চালানোর মতো দুঃসাহসিক অধিকার পেয়েছেন সৌদি নারীরা। হঠাৎ করে নারী অধিকার বাস্তবায়ন নিয়ে এই উদ্যোগ অনেকের কাছেই সমালোচিত হয়েছে। সৌদি আরবের প্রশাসনিক গঠন পরিবর্তন, দেশের উত্তোলিত তেল রপ্তানি নীতি, নতুন চাকরির পদ সৃষ্টি এবং রক্ষণশীল জীবন পদ্ধতির পরিবর্তনে সে দেশের ক্রাউন প্রিন্স প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ধরা হচ্ছে তারই প্রতিফলন হিসেবে অভ্যন্তরীণ এসব পরিবর্তন এসেছে। প্রথা অনুযায়ী গৃহীত এসব পরিবর্তন সম্পর্কে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রধান দুই মসজিদ এবং গণমাধ্যম। ফ্যাশন শো-এর আয়োজন খুবই সংরক্ষিতভাবে হয়েছে। তবে প্রথমবারের মতো ফ্যাশন উইকের আয়োজন করে সৌদি আরব যে মাইলফলক ছুঁয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যে দেশের নারীরা কয়েক বছর আগেও গাড়ি চালানোর অনুমতি, ফুটবল মাঠে বসে খেলা দেখা কিংবা সেনাবাহিনীতে যোগ  দেওয়ার ব্যাপারগুলো কল্পনাই করতে পারতেন না, তাদের জন্য ফ্যাশন জগতে যুক্ত হওয়া দূর আকাশের কল্পনার মতোই।

এই পাতার আরো খবর
সর্বাধিক পঠিত
up-arrow