Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৩ জুলাই, ২০১৮ ০১:০৫
ইতিহাসের দোরগোড়ায় দিদিয়ের দেশম
মেজবাহ্-উল-হক
ইতিহাসের দোরগোড়ায় দিদিয়ের দেশম

ফুটবলার এবং কোচ—দ্বৈত ভূমিকায় বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব আছে কেবল দুজনের। তাদের একজন জার্মানির কিংবদন্তি ফ্রেঞ্জ বেকেনবাওয়ার, আরেকজন ব্রাজিলের মারিও জাগালো। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমের সামনেও দারুণ এক সুযোগ। ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে হারাতে পারলেই ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবেন ফরাসি কোচ।

ফ্রান্স মাত্র একবারই বিশ্বকাপ জিতেছিল— ১৯৯৮ সালে। ২০ বছর আগে জিনেদিন জিদানের ক্যারিশমায় প্রথমবারের মতো সোনালি ট্রফিটি স্পর্শ করার সুযোগ পেয়েছিল ফরাসিরা। সেই আসরে ফ্রান্সের অধিনায়ক ছিলেন দিদিয়ের দেশম। এবার তার কোচিংয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স।

খেলোয়াড় এবং কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি প্রথম গড়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি মারিও জাগালো। ১৯৫৮ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে ব্রাজিল। বিশ্বকাপ জয়ী সেই দলের সদস্য ছিলেন জাগালো। ১৯৬২ সালেও বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল, সে দলেও ছিলেন জাগালো। তারপর ১৯৭০ সালে কোচ হিসেবে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় শিরোপা এনে দিয়েছিলেন তিনি। তবে তিন আসরেই ব্রাজিলের সাফল্যের মূল কারিগর ছিলেন কিংবদন্তি পেলে।

১৯৭৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ী জার্মান দলের অধিনায়ক ছিলেন ফ্রেঞ্জ বেকেনবাওয়ার। তার হাত ধরেই বিশ্বকাপের দ্বিতীয় শিরোপা জিতে জার্মানি। এর ঠিক ১৬ বছর পর ইতালিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে কোচ হয়ে যান বেকেনবাওয়ার। সেবারও শিরোপা জেতে জার্মানি। প্রথমে খেলোয়াড় এবং পরে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়ে যায় বেকেনবাওয়ারের।

এবার সময় দিদিয়ের দেশমের। আর মাত্র একটি ম্যাচ। ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ফ্রান্স জিতলেই— খেলোয়াড় এবং কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জিতে জাগালো-বেকেনবাওয়ারের কীর্তি ছুঁয়ে ফেলবেন দেশম।

এবারের আসরে প্রথম থেকেই দুর্দান্ত দাপট দেখিয়েছে দেশমের ফ্রান্স। তবে গ্রুপপর্বে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পেলেও নকআউট পর্বে ফরাসিদের পাড়ি দিতে হয়েছে বন্ধুর পথ। দ্বিতীয় রাউন্ডে তারা দুবারের চ্যাম্পিয়ন মেসির আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের বড় পরীক্ষা দিয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আরেক ল্যাটিন দল উরুগুয়ে। দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও দারুণভাবে উত্তীর্ণ হয় দেশমের দল। তবে সব শেষে ম্যাচে সেমিফাইনালে তাদেরকে রীতিমতো কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে প্রতিবেশী দেশ বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে।

এবারের আসরে টপ ফেবারিট দল ছিল বেলজিয়াম। তারকায় ভরপুর এক দল। প্রতিটি ম্যাচেই তারা অসাধারণ খেলেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে তারা বিদায় করে দিয়েছে বিশ্বকাপ থেকে। দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচেই বেলজিয়ামরা জাপানের বিরুদ্ধে কঠিন পরীক্ষা দিয়েছে। সেই ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পরও শেষ ২০ মিনিটের ক্যারিশমায় জিতেছিল। ইডেন হ্যাজার্ড-রোমেলু লুকাকুর বেলজিয়ামকেই কিনা প্রথম সেমিফাইনালে হারিয়ে দিল ফ্রান্স।

২০১২ সালে একটুর জন্য ইউরোপ সেরা হওয়ার মুকুট পরতে পারেনি ফরাসিরা। ইউরোর ফাইনালে তারা হেরে যায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের কাছে। তবে ইউরো থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্বকাপের আগে নতুন করে দল গঠন করেন কোচ দেশম। বয়স্ক ফুটবলারদের বাদ দেন দল থেকে। শুধুমাত্র তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর ভরসার রাখার জন্য সমালোচিতও হয়েছেন দেশম। কিন্তু কারও কথা শোনেননি। নিজের সিদ্ধান্তে ছিলেন অবিচল। দেশমের সেই তরুণ দলটাই কিনা একের পর এক সব বাধা ডিঙিয়ে উঠে গেল ফাইনালে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া। রবিবার মস্কোতে ক্রোয়েটদের হারাতে পারলেই বিশ্বকাপের দ্বিতীয় শিরোপার জিতবে ফ্রান্স। আর দুই বিশ্বকাপ জয়ী দলে খেলোয়াড় এবং কোচ হিসেবে প্রধান ভূমিকা রাখার জন্য ইতিহাসের মহানায়ক হয়ে যাবেন দিদিয়ের দেশম।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow