Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ২ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১ জুন, ২০১৮ ২৩:৩৭
হিলটি আইটি প্রতিযোগিতা
মালয়েশিয়ায় জুনায়েদ-জুবায়েরের অনন্য অর্জন
হিলটি আইটি প্রতিযোগিতা-২০১৮-তে এই দুই ভাইয়ের দলটি ছিল প্রতিযোগিতার ৬ বছরের ইতিহাসে ফাইনালিস্ট এবং টপ থ্রিতে যাওয়া প্রথম দল, যার সদস্য মাত্র দুজন।
মালয়েশিয়ায় জুনায়েদ-জুবায়েরের অনন্য অর্জন

জুনায়েদ-জুবায়ের দুই ভাই বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে সম্মান বয়ে এনেছেন। আন্তর্জাতিক হিলটি আইটি প্রতিযোগিতায় এ বছর বিশ্বের ৬০টি দেশের ১৪৮টি দল অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে একটি দল ছিল বাংলাদেশের জুনায়েদ-যুবায়েরের। অগমেন্ট রিয়েলিটিভিত্তিক মোবাইল অ্যাপের ওপর কাজ করে এই দুই ভাই প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। লিখেছেন— সাইফ ইমন

 

বিশ্বের নানা প্রান্তে এখন হরহামেশাই শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশি তরুণদের জয়জয়কার। তারা দেশের জন্য বয়ে আনছেন সম্মান। এমনই দুই তরুণ জুনায়েদ এবং জুবায়ের। তারা দুই ভাই। ২০১৩ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় আয়োজিত হয়ে আসছে আন্তর্জাতিক হিলটি আইটি প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় এ বছর বিশ্বের ৬০টি দেশের ১৪৮টি টিম অংশগ্রহণ করে। যার মধ্যে একটি ছিল বাংলাদেশের জুনায়েদ-যুবায়ের। অগমেন্ট রিয়েলিটিভিত্তিক মোবাইল অ্যাপের ওপর কাজ করে এ দুই ভাই প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। এ প্রসঙ্গে জুনায়েদ বলেন, ‘হিলটি আইটি প্রতিযোগিতা-২০১৮-তে আমার আর ভাইয়ার দুজনের এই ছোট দলটি ছিল অন্যদের চেয়ে বেশ আলাদা। হিলটি ৬ বছর ধরে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে এবং তাদের ইতিহাসে আমাদের দলটি ফাইনালিস্ট এবং টপ থ্রি যাওয়া প্রথম। দলটির সদস্য মাত্র দুজন। তাও আবার আপন দুই ভাই; বাংলাদেশ থেকে আসা।

মজার ব্যাপার দুই ভাইই ডিজাইন ব্যাকগ্রাউন্ড  থেকে আসা। অথচ প্রতিযোগিতাটি ছিল আইটি নিয়ে। ডিজাইন ব্যাকগ্রাউন্ড বলে  কেউই প্রথমে তাদের নিয়ে আশা রাখেনি। কিন্তু সবাইকে ভুল প্রমাণ করে ৬০টি দেশ  থেকে আসা মোট ১৪৭টি দলের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন জুনায়েদ-জুবায়ের।

জুবায়ের বলেন, প্রতিযোগিতাটি শুধু আমাদের প্রজেক্টের সফলতার ওপর নির্ভর করেই করা হয়নি। আমরা কীভাবে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ একটি নির্দিষ্টভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি, কীভাবে সমাধানগুলো উপস্থাপন করেছি; এ ছাড়াও আচার-আচরণ, ভদ্রতা ও প্রতিযোগিতার নিয়মগুলো মেনে চলা হচ্ছে কিনা- সবই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমাদের প্রজেক্টটিকে বাস্তবায়ন করা।

প্রজেক্টিতে জুনায়েদ প্রোগ্রামিং ও অ্যাপ ডিজাইনিংয়ের কাজগুলো দেখেছে। আর জুবায়ের প্রজেক্টটির মডেলিং, উপস্থাপন, মডিউল ও ভিডিও উপস্থাপনের কাজগুলো সামলান। প্রতিযোগিতার মঞ্চে শুরুতে কিছুটা ঘাবড়ে যান দুজনই। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্টের হেডরা ছিলেন বিচারক। দুই ভাইয়ের একসঙ্গে উপস্থাপনা করা, কথা বলা, একজন একটু আটকে গেলে আরেকজন সেটির কভার  দেওয়া এবং সব প্রশ্নের যৌক্তিক উত্তর ওই মুহূর্তেই দিতে পারা মোটকথা সব মানদণ্ডেই ভালো করে জুনায়েদ-জুবায়ের জুটি। জুবায়ের বলেন, ‘বেশ কঠিন হলেও আমরা পুরো বিষয়টিকে তাদের কাছে ভালোভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হই আমাদের দুই ভাইয়ের পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে। আর এভাবেই আমরা সমস্যাগুলো একের পর এক সমাধান করতে  পেরেছিলাম।

আমাদের বাবা মো. আবদুল বারী এবং মা মাসুদা আক্তার। চারজনের সুখী পরিবার।’ জুবায়ের বলেন, আমাদের নিয়ে বাবা-মা খুশি। তারা সব সময় আমাদের নিয়ে গর্বিত ছিলেন। সব সময় মাথা উঁচু করে বলতেন, আমাদের ছেলেরা কিছু করবে, আমাদের ছেলেরা কখনো নিরাশ করবে না। প্রতিটি সময় তারা আমাদের পাশে ছায়ার মতোই ছিলেন। আমাদের এতদূর আসার পেছনে তাদের আশা, ভরসা, সব সাহায্য আমাদের যে কতটা শক্ত এবং মোটিভেটেড করেছে সেটা আমরা কখনই বলে প্রকাশ করতে পারব না। প্রথমে আমি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ছিলাম। কিন্তু এক বছর পর বুঝতে পারি  যে, এ বিষয়টি আমার জন্য নয়। আমি চাচ্ছিলাম এমন একটা বিষয় নিয়ে পড়তে যেটাতে আমার প্যাশন আছে, যেটা আমি পড়তে চাই মন থেকে। তখন আমি বিভিন্ন জিনিস খুঁজতে শুরু করলাম। কিছু পার্টটাইম জব, অনলাইনে ঘাঁটাঘাঁটি, নতুন বন্ধু বানানো চলছে, এরই মধ্যে আমার সঙ্গে পরিচয় হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার, নোভা আহমেদের সঙ্গে। উনি আমাকে খুব উৎসাহ  দেন আর আমি এভাবে জানতে পারি যে, আমার মন মতো একটা সাবজেক্ট আছে আর এটা হলো "এনিমেশন অ্যান্ড ভিজুয়াল ইফেক্টস। এই সাবজেক্টটি একেবারেই ভিন্ন ধরনের। এটা আমার জন্য একটি নতুন রাস্তা, নতুন স্বপ্ন ও নতুন জীবন হিসেবে ধরা দেয়। প্রথমবার বলার পর আম্মু-আব্বু কিছুতেই রাজি হননি। কিন্তু সব শেষে আমার আগ্রহ, আমার ছোট ভাই জুনায়েদ এবং নোভা ম্যাডামের কথায় তারা আশ্বাস পান। এভাবেই আমার জন্য এই নতুন পথটি খুলে যায়।

জুনায়েদ তার স্বপ্নের এই প্রজেক্ট সম্পর্কে বলেন, ‘যখন আমার বড় ভাইকে তার স্বপ্নপূরণের উদ্যোগ নিতে দেখি এবং তাকে সফল হতেও দেখি। এই থেকে আমিও উৎসাহ পাই। প্রথম থেকেই সেই ধরাবাধা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছা ছিল না। নিজের পছন্দ হয়, করতে ভালো লাগে এবং একটু আলাদা ধাঁচের সাবজেক্ট নিয়ে আগাতে চাচ্ছিলাম। বড় ভাইয়ার সাহায্য নিয়ে এরপর আমিও চলে যাই মালয়েশিয়া। সেখানে মাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটিতে পড়া শুরু করি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ডিজাইন নিয়ে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি নিয়ে আমার আগে  থেকেই আগ্রহ ছিল। শুধু নতুন বিষয় বলেই নয়, একটা ভালো ভবিষ্যৎ  তৈরির সম্ভাবনা দেখেই এ পথে আগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গত তিন বছরে এটি নিয়ে অনেক পড়ালেখা করেছি। বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়ে নানারকম তথ্য জানার আগ্রহ থেকেই ২০১৭ সালের শেষের দিকে  ফেসবুকে হিলটির এই প্রতিযোগিতা সম্পর্কে জানতে পাই এবং অংশগ্রহণ করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করি আমরা।’

এই পাতার আরো খবর
সর্বাধিক পঠিত
up-arrow